Thursday, September 24, 2009

দুখী গণ্ডারনামা ০২

ক্যাম্নেকী বুঝতে হলে পড়ুন দুখী গণ্ডারনামা ০১




jamalu




১.
এক এলিয়েনবাহিনী আক্রমণ করেছে পৃথিবীকে। সারা পৃথিবী তাদের তাণ্ডবে অস্থির।

অদ্ভুত এই এলিয়েনদের অস্ত্র। লেজারের সাথে জীবাণু ঘুঁটে বানানো তাদের উইপনস অব ম্যাস ডেস্ট্রাকশন! লেজারে চড়ে শত্রুর চামড়া ভেদ করে ঢুকে পড়ে জীবাণুগুলি, তারপর ভেতরটা একেবারে চেটেপুটে খেয়ে সাফ করে ফেলে কিছুক্ষণের মধ্যেই। শত্রু মাটিতে পড়ে তড়পাতে থাকে, তারপর পটল তোলে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা তার মেরিন কোরকে পাঠান এই বদখদ এলিয়েনদের শায়েস্তা করতে। মেরিন বাহিনী একটা ফ্রিগেটে চড়ে নামে ফরাসী উপকূলে। আইফেল টাওয়ার দখল করে বসে আছে এলিয়েনগুলি।

এলিয়েন সম্রাট মেরিন কোরকে দূর থেকে দেখে হেসেই খুন। সে হুকুম দ্যায়, চালাও গোলিয়াঁ। মস্ত এক জীবাণু লেজারের কামান গর্জে ওঠে, মেরিন সেনাদের মুখের চামড়া পোঁদের চামড়া ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়ে সেই জীবাণু, তারপর একদম ফর্দাফাই করে দেয় পুরো বাহিনীকে!

এভাবে একে একে খতম হয় রুশ সেনারা, চৈনিক সেনারা, ইসরায়েলি সেনারা, হিজবুল্লাহ গেরিলারা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভয়ের চোটে মাটির নিচের এক গর্তে বসে জরুরি মিটিং ডাকেন।

"আমি প্রস্তাব করছি, ড়্যাম্বোকে পাঠানো হৌক এদের খতম করার জন্য!" ওবামা বলেন।

এক জেনারেল তাঁর কানে কানে বলেন, মিস্টার প্রেসিডেন্ট, ওটা এক্টা সিনেমা। ড়্যাম্বো বলতে কেউ নেই!

ওবামা বলেন, "তাহলে টার্মিনেটর?"

জেনারেল মাথা নাড়েন। ওটাও সিনেমা।

ওবামা এক এক করে চাক নরিস, স্টিভেন সিগাল ইত্যাদি আরো সব মারদাঙ্গা লুকজনের নাম বলেন। কিন্তু তারা অভিনেতা মাত্র।

কনফারেন্স টেবিলের এক কোণায় বসা এক বুড়ো অ্যাডমিরাল আচমকা মাথা তুলে চাপা গলায় বলেন, "আছে, উপায় আছে!"

ওবামা বলেন, "কী?"

অ্যাডমিরাল বলেন, "বাংলাদেশে এক লুক আছে, যে এই এলিয়েনদের মেরে বিনাশ করতে পারবে!"

ওবামা বলেন, "কে সে? কী তার নাম?"

অ্যাডমিরাল বলেন, "দাঁতাল! দাঁতাল বাঁশখোর!"



২.
বাংলাদেশ সেনাপ্রধান জেনারেল গুলজার উ গুলজার ফোনে সব কথা মন দিয়ে শোনেন। তারপর বলেন, "ঠিকাছে মিস্টার প্রেসিডেন্ট। তাকে আমরা প্যাকেট করে পাঠিয়ে দিচ্ছি। তবে ...।"

ওবামা বলেন, "তুমার তো সাহস কম না জেনারেল! ইউনাইটেড ফাকিং স্টেইটস অব অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্টকে তুমি "তবে" বলো? আর কোনো কথা শুনতে চাই না! পত্রপাঠ তাকে প্যাক করে পাঠাও, নাহলে ...!

জেনারেল গুলজার বিরক্ত হয়ে বলেন, "ইয়েস স্যার!"

তার এডিসি কর্ণেল সরফরাজ এ সরফরাজ বলেন, "স্যার! কী করবো স্যার?"

জেনারেল গুলজার বলেন, "কী আর করবা? উপকার করতে চাইছিলাম হালার ভাইয়ের, শুনতেই চায় না! দাও এমনেই পাঠায়া!"

কর্ণেল সরফরাজ বলে, "মুখে টেপ লাগাবো না স্যার?"

জেনারেল গুলজার বলেন, "দরকার নাই! ওদের ঝামেলা ওরা বুঝুকগা!"


৩.
দাঁতাল বাঁশখোর আজিজ সুপারমার্কেটের একটা গেঞ্জির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে রাজাউজির মারছিলো, কবে সে জাহাঙ্গীরজঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঁশঝাড়ে একটা বাঁশ কেটে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার নিধন করেছিলো, এবং সেটির পায়া দিয়ে নেহারি আর পরোটা খেয়েছিলো রাতে, এমন সময় জলপাই রঙের এক ট্রাক এসে থামে। মুখে কালি মাখা কয়েকজন মিশমিশে কমাণ্ডো এসে চোখের পলকে তাকে এক্টা বস্তায় ভরে উল্কাবেগে ছুটে চলে এয়ারপোর্টের দিকে।


৪.
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা বিরক্তি আর বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকেন দাঁতাল বাঁশখোরের দিকে। এ-ই সেই সুপারম্যান, যার ওপর নির্ভর করছে বিশ্বের ভবিষ্যত? এ তো মনুষ্য পদবাচ্যই নয়!

দাঁতার বাঁশখোর ঘাড় ঘুরিয়ে হোয়াইট হাউসের অফিস দেখতে থাকে।

"মিস্টার বাঁশখোর! আপনার ওপরই নির্ভর করছে পৃথিবীর ভবিষ্যত!" ওবামা গমগম করে বলেন। "এই পরিস্থিতি চলতে পারে না! চেইঞ্জ উই নিড!"

দাঁতাল বলে, "কোন পৃথিবী? প্রথম বিশ্ব না তৃতীয় বিশ্ব? কোন ভবিষ্যত? নিকট না দূর? পরিস্থিতি কারে বলে? চলা কারে কয়? কীসের চেইঞ্জ, কার নিড, উই কারা?"

প্রেসিডেন্টের মাথাটা চক্কর দিয়ে ওঠে। তিনি বলেন, "আপনাকে তো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে! এক ভীষণ এলিয়েন ...!"

দাঁতাল বলে, "হ শুঞ্ছি বটে!"

প্রেসিডেন্ট বলেন, "তা আপনি কী করে এমন একজন সুপারম্যানে পরিণত হলেন?"

দাঁতাল বলে, "সে এক লম্বা কাহিনী! আমারে নোয়ার নৌকা থিকা অন্যায়ভাবে বাইর কইরা দেয়া হইসে!"

এরপর সে বকে যায়। পাঁচমিনিট শোনার পর ওবামা দু'হাতে কান চেপে ধরেন। বলেন, "প্লিজ! চুপ করুন! যা চান দেয়া হবে!"

দাঁতাল বলে, "আরে বাকিটা আগে শোনেন না! তারপর নোয়া আমারে কইলো, খাড়া গর্দভ, তোরে যদি আজকে পোন্দাইয়া শ্যাষ না কর্ছি ...!"

ওবামা আবার দু'হাতে কান চেপে ধরে বলেন, "না প্লিজ না! থামেন! চুপ!"

দাঁতাল একটু থামে।

প্রেসিডেন্ট কান চেপে ধরে রেখেই বলেন, "তা বলেন আপনার কী অস্ত্র কয়টা করে চাই? মেশিনগান? অ্যান্টিট্যাঙ্ক রকেটলঞ্চার? স্টেলথ চপার? ড্রোন স্কোয়াড্রন?"

দাঁতাল মৃদু হাসে। তারপর বলে, "আগে শোনেনই না নোয়ারে তারপর কী কইলাম ...!"

প্রেসিডেন্ট আবার দু'হাতে কান চেপে ধরে বলেন, "না না না না! কিচ্ছু শুনবো না এসব! গ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্না ...।"

দাঁতাল তার ময়লা বিশাল দাঁত দুইটা বার করে হেসে বলে, "এইসব অস্ত্র কিচ্ছু লাগবে না আমার! আপনার টেবিল থেকে কয়েকটা দাঁতখিলাল দ্যান আমারে!"

প্রেসিডেন্ট কান থেকে হাত নামিয়ে দাঁতখিলালের কৌটার দিকে হাত বাড়ান।

অমনি দাঁতাল সোৎসাহে বলা শুরু করে, "আমি কইলাম, ওরে ফ্যাসিবাদী নোয়া, আমার জরায়ু দিয়া ফ্যাসিবাদ রপ্তানি করবি? তা হবে না, তা হবে না ...!"

ওবামা আবার কান চেপে ধরে মাটিতে গড়াতে থাকেন। "না না না না না! শুনবো না এসব! দাঁতখিলাল নিয়ে বিদায় হও!"

দাঁতাল হাসতে হাসতে দাঁতখিলালের কৌটাটা পকেটে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। ওবামা ছুটে গিয়ে দরজার খিল আটকে কপাটে ঠেস দিয়ে হাঁপাতে থাকেন।

দরজায় আবার টোকা পড়ে। নক নক।

ওবামা বলেন, কে ওখানে?

দাঁতাল বলে, আমি, বাঁশখোর।

ওবামা বলেন, কী চাও?

দাঁতাল বলে, একটা কথা বলতে ভুলে গেছিলাম।

ওবামা দরজা খুলে সন্তর্পণে উঁকি দিয়ে বলেন, "কী?"

দাঁতাল বলে, "তারপর নোয়া কইলো, তোর মতো গর্দভরে লাত্থি দিয়া নৌকা থিকা খেদানির কাম, ব্যাটা উল্লুক! আমি কইলাম ...।"

ওবামা অজ্ঞান হয়ে যান।



৫.
একটা হেলিকপ্টার চুপি চুপি গোপনে আইফেল টাওয়ারের কাছে নামিয়ে দেয় দাঁতালকে।

দাঁতাল পাইলটকে বলে, "এক্টা কথা ছিলো।"

পাইলট গম্ভীরমুখে বলে, "আমার উপর পরিষ্কার নির্দেশ আছে, তোমার কোনো কথা আমার শোনা চলবে না।"

দাঁতাল বলে, "আরে না। জরুরি কথা।"

পাইলট বলে, "তোমার কথা আমি শুনবো কীভাবে? হেলিকপ্টারের পাখার আওয়াজে কোনো কিচ্ছু শোনার উপায় নাই। তোমার যা বলার তুমি এলিয়েনগুলিরে গিয়া বলো!"

দাঁতাল বলে, "আহ শোনোই না! পাখাটা বন্ধ করো এক্টু।"

পাইলট পাখা বন্ধ করে।

দাঁতাল বলে, "এইবার কান থেকে ছিপি দুইটা বের করো।"

পাইলট অনিচ্ছাসত্ত্বেও ছিপি দুইটা খোলে।

দাঁতাল বলে, "তারপর হইছে কি, আমারে তো নোয়া অন্যায়ভাবে নৌকা থিকা বাইর কইরা দিলো ...।"

পাইলট চোখের পলকে কানে ছিপি এঁটে হেলিকপ্টার চালু করে আকাশে উড়াল দেয়। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারে না, এক ভীষণ লেজার এসে গ্রাস করে হেলিকপ্টারটাকে। কিছুক্ষণ পর সেটা আছড়ে পড়ে মাটিতে।

দাঁতাল বাঁশখোর তার চে গেভারার ছবি আঁকা গেঞ্জিটা ঠিকঠাক করে এগিয়ে যায় গটগটিয়ে।

এলিয়েনরা তাকে দেখেই লেজার মারে। কিন্তু কোনো লাভ হয় না। কারণ দাঁতালের গায়ে ব্রন্টোসরাসের মতো মোটা চামড়া। আগুনে তা পোড়ে না। জলে তা ভেজে না। ণৈণং ছিন্দান্তি শস্ত্রাণি। জীবাণুগুলি তার চামড়ায় বাড়ি খেয়ে পটল তোলে।

এলিয়েন সম্রাটের বুকটা দুরুদুরু করে ওঠে। কে এই সুপারম্যান?

দাঁতাল এগিয়ে গিয়ে একটা ঢিপির ওপর বসে। এলিয়েন সম্রাট এক্টা লেজার পিস্তল নিয়ে কম্পিত পায়ে এগিয়ে যায় তার দিকে।

"কে তুমি?" পিস্তল উঁচিয়ে কাঁপা গলায় শুধায় সে।

দাঁতাল তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে তাকে দেখে, তারপর বলে। "খোর। বাঁশখোর।"

এলিয়েন সম্রাট কিছু বুঝতে না পেরে জুলজুলিয়ে তাকিয়ে থাকে।

দাঁতাল তার হোলস্টার থেকে ঝট করে বার করে একটা দাঁতখিলাল।

সম্রাট চমকে উঠে এলোপাতাড়ি লেজার মারে, কিন্তু দাঁতালের কিছুই হয় না।

খিলাল দিয়ে ময়লা হলুদ দাঁত দুইটা খোঁচাতে খোঁচাতে দাঁতাল বলে, "এক্টা গল্প শুনবা?"

এলিয়েন সম্রাট কাঁপতে কাঁপতে বলে, "কী গল্প?"

এইবার এক্টা হ্যাণ্ডমাইক নিয়ে দাঁতাল বলতে থাকে, "ফ্যাসিবাদী নোয়া আমারে অন্যায়ভাবে নৌকা থিকা বাইর কইরা দিসে ...!"

গল্প চলতে থাকে। পাঁচ মিনিট পর এলিয়েন সম্রাট নিজের কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করে।

দশ মিনিট পর কানে আঙুল ঢোকাতে গিয়ে শর্টসার্কিট হয়ে মৃত্যুবরণ করে বেশিরভাগ এলিয়েন। কয়েকটা এলিয়েন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে নরম্যান্ডি উপকূলে ডুবে মরে। হারাকিরি করে এলিয়েনদের বউগুলি। একটা বাচ্চা এলিয়েনকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দত্তক নেয়।

এলিয়েনদের উপসেনাপ্রধান, তাদের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ যোদ্ধা, কোনোমতে হামাগুড়ি দিয়ে এসে দাঁতালের হাঁটু চেপে ধরে। কাশতে কাশতে তার মুখ দিয়ে রক্ত ছলকে পড়ে। "প্লিজ! থামো! ... আমি সারেন্ডার করছি! আর না!"

দাঁতালের মনটা ভিজে যায়। চোখে জল আসে তার। তারপর পকেট থেকে দুর্গন্ধী রুমাল বার করে এলিয়েন পালোয়ানের কষ থেকে রক্ত মুছে দেয়। তার কাঁধে হাত রেখে বলে, "ঠিক তোমার মতোই অবস্থা হৈছিলো ফ্যাসিবাদী নোয়ার, যখন তারে জিগাইছিলাম, এই ফ্যাসিবাদী মনোভাব লৈয়া তুমি আমার জরায়ু ব্যবহার করতে পারবা, এই আশা তুমি অবচেতনে লালন করন ঘটন হওয়ায় ক্যাম্নে ...!"

এলিয়েন পালোয়ান কাঁপতে কাঁপতে পড়ে যায়। তারপর মরে যায়।


৬.
দূর থেকে বাইনোকুলার দিয়ে এই দৃশ্য দেখে এক মার্কিন সেনাকর্তা ওয়্যারলেস তুলে বলে, "মিশন অ্যাকমপ্লিশড! এখন কী করবো স্যার?"

ওবামা বলেন, "ক্লোরোফরম করে আজিজ মার্কেটে ছেড়ে দিয়ে আসো বলদাটাকে।"



[]

4 comments:

  1. "মস্ত এক জীবাণু লেজারের কামান গর্জে ওঠে, মেরিন সেনাদের মুখের চামড়া পোঁদের চামড়া ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়ে সেই জীবাণু, তারপর একদম ফর্দাফাই করে দেয় পুরো বাহিনীকে!"

    পুরাই জটিলস্য জটিল।

    ReplyDelete
  2. হা হা হা হা হা হা হা হা হা হা হা হা

    দাঁতালের অমৃতবাণী অনেকদিন শোনা হয় না।

    ReplyDelete
  3. আপনার রসবোধের প্রশংসা না করে পারছি না। ধন্যবাদ। লেখাটি পড়ে বেশ মজা পেয়েছি।

    aR
    www.banglahacks.com

    ReplyDelete
  4. ওরে খোদা রে... এইসব কী!!!
    পইড়া ব্যাপক পুলকিত হইছি...

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।