Sunday, October 25, 2009

কামড়

২.
"না টুনি, আমি পারবো না!" টোনা ভাঙা গলায় বলে।



মনোযোগী পাঠক লক্ষ্য করে থাকবেন, গল্প শুরু হয়েছে দ্বিতীয় চ্যাপ্টার থেকে। গল্পে পরিষ্কারভাবেই দু'টি চরিত্র দেখতে পাচ্ছি আমরা।

১. টোনা
২. টুনি

টোনা টুনিকে জানাচ্ছে তার অক্ষমতার কথা। কিন্তু কী এমন কাজ, যা একজন টুনির জন্যে একজন টোনা করতে পারবে না?

জানতে হলে, আসুন, আমরা প্রথম চ্যাপ্টারে যাই।




১.

টুনি হাসিমুখে দরজা খুলে দিলো।

টোনা কলিংবেলের ওপর থেকে আঙুল সরিয়ে নার্ভাস একটা হাসি ফুটিয়ে তুললো মুখে। "হাই ... টুনি! কেমন ... মানে ... কেমন আছো?"

টুনি হাসে, ঝিক করে ওঠে তার ঝকঝকে সাদা দাঁত। টোনার বুক গুড়গুড় করে ওঠে।

"কাম অন ইন টোনা!" টুনি দরজা মেলে ধরে। টোনা এবার দেখতে পায়, টুনি একটা ছোটো শর্টস পরে আছে কেবল। টিশার্টটা বড় আঁটো হয়ে চেপে বসে আছে টুনির শরীরে। টোনা বহুকষ্টে টুনির খোলা ঊরু থেকে চোখ সরিয়ে টুনির চোখের দিকে তাকায়। ঝকঝকে চোখ, তাতে কীসের যেন বন্য আমন্ত্রণ।

টোনা ঢোঁক গিলে ভেতরে ঢোকে।

টুনি দরজাটা ধীর গতিতে ভিজিয়ে দেয়, তারপর লীলা লাস্যে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে উঁচু হয়ে ওপরের ছিটকিনিটা লাগিয়ে দেয়। ব্রাসের ছিটকিনিটা মিহি হ্রেষাধ্বনি করে ওঠে, টোনা চমকে উঠে পেছন ফিরে তাকায়।

টুনির খোলা পা-ই তার দৃষ্টি কেড়ে নেয় প্রথমে। পায়ের আঙুলের ওপর তখনও ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে টুনি, তার মসৃণ গোড়ালি এসে মিশে গেছে ক্ষীণ দু'টি পায়ের সাথে, সামান্য স্ফীত হয়ে একজোড়া মসৃণ হাঁটু তারপর স্পর্শ করেছে ঊরুর নিম্নাংশ, নিটোল মসৃণ একজোড়া ঊরু মিশে গেছে টুনির সুপুষ্ট নিতম্বের সাথে, ছোট্ট শর্টস রহস্য আড়াল করার খাতিরে কিছু গোপন করেছে শুধু, কিন্তু টোনার চোখকে পুরোপুরি অতৃপ্তও রাখতে পারছে না সেটা। টুনির ক্ষীণ কটির ওপর থেকে সরে গেছে অবাধ্য টিশার্ট, মসৃণ মাখনরঙা চামড়া বেরিয়ে পড়েছে কিছুটা। টোনার চোখ টুনির পিঠ বেয়ে ঘাড়ের কাছে উঠতেই চমকে ওঠে। দরজায় বুক ঠেকিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে আছে টুনি, মুখে মিষ্টি বুনো হাসি।

টোনার শরীরে কী যেন একটা পরিবর্তন ঘটতে থাকে। সে শরীরের ভর অন্য পায়ে নিয়ে আবার ঢোঁক গেলে।

টুনি এবার ঘুরে দাঁড়ায়। হাত দু'টো কোমরের পেছনে বেঁধে দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়ায় সে। টোনার চোখ নেমে আসে টুনির গলা বেয়ে। বুকের কাছে এসে আটকে যায় তার চোখ। টুনি ব্রা পরেনি।

টুনি ইচ্ছে করেই আরেকটু হেলান দেয় পেছনে, তার সুডৌল বুক যেন টিশার্টের আবরণের আড়াল থেকে আরো উদ্ধত চোখে তাকায় টোনার দিকে।

টোনা পকেট থেকে রুমাল বার করে কপালের ঘাম মোছে, তারপর বহু কষ্টে চোখ তোলে টুনির চোখের দিকে। টুনি আবারও হাসে। মিষ্টি, একটু হিংস্র হাসি। টোনা দেখে, টুনির দাঁতগুলো শুধু সাদাই নয়, বেশ তীক্ষ্ণও বটে।

টুনির চোখে হাসি নেই। শিকারী যেমন করে শিকারকে লক্ষ্য করে, সতর্ক, ঠাণ্ডা চোখে, তেমনই এক আদিম মনোযোগ নিয়ে টুনি চেয়ে আছে টোনার দিকে।

"ইয়ে ... আন্টি বাসায় নেই?" টোনা ভাঙা গলায় প্রশ্ন করে।

টুনি ঠোঁট গোল করে বলে, "না!"

টোনা এদিক সেদিকে তাকায়, হাত দু'টোকে কোথায় রাখবে, বুঝে উঠতে পারে না। "তা ... ইয়ে, মানে ... ।"

"জুতো খোলো।" টুনি আদুরে গলায় বলে।

টোনা চমকে উঠে নিজের জুতোজোড়ার দিকে তাকায়। খুব একটা উজ্জ্বল দেখাচ্ছে না ওগুলোকে। লজ্জায় টোনার গাল বেগুনি হয়ে ওঠে। "শিওর ... মানে, সরি ... খেয়াল হয়নি ...।" সে এক হাঁটু মেঝেতে রেখে অন্য পায়ের জুতোর ফিতেয় হাত রাখে। টুনি দরজা ছেড়ে এগিয়ে আসে টোনার দিকে।

অন্য পায়ের জুতো খুলতে গিয়ে টোনা অনুভব করে, টুনি তার এক পাশে দাঁড়িয়ে কাঁধের ওপর আলতো করে হাত রেখেছে। টোনার শরীর শক্ত হয়ে ওঠে।

জুতো খোলার পর টোনা উঠে দাঁড়ায়। টুনি তার শরীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে। টোনা শ্বাস নিতে গিয়ে টুনির চুলের মিষ্টি একটা গন্ধ পায় নাকে। সে পরবর্তী শ্বাসটা আরো গভীর করে নেয়।

টুনি টোনার বুকের ওপর আলগোছে একটা হাত রেখে বলে, "মোজাও খোলো!"

টোনার বুকটা ধ্বক করে ওঠে। টুনি বোধহয় সেই ধুকধুকানি টের পেয়েই হাতটা মন্থর, সর্পিল গতিতে সরিয়ে নেয়, তার মুখে একই লয়ে এক বিচিত্র হাসি ফুটে ওঠে।

টোনা দেখে, টুনিকে যেন বড় বেশি ফর্সা লাগছে আজ। কিন্তু কেমন যেন প্রাণশূন্য এক ভাব তাতে, তার মুখের স্বাভাবিক রক্তিমাভা যেন আজ এই সন্ধ্যায় পুরোই অনুপস্থিত।

টোনার মুখটা লালচে হয়ে ওঠে, সে আমতা আমতা করে বলে, "মোজা না খুললে হয় না?"

টুনি ভুরু নাচিয়ে বলে, "কেন?"

টোনা বিব্রত মুখে বলে, "মানে ... মোজা তো একটু ... মানে ...।"

টুনি হাসিমুখে বলে, "শু র‌্যাকে দেখো একটা স্প্রে আছে।"

টোনা একটা নিচু টুলে বসে এবার মোজা খুলে ফেলে, তারপর জুতো আর মোজা নিয়ে এগিয়ে যায় শু র‌্যাকের দিকে। স্প্রে করে নিজের পায়ে। টের পায়, তার কানের পেছনে এসে জমা হয়েছে শরীরের সব রক্ত।

"স্লিপার আছে একজোড়া, কালো, পরে এসো।" টুনির কণ্ঠ টুংটাং বেজে ওঠে।

টোনা বলে, "এগুলো পরবো?" একজোড়া কালো স্লিপার বার করে সে।

টুনি খসখসে, মদির কণ্ঠে বলে, "ওগুলোই পরবে শুধু। বাকি সবই খুলতে হবে।"




মনোযোগী পাঠককে উদ্দেশ করে কথা আগে বলেছি, মনোযোগের অভাবে মনোযোগী পাঠিকাদের কিছু বলা হয়নি। আপনারা দুই পক্ষই লক্ষ্য করে থাকবেন, গল্পটা কেমন যেন ইয়ে। তাই আসুন, দেরি না করে প্রথম চ্যাপ্টারের দ্বিতীয় অংশে যাই।




১.খ.

টুনির হাসিটা তার চোখকে স্পর্শ করে না। সে শিকারীর ঠাণ্ডা চোখ মেলে টোনাকে দেখে।

টোনা কুলকুল করে ঘামে। "ইয়ে ... মানে ... তোমাদের বুয়াকে বলো না একটু ঠাণ্ডা পানি দিতে ...।"

টুনি মাথাটা পেছনে হেলিয়ে হাসে। "নেই! বুয়া নেই বাসায়। বুয়া নেই, আম্মু নেই, আব্বু নেই! বাসায় আমরা একা! শুধু তুমি আর আমি। টোনা আর টুনি। অ্যান্ড উইভ গট টু মোর আওয়ারস অন আওয়ার ট্যাব!"

টোনা ঢোঁক গেলে, "কেন ... মানে, কেউ নেই কেন ...?"

টুনি কাঁধ ঝাঁকায়, তার টিশার্টের নিচে শরীরের আরো খানিকটা নড়ে ওঠে ছটফটে বেড়ালের মতো। টোনা টের পায়, তার শরীরের সব রক্ত এখন শিরা-ধমনীর মহাসড়ক বেয়ে যাত্রা করছে এক দুর্গম গন্তব্যে। পৃথিবীর সব পথই যেমন রোমের দিকে ছোটে।

টুনি কোমরে হাত রেখে একটা পা অন্যটার সাথে সমকোণে রেখে দাঁড়ায়।

"ওয়েল, তুমিই না সেদিন ফোনে বলছিলে, আমাকে একা পেলে কী সব করবে?"

টোনা গলা খাঁকারি দেয়। "হ্যাঁ .. কিন্তু ...।"

টুনির কণ্ঠস্বর চাবুকের মতো আছড়ে পড়ে। "কোনো কিন্তু নাই। একা চেয়েছিলে, এখন একা পাচ্ছো। নাউ শো মি হোয়াট ইউভ গট!"

টোনার মনে হয়, তার হাঁটুর কাছটা জেলি দিয়ে তৈরি। সে যেন ঠিক বল পায় না ওখানে।

টুনি এবার এগিয়ে আসে নরম, মন্থর পায়ে। টোনা ঘামতে থাকে।

টুনি টোনার হাত ধরে আলতো করে। "কাম অন! আসো আমার সাথে।"

টোনা ধীর পায়ে এগিয়ে যায় টুনির হাতে বন্দী হয়ে।

টুনির শোবার ঘর একটা করিডোরের শেষ মাথায়। দরজায় আতিফ আসলামের একটা পুরনো পোস্টার সাঁটা। সেটার ওপরে আবার সাইনপেন দিয়ে নানা আঁকিবুঁকি কাটা। করিডোরের বাল্বটা বাইরের ঘরের মতো উজ্জ্বল নয়, চল্লিশ ওয়াটের একটা ল্যাম্প জ্বলছে বৃদ্ধ আগুনের মতো।

টুনি নিজের ঘরের দরজা খুলে একটু রুক্ষ হাতে টোনাকে টেনে আনে ভেতরে। টুনির ঘরে আলো আরো কম, নিবু নিবু একটা আলো জ্বলছে টুনির পড়ার টেবিলের পাশে। টুনির ঘরটা অগোছালো। টেবিলের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা বই, কাগজ, একটা ল্যাপটপ স্লিপ মোডে জ্বলছে আর নিভছে নিঃশব্দ অ্যামবুলেন্সের বীকনের মতো। একটা বড় উফার তার পাশে। আরো কয়েকটা ছোটো ছোটো স্পিকার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ঘরে। টুনির ঘরের দেয়ালে আরো কিছু ছোটো ছোটো পোস্টার, সেই পুরুষদের মধ্যে রজার ফেদেরার বাদে বাকিদের চিনতে পারলো না টোনা। টুনির বিছানায় তিনটা শাঁসালো পুতুল, একটা শিম্পাঞ্জি, একটা পাণ্ডা আর একটা খরগোশ। ঘরের অন্য প্রান্তে একটা বড় আয়না ঝুলছে।

টুনি নিজের ঘরের ছিটকিনিও তুলে দেয় অস্থির হাতে। তারপর টোনাকে ঠেলে ঘরের মাঝে নিয়ে আসে।

"দাঁড়াও এখানে।" টুনি ল্যাপটপের কাছে এগিয়ে যায়। "একটা গান শোনাই তোমাকে।"

টোনা ঘাম মোছে রুমাল দিয়ে। টুনির ঘরে এয়ার কুলার চলছে, হঠাৎ তার সারা শরীর যেন শীতে কেঁপে ওঠে।

টুনি ল্যাপটপে খুটখাট করে। স্লিপ মোড থেকে জেগে উঠে ড্রাগনের মতো চোখ মেলে তাকায় মনিটরটা। টোনা ওয়ালপেপারটা অর্ধেকটা দেখতে পায়, কোনো একটা পোস্টারের ছবি, কীসের ছবি বোঝা দায়।

হঠাৎ ঘর কাঁপিয়ে বেজে ওঠে একটা কণ্ঠস্বর, "টু থ্রি ফোর ... উ হু।" বেইজের ধাক্কায় টোনার শরীরে অ্যাড্রিনালিন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। কেটি টানস্টলের বিগ ব্ল্যাক হর্স অ্যান্ড দ্য চেরি ট্রি ঝনঝন করতে থাকে সমস্ত ঘরে।

Get this widget | Track details | eSnips Social DNA


টুনি ড্রামের কিকের তালে তালে পা ফেলে এগিয়ে আসে টোনার দিকে। টোনা দম বন্ধ করে ফেলে নিজের অজান্তেই। টুনির ঘরের আলোটা ঠিক স্বাভাবিক নয়, কোনো একটা কারণে টুনির টিশার্ট অনেক স্বচ্ছ দেখাচ্ছে এই আলোয়।

টুনি সর্পিল ভঙ্গিতে টোনাকে পাশ কাটিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে তাকে। পিঠে টুনির নরম শরীরের স্পর্শ পেয়ে টোনা চমকে ওঠে হঠাৎ। টুনির শরীরটা এমন ঠাণ্ডা কেন? ঠিক যেন মৃত মানুষের মতো!

টুনি হয়তো আবারও টোনার হঠাৎ চমকে ওঠা হৃৎপিণ্ডের মোর্সকোড পড়ে ফ্যালে, টোনাকে ছেড়ে দিয়ে সে এবার দুই হাত ঘাড়ের কাছে নিয়ে ঘুরপাক খায়। টোনা ঘুরে টুনির মুখোমুখি হয়।

"এইবার শোনো ... লাভার বয় ...," টুনি গানের তালে বলে, "তুমি হচ্ছো আমার বিগ ব্ল্যাক হর্স! আর আমি তোমার চেরিগাছ, ঠিকাছে?"

টোনা সম্মোহিতের মতো টুনির শরীরের বাঁক দেখতে থাকে।

টুনি হাসিমুখে পিছিয়ে যায়। "ফোনে তুমি রোজই কামড় দিতে চাও। এখন কামড়াও দেখি কতো পারো?"

টোনা ঢোঁক গেলে।

টুনি গানের তালে টিশার্টটা আস্তে আস্তে ওপরের দিকে তুলতে থাকে। টোনার মনোযোগ কেড়ে নেয় টুনির নাভি। ফ্যাকাসে সাদা দেখাচ্ছে টুনির পেটের চামড়া, হয়তো এই ঘরের আলোর জন্যেই, সমতল পেটে মৃদু একটা স্ফীতি আছে, তার মাঝে অগভীর নাভি সাইক্লপসের চোখের মতো নিষ্পলক তাকিয়ে আছে যেন টোনার দিকে। টোনা হঠাৎ শিউরে ওঠে, মনে হয়, টুনি যেন মানুষ নয়, অন্যকিছু!

টুনি টোনার ওপর থেকে চোখ সরায়নি এক পলকের জন্যেও। গানের লয় ঠিক রেখে সে এক পাক ঘোরে এবার, তার ঝকঝকে কালো চোখ বিদ্ধ টোনার ওপর।

টিশার্টের পাড় মাধ্যাকর্ষণের বিপরীতে টুনির শরীর অতিক্রম করে, তারপর ছিটকে পড়ে মেঝেতে। টোনা এক বিঘত হাঁ করে তাকিয়ে থাকে টুনির উন্মুক্ত বুকের দিকে। টুনির খয়েরি স্তনবৃন্ত জোড়া সেই মনোযোগ যেন ফিরিয়ে দেয়।

"টোনা!" মিষ্টি গলায় ডাকে টুনি।

টোনা চমকে উঠে টুনির মুখের দিকে তাকায়।

"কোথায় কামড়াতে চাও?" টুনি ডান হাতের তর্জনী বোলায় নিজের নাভির চারপাশে। "এখানে?"

টোনা দরদর ঘামে শুধু।

টুনির আঙুল তার ফ্যাকাসে চামড়ার ওপর একটা অলস গোখরোর মতো ধীর, নিশ্চিত ভঙ্গিতে রয়েসয়ে ওপরে ওঠে। বাম স্তনবৃন্তের ওপর আঙুল রেখে টুনি আবার প্রশ্ন করে, "নাকি এখানে?"



মনোযোগী পাঠকপাঠিকা বুঝতে পারবেন, গল্পের দ্বিতীয় চ্যাপ্টার শুরু হয় তখনই। তবে এখন পরিস্থিতি খুবই টানটান, বেশি বিরতি না নিয়ে পরের চ্যাপ্টারে যাওয়া মঙ্গল। শুভস্য শীঘ্রম।




৩.

টুনির দাঁত ঝিক করে ওঠে ঘরের ম্লান আলোয়। সাদা, ধারালো দাঁতের পাটি। টুনির ঠোঁট জোড়াও টকটকে লাল দেখাচ্ছে এ ঘরে, অথচ বাইরের ঘরে স্নিগ্ধ হালকা একটা শেড বলে মনে হয়েছিলো টোনার কাছে। ব্যাপারটা কী?

"কেন, বীরপুরুষ?" টুনি হাসে নিঃশব্দে। "পারবে না কেন?"

টোনা কপালের ঘাম মোছে।

গানটা আবার শুরু থেকে বেজে ওঠে। লুপ করে রেখেছে টুনি। ড্রামের কিকের লয়কে ছাড়িয়ে টোনা নিজের কানের কাছে রক্তস্রোতের তাল শুনতে পায়। তার হৃৎপিণ্ড বহুগুণিত লয়ে রক্ত পাম্প করে যাচ্ছে গোটা শরীরে।

টুনির হাসিটা এবার তার দৃষ্টি থেকে কিছুটা হিংস্রতা ধার নেয় যেন। "কাপুরুষ!"

টোনা মুখ খোলে, তারপর আবার চুপ করে যায়। টুনিকে বলা কি ঠিক হবে?

"তোমাকে আমি বহুবার ডেকেছি আগে। বলেছি আসো। সকালে কেউ থাকে না বাসায়। আসোনি তুমি। তোমার বাহাদুরি সব ফোনে!"

টোনার হঠাৎ খুব গরম লাগতে শুরু করে। সে অস্থির ভঙ্গিতে গেঞ্জিটা মাথার ওপর দিয়ে গলিয়ে বার করে আনে।

"আচ্ছা!" টুনি কোমরে হাত রেখে একটু সামনে ঝুঁকে গা দুলিয়ে হাসে। "সাহস বাড়তে শুরু করেছে দেখি!"

টোনা বলে, "না, টুনি, তুমি বুঝতে পারছো না ... ।"

টুনি টোনার স্যাণ্ডো গেঞ্জি পরা শরীরে চোখ বুলায়। "নট ব্যাড টোনা। আরেকটু এক্সারসাইজ করলেও তো পারো। ইউ ডু হ্যাভ সাম পোটেনশিয়াল, জানো সেটা?"

টোনা অসহায় ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকায়।

টুনি এগিয়ে এসে টোনার কাঁধে হাত রাখে। "এইবার বলো, ইউ ড্যাম উস! এতদিন যে বাসায় আসতে বললাম, আসোনি কেন?"

টোনার শরীরটা আড়ষ্ট হয়ে যায় টুনির হাতের নিচে। "তোমাকে তো বলেছি টুনি, আমি দিনের বেলা ... দিনের বেলা একটু ব্যস্ত।"

টুনি টোনার একটা হাত তুলে নিয়ে নিজের স্তনের ওপর চেপে ধরে। নরম একটা স্পর্শে টোনার করতল ভরে ওঠে। "তুমি এতোই ব্যস্ত যে এর জন্যেও তোমার সময় হয় না?" টুনি হাসে।

টোনা নির্জীবের মতো টুনির শরীর স্পর্শ করে শুধু। "হ্যাঁ ... মানে, হ্যাঁ ...।"

টুনি ফিসফিস করে বলো, "গো অন ... ফিল দেম!"

টোনা কাঁপা হাত রাখে টুনির শরীরে।

"কী কাজ তোমার সকালে? একটা দিনও তো সকালে দেখা করতে চাও না! লুকিয়ে অন্য মেয়ের সাথে ডেইট মারাও?" টুনি হিসহিস করে বলে।

টোনা বিব্রত ভঙ্গিতে বলে, "না, আমি ... আমি সত্যিই ব্যস্ত ...।"

টুনির ধারালো দাঁতের পাটি বার হয়ে আসে আবার। "ঠিকাছে! নো প্রোবলেমো! এখন তো সন্ধ্যা। সন্ধ্যাই ভালো। আই ফিল অ্যালাইভ আফটার সানসেট!"

টোনা ঢোঁক গেলে।

"কামড় দাও!" টুনির কণ্ঠস্বর আবার চাবুকের মতো আছড়ে পড়ে ঘরে। "দেখি তুমি কেমন কামড়ুজ্জামান!"

টোনা চোখ বোঁজে, তারপর চোখ খুলে ঠাণ্ডা গলায় টুনিকে বলে, "দেখো টুনি ... আমি আসলেই কামড়াতে পারবো না। তারচে আসো আসল কাজ শুরু করি।"

টুনি টোনাকে নিজের শরীরের সাথে চেপে ধরে। "উইইই ... থিংস আর গেটিং হার্ড ফর ইউ ডিয়ার! কেন, কামড়াতে সমস্যা কোথায়? এই যে রোজ রাতে কামড়ের লোভ দেখিয়ে গরম করো আমাকে ... আজকে কামড়াতে গিয়ে তোমার দাঁত কাঁপে কেন?"

টোনা নিজেকে টুনির আলিঙ্গন থেকে ছাড়িয়ে আনে। "সরি টুনি ... আমি তোমাকে বলতে পারবো না।" হাত বাড়িয়ে টুনির শর্টসের ইলাস্টিকের ভেতর আঙুল ঢোকায় টোনা।

"নট সো ফ্যাস্ট টোনা!" টুনির চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে। "আই ওয়ান্ট সাম নিবলস!"

টোনা মাথা নাড়ে। "না, টুনি ... পারবো না!"

টুনি পিছিয়ে আসে এক পা, তারপর জ্বলন্ত চোখে টোনার দিকে তাকিয়ে বলে, "কেন? পারবা না কেন?"

টোনা কিছু বলে না।

টুনি হিসিয়ে ওঠে, "ফ্যাগট কোথাকার!"

টোনার চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে, একটানে সে স্যাণ্ডো গেঞ্জি খুলে ফেলে। তারপর অস্বাভাবিক ক্ষিপ্রতায় খুলে ফেলে ট্রাউজার্স আর আন্ডি। নগ্ন শরীর সামনে ঝুঁকিয়ে সে শক্ত হাতে টুনির বাহু আঁকড়ে ধরে। "সত্যি শুনতে চাও, কেন তোমাকে কামড়াতে পারবো না?"

টুনি ঢলে পড়ে টোনার হাতে। "হুঁ। চাই। টেল মি অল অ্যাবাউট ইট।" আদুরে গলায় বলে সে।

টোনা ফিসফিস করে বলে, "আমি তোমাকে কামড়াতে পারবো না, কারণ আমি একজন ভ্যাম্পায়ার!"

টুনি হেসে ফেলে, ঘরের ম্লান আলোয় ঝকঝক করে ওঠে তার চোখা দাঁতগুলি। "বটে? ভ্যাম্পায়ার? তুমি? হা হা হা! টোনা ... তুমি পারোও বটে!"

টোনা হাসে না, তীব্র চোখে তাকায় টুনির দিকে।

টুনির মুখের হাসিটা সামান্য ম্লান হয়। টোনার হাত এত ঠাণ্ডা কেন?

"প্রমাণ চাও?" টোনা মৃদু গলায় বলে।

টুনি বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে মাথা নাড়ে। প্রমাণ চায় সে।

টোনা পলকের মধ্যে টুনিকে এক হাতে শূন্যে তুলে এনে হাজির করে ঘরের এক প্রান্তে বড় আয়নাটার সামনে। ঝকঝকে কাঁচে সেখানে প্রতিফলন পড়েছে টুনির অর্ধনগ্ন শরীরের। টোনাকে সেখানে দেখা যাচ্ছে না, যদিও টুনির ঠিক পাশেই সে দাঁড়িয়ে।

টোনা ভুদাই হতে পারে, মিথ্যুক নয়।





সিকোয়েল পড়ুন এখানে

1 comment:

  1. শেশ এ এস এ যদি বলত tuni আমার দাত নাই তখন বেশি ভাল লাগত।

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।