Tuesday, September 29, 2009

দুখী গণ্ডারনামা ০৪-খ

ক্যাম্নেকী বুঝতে হলে পড়ুন দুখী গণ্ডারনামা ০১দুখী গণ্ডারনামা ০৪-ক




jamalu




চিড়িয়াখানায় দাঁতাল বাঁশখোরের দিন মন্দ কাটছিলো না। সেই কবে ফ্যাসিবাদী নোয়ার নৌকায় এমন দিন এসেছিলো তার, প্রচুর নিরীহ জীবকে খোঁচানোর সুযোগ এসেছিলো, পাপিষ্ট নোয়ার ফ্যাসিবাদী আচরণের কারণে সে মওকা তার হাতছাড়া হয়েছিলো। কিন্তু এবার খোদ বন ও পশুসম্পদমন্ত্রী তাকে দাওয়াত দিয়ে এনেছে চিড়িয়াখানায়, এবার একদম মন খুলে উংলিবাজি করে যাবে সে।

পাশের খাঁচাটা বাঘের। সেখানে চুপচাপ শুয়ে আছে বাঘ গর্জন। দাঁতাল এগিয়ে গিয়ে গর্জনের লেজ তুলে পশ্চাদ্দেশে তার ০.৩৮ ক্যালিবারের মধ্যমাখানা প্রবিষ্ট করে। গর্জন ঘ্যাঁয়াও করে পেল্লায় এক গর্জন ছেড়ে ঘুরে দাঁড়ায়। তারপর ধমকায় দাঁতালকে, "তোর তো সাহস কম না! টাইগারের পোঁদে আঙুল চালাস?"

দাঁতাল হাসে দাঁত বার করে। তারপর বলে, "এক্টা গল্প শুনবা?"

গর্জন ঘুরে বসে। "কীসের গল্প? হরিণের?"

দাঁতাল পকেট থেকে একটা দাঁত খিলাল বার করে দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে বলে, "গল্পে একটা হরিণ আছে, কিন্তু গল্পটা হরিণের না। শোনো তাহলে বলি। ফ্যাসিবাদী নোয়া আমারে অন্যায়ভাবে নৌকা থিকা বাইর কৈরা দিসিলো ...।"

মিনিট পাঁচেক গল্প বকে যাবার পর গর্জন হড়হড় করে বমি করে দেয়। তারপর বলে, "মাপ চাই! চুপ মারো! আর গল্প শুনতে চাই না!"

দাঁতাল হাসে। তারপর বলে, "শোনোই না! তারপর আমি নোয়ারে কৈলাম, ফ্যাসিবাদী মনোভাব লৈয়া নৌকা চালান যায় না ওহে ফ্যাসিবাদী নোয়া ...!"

গর্জন খাঁচায় মাথা কুটতে থাকে।

দাঁতাল গল্প বলে যায়।

বাঘের জান বিড়ালের মতো সংখ্যায় নয়টা না। অচিরেই গর্জনের শরীরে খিঁচুনি থেমে যায়, সে চিৎপাত হয়ে পড়ে থাকে মেঝেতে। দাঁতাল ধীরেসুস্থে উঠে হাই তোলে, আড়মোড়া ভাঙে।

চিড়িয়াখানার কর্মীরা ছুটে আসে। "মইরা গেসে! গর্জন মইরা গেসে!"

খুব শোরগোল হয়।

সেদিন সন্ধ্যায় দাঁতাল উদভ্রান্তের মতো এসে হাজির আজিজের চিপায়। তার চোখে আগুন।

একজন শুধায়, "বাঁশখোর্দা, কী হৈছে?"

দাঁতাল হুঙ্কার দিয়ে বলে, "একটা বাঘের পশ্চাতে সামান্য এক্টুখানি আংগুল ঢুকাইছিলাম, আর এক্টু গল্প শুনাইছিলাম, এই অপরাধে ফ্যাসিবাদী চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আমারে গণ্ডারের খাঁচা থিকা অন্যায়ভাবে, হ হ অন্যায়ভাবে, আই রিপীট অন্যায়ভাবে বাইর কৈরা দিছে ...!"


[]

2 comments:

  1. হায়রে দাঁতাল!

    ReplyDelete
  2. গন্ডারের খাঁচা থিকাও বাইর হইয়া গেল। মহা উত্তেজনা অনুভব করতেসি, এরপরে কই যাবে আমাগো বাশখোর্দা ;)

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।