Saturday, October 03, 2009

উপন্যাস লেখা


আমি খুব সংকোচ আর সংশয় নিয়ে একটা উপন্যাস লেখায় হাত দিয়েছি। কাজটা শুরু করে মনে হয়েছে, রবাহূতের মতো অনধিকার প্রবেশ করছি কোনো গম্ভীর অট্টালিকায়। ওখানে আমাকে মানায় না।

আমার দৌড় যে ছোটগল্প পর্যন্ত, সে-ও আমি অনুভব করি। ঐ উপন্যাস লিখতে বসে আমার মাথায় গল্প ঘোরে। তাদের শাসন করতে যেয়ে আমার উপন্যাস আর বাড়ে না। রুগ্ন শিশুর মতো সে পড়ে আছে আমার খসড়া খাতার বারান্দায়, নিচে মাঠে হাসছে খেলছে আমার গল্পগুলি।

চরিত্রের নাম নিয়ে একটা সমস্যায় পড়ে যাই বারবার, মাথায় আসতে চায় না কোনো নাম। কীবোর্ডে আঙুল রাখার পর একটি চরিত্রের নাম বেরিয়ে আসে আপনাআপনি, রাশেদ। রাশেদ আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু, তার সাথে যোগাযোগ নেই দীর্ঘদিন, স্ত্রীপুত্রক্যারিয়ার নিয়ে মগ্ন রাশেদকে ফোন করে কি জানাবো, দোস্ত, আমি একটা উপন্যাস লিখছি, তোর নামটা ব্যবহার করতে চাই একটা চরিত্রে, ঠিকাছে তো? তারপর থেমে যাই, কারণ উপন্যাস এগোয় না। সে একটা শিশু, একদিন সে খেলতে গিয়েছিলো মাঠে, সেখানে ল্যান্ডমাইনে তার একটা পা উড়ে গেছে, তার এখন একটা পা, বদলে সে পেয়েছে একটা ক্রাচ, সে আর হাঁটে না, সে খোঁড়াতেও চায় না, তাই সে দিনমান বসে থাকে দেয়ালে হেলান দিয়ে, রাস্তা দিয়ে হাঁটছে ছুটছে আমার গল্পেরা।

উপন্যাসের শুরু রাশেদের হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়া নিয়ে। রাশেদের সাথে জেগে ওঠে উপন্যাসটা। ঘুম ভেঙে রাশেদ নিজেকে খোঁজে, নিজের অবয়বটুকু চিনতে চায়, আর কিমাশ্চর্যম, উপন্যাসটাও সে চেষ্টাই করে। তাকে আরেকটু কায়া দেবার জন্যে প্রয়োজন হয় একটি নারী চরিত্রের, যাকে রাশেদ ফোন করবে অকালে ভেঙে যাওয়া ঘুমের রাতে, যে রাতে ঘুমায় সবকিছু, ঘুমায় তার হোটেল, ঘুমায় যশোর শহর, শুধু ফোনের নাগালের অপরপ্রান্তে জাগ্রত থাকে একটি যুবতী। তার নাম কী রাখা যায়? মাথায় অনেক নাম আসে, সাথে আসে দ্বৈরথ। ক'জনকে ফোন করে জিজ্ঞেস করবো? ক'জনকে ফোন করার উপায় আছে আর?

সুজন চৌধুরীকে টোকা দিই গুগলটকে। বলি, একটা মেয়ের নাম দ্যান দাদা। সুজন্দা উদার, বলেন, উলফাত আরা রাখো।

খটকা লাগে। রাশেদের ফোনের ওপাশে জেগে থাকা মিষ্টি মেয়েটার নাম উলফাত আরা রাখবো? ভাবি। তারপর মনে হয়, সে বড় অন্যায় হবে।

আবারও টোকা দিই সুজন্দাকে। বুঝিয়ে বলি, মেয়েটা অনেক মিষ্টি। উলফাত আরা সে হতেই পারে না।

সুজন্দা বলেন, উম্মে কুলসুম?

বেজায় বিরক্ত হই। বুঝিয়ে বলি, মেয়েটা দেশেই থাকে, অস্ট্রেলিয়া নয়। উম্মে কুলসুমরা লুপ্ত হয়েছে রাশেদের জগত থেকে। রাশেদ যাকে ফোন করবে, তার নামটা হওয়া উচিত এমন, যার নাম ঘন রাতে ফোন করে উচ্চারণ করতে ভালো লাগে। উম্মে কুলসুম ভোরের অ্যালার্মের মতো।

সুজন্দা এবার ভেবেচিন্তে বাতলে দ্যান, শৈলী।

শৈলী? আহ। ভালো লাগে নামটা। নাম্বার জানা থাকলে রাশেদের পেছনে লাথি মেরে সরিয়ে আমিই কল দিতাম। কিন্তু জট খুলে যায় তখনকার মতো। রাশেদ ফোন হাতে নিয়ে কল দেয় শৈলীকে।

এরপর কিছুটা এগোয় আমার উপন্যাস। তারপর আবার সে থেমে পড়ে। স্কুল ছুটি, ওর বাবা ওকে নিতে আসেনি এখনো। চারদিকে শোরগোল করে ঘরে ফিরছে আমার গল্পরা, উপন্যাসটা দরজার পাশে চুপ করে বসে আছে একটা জারুল গাছের নিচে।

শেষ করবো, নিশ্চয়ই শেষ করবো একদিন, তারপর প্রকাশায়তনের প্রকাশকের কাছে নিয়ে যাবো ওকে। পারবো, নিশ্চয়ই পারবো।


[]


5 comments:

  1. প্রতীক্ষায় থাকলাম...

    ReplyDelete
  2. প্রতীক্ষায় থাকলাম...

    ReplyDelete
  3. প্রতীক্ষায় থাকলাম...

    ReplyDelete
  4. লেখাটা শেষ করেন ঃ)

    ReplyDelete
  5. নিলয় নন্দী13 December, 2011

    আপনার গল্পের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা রয়েছে।
    শবর উপন্যাসটা খুঁজে পাইনি। কোথায় পাওয়া যেতে পারে?
    লেখাটা শেষ করুন। অপেক্ষায় আছি।

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।