Monday, September 21, 2009

আজ ঈদ, মদিনার ঘরে ঘরে আনন্দ, লেকিন ...


নজমুল আলবাব লুক্টাকে আমি ঠিক ভালু পাই না। সেই সামুযুগ থিকাই কেমুন কেমুন যেন লাগে তাকে। সাম্নাসাম্নি মুলাকাতের সুযোগ ঘটে নাই, নাহলে লুক্টা কত বড় পগেয়া পাজি, সেটা নিরূপণের আরো সরেস সুযোগ মিলতো। কিন্তু মোটা দাগের মাপে বলতে হয়, লুক্টা সুবিধার্না।

গুটক (অর্থাৎ গুগলটক, পৃথিবীর অন্যান্য মহৎ জিনিসের মতো গুগলের শুরুটাও গু দিয়ে)-এ এই দুরাচার আলবাবের সাথে যোগাযোগ দীর্ঘদিন থেকেই। প্রায়শই নানা বেয়াড়া প্রশ্ন করে লুক্টা আমাকে পেইন দিয়ে থাকে। মাঝে মাঝে ভাবি, দেই বেটাকে মাউজের খোঁচায় ব্লক করে, কিন্তু পরে সামলে নেই। দম নেই। দম ছাড়ি। Cooldownasana বা কুলডাউনাসন করি। গুটকে আলবাব তাই রয়ে যান। আর নানা আজেবাজে আলাপ্সালাপ করেন।

বিচিত্র সব কুপ্রশ্ন তার মনে। একদিন এসে বললেন, আপনার কী মনে হয়, আমার নিক্টা পাল্টাইয়া নজমিন আলবাব করে দিলে কি হিট বাড়বে? মেয়ে ভেবে লুল্পাঠকরা ঝাঁপাইয়া পড়বে?

বাকরুদ্ধ হয়ে যাই তার পেজোমি দেখে।

ঐদিন যেমন আচম্বিতে তিনি এসে আমাকে ধরলেন। "আপনি তো সিলেটে ছিলেন অনেকদিন, তাই না?"

বছর আড়াই আমাকে আবাদী-বেঙ্গলি প্রভৃতি বিশেষণে বিশেষ আপ্যায়িত করার পর কেন এই প্রশ্ন, ঠাহর করতে পারি না। বলি, তা ছিলাম।

তিনি বলেন, "সিলেটের সংস্কৃতি সম্পর্কে আপনার কী ধারণা?"

আমি মন উজাড় করে বলি, আমার কী ধারণা। তিনি চুপচাপ শোনেন।

কথা শেষ হবার পর তিনি বলেন, কামে যাই। খুদাপেজ।

বুঝি না তার হালচাল।

কয়েকদিন বাদেই তিনি আবার উদয় হন। "আপনি কি বিবাহ করবেন নাকি?"

একটু লজ্জা পাই। গলা খাঁকরাই। বলি, মমমমম, কেন বলুন তো?

তিনি বলেন, আপনার ইয়ারদোস্তরা তো সবাই বিবাহের জন্য বেয়াকুল

আমি উদাস হয়ে যাই। বলি, দেখুন, জীবনটা আসলে বড় বিচিত্র, বড় ছলনাময়, বড় ইয়ে ...।

তিনি বলেন, কামের কথা কন ভাই। বিবাহ করবেন কি করবেন না?

আমি বলি, আমি বিবাহ করলে আপনার কি কোনো সুবিধা হয়?

তিনি বলেন, হাঁ হয়। সিলেটের জামাইকূলে একটি সৎ সজ্জন সদাচারী সদালাপী পাত্র যোগ করার পূণ্য হয়। আমরা তো পারলাম না তেমন কিছু। আপনাকে দিয়ে হবে।

এতগুলি ভালো ভালো অ্যাডজেক্টিভের ভারে কাবু হবার বদলে আমি চমকে উঠি। বলি, সিলটি নারী! চোখের সামনে ভেসে ওঠে নানা অতীত স্মৃতি। বলি, ওয়াও!

তিনি বলেন, হাঁ।

আমি বলি, কিন্তু ... আপনারা তো আমাকে বেঙ্গলি ডাকেন!

তিনি বললেন, হাঁ। ডাকতাম ডাকি ডাকবো। বেঙ্গলিদের বেঙ্গলি ডাকাই তো দস্তুর!

আমি সখেদে বললাম, তারপর ... তারপর ... আবাদী ডাকেন!

তিনি বললেন, হাঁ। মন্দ কী? আবাদ করবেন। রেগুলার। আপনার মাহিজাবিনের গল্পের মতো।

এই পরামর্শটা মনে ধরে। বলি, খ্রান আস্তেছি চা বানাইয়া।

চা বানিয়ে এসে দেখি গুটকে জ্বলজ্বল করছে মেসেজ, কামে গেলাম। এসে কথা হবে। খুদাপেজ।

মনটা খুঁতখুঁত করতে লাগলো। আলবাব পাপিশ্ঠটা কী চায়? মূলা দেখিয়ে হট্টমূলার গাছে তুলে দিয়ে মই কেড়ে নিতে চায় কেনু কেনু কেনু?

নানা কাজে কয়েকদিন কাটে। তারপর গুটকে আবারও টোকা। আলবাব।

বলেন, পাত্রী ফাইন্যাল।

আমি চমকে উঠি, বলি, ফাইন্যাল মানে?

তিনি বলেন, ফাইন্যাল। আপনি টিকেট কাটেন। ডিসেম্বরে ইনশাল্লাহ হয়ে যাবে।

আমি বলি, দ্রান দ্রান দ্রান! কী বল্তে ছান আপ্নি (বৃটিশ অ্যাকসেন্ট)?

তিনি বলেন, বলতে চাই বিবাহ চূড়ান্ত। ডিসেম্বরে হবে। কমিউনিটি সেন্টার বুক করা হয়ে গেছে।

আমি বললাম, কইলেই হইলো? মেয়ে কী করে?

তিনি বললেন, সিনেমা দেখে। প্রধানত হিন্দি সিনেমা। কারেন্ট না থাকলে এক্টা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যায় আড্ডা মারতে। ঐখানে অবশ্য ছাত্রী হিসাবেই ভর্তি আছে। তবে মূলত সে একজন হিন্দিসিনেমাখোর।

আমি বলি, বাদ, এ বিয়ে হবে না।

তিনি বললেন, আহহা। ঠিকাছে। আপ্নি তাকে ঢাকাই ছবি ধরাইয়া দিবেন।

আমি বললাম, আমি ঢাকাই ছবিও দেখি না।

তিনি বললেন, ওহ আপনি তো সুশীল! তাহলে কলকাতার ছবি ধরাইয়া দিবেন!

আমি বললাম, ভাই আমি সিনেমা দেখিই না। মাঝেমধ্যে নেংটুশ দেখি অল্পস্বল্প ...।

তিনি বলেন, হা হা হা বিবাহের পর বেশি করে দেখবেন সমস্যা নাই। সবাই তা-ই করে।

আমি মরিয়া হয়ে বলি, ভাই পাত্রী আর কী করে?

তিনি বললেন, পাত্রীর কোনো কিছু করার দরকার পড়ে না। আপনি তারে দিয়া কী করাইতে চান?

আমি কাতর হাতে টাইপ করি, গানটান জানে? নাচটাচ পারে? বইটই পড়ে?

আলবাব অট্টহাসি দেয় মেসেঞ্জারে, বলে, আপনি কি বিবাহিত জীবন নিয়া এইসব ফেন্টাছিতে (সিলটি লুক তো, ফ্যান্টাসি বানান করে ছ দিয়া) ভুগেন নাকি? বিবাহের পর কি আপনি আশা করেন, আপনার বউ গান গাইবে? নাচবে? বই পড়বে? তাইর কিতা মাতা খারাফ নি? নাচবায় তুমি। গাইতায়ও তুমি। আর বইটই পড়ার সুমায় পাইতায় নায় গো বাই ...।

তারপর তিনি নিজের জীবন থেকে নেয়া সব কাহিনী বলে যান। কীভাবে তিনি বিয়ের পর সুপারম্যান থেকে মিকি মাউজে পরিণত হয়েছেন, তার বুকভাঙা করুণ ক্রন্দনভারাক্রান্ত ক্রনিকল।

আকাশ ভেঙে পড়ে মাথায়। এই উন্মাদ বলে কী? আমার বউ গান জানবে না সামান্য? নাচের ব্যাপারটা ছাড় দেয়া গেলো, কিন্তু বই না পড়লে ক্যাম্নে কী?

বলি, কোথাও গলতি সে মিস্টেক হয়ে যাচ্ছে অপু ভাই! আপনি কি মনির হোশেনের জন্য মেয়ে খুঁজতেসিলেন, বাই এনি চ্যান্স?

আলবাব চোখ টিবি দেয়। বলে, হুঁ। কিন্তু মনির হোশেন যে বিবাহিত, তা তো আগে জান্তাম না। এখন পাত্রীপক্ষের কাছে মানসম্মান তো রাখতে হবে!

আমি বলি, অমিত, শিমুল, সৌরভ, ভূতোদা ...।

তিনি বলেন, তারা তো ছুটো মানুষ (সিলটি লুক তো, ছোটো লিক্তারেনা). এখন তাদের ক্যারিয়ার গড়ার সময়! তাছাড়া তারা তো জার্মানিতে থাকে না। মনির হোশেনের পাত্রী জানে পাত্র জার্মানিতে থাকে। অস্ট্রেলিয়ার পাত্র কানাডার পাত্র জাপানের পাত্রে তার কুলাবে না।

আমি বলি, আমি অত্যন্ত দুঃখিত। মনির হোশেনকে বলেন আবার বিবাহ করতে। ইসলামে দুইটা বিয়া করা কোনো বিয়াপার?

তিনি বলেন, মনির হোশেনের প্রথম ইস্তিরির পিতা অত্যন্ত বিপজ্জনক লুক। তিনি এই খবর শুনলে এয়ারপোর্টেই মনির হোশেনের জন্য কবরের জমি কিন্তে হইতে পারে।

আমি বলি, না, আমি অত্যন্ত দুঃখিত ...।

তিনি বলেন, আপনি তো পাত্রীকে না দেখিয়াই কাউকাউ করতেছেন।

আমি উদাস হয়ে বলি, দেখে কী লাভ, যদি গান না জানে? নাচ না পারে? বই না পড়ে?

তিনি আবারও চোখ টিবি দিয়ে বলেন, পাত্রী অত্যন্ত খাপছুড়াৎ।

আমার মন একটু টলে, তবে গলে না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বার করি, বলি দেখুন, আমি একজন বেদ্বীন। ইসলাম ধর্মের সাথে আমার সংশ্রব নাই। সিলটি কন্যারা আর যাই হোক একজন নাস্তিকের কণ্ঠে বরমাল্য পরাবে না। পূণ্যভূমি সিলেট, যেখানকার মাটিতে শায়িত বাবা শাহজালাল, শাহ পরান ...।

তিনি বিগলিত হরফে লেখেন, শাহজালালের মাজারেই তওবা পড়বেন গিয়া। ইতা কুনো বেফারই নায়। তওবা পড়িয়া নতুন টুপি পরিয়া শ্বশুরের পায়ে ধরিয়া সালাম করবায় আর কইবায়, আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর ...।

আমি চমকে উঠে বলি, ঐটা কবরের সামনে দিয়া গেলে আওড়াইতে হয় না?

বাটপার আলবাব প্রসঙ্গ পাল্টানোর চেষ্টা করে, বলে, পাত্রীর গায়ের রং দেক্লে বুজবায়, কী সুন্দর।

আমি লুফে নেই প্রসঙ্গটা, বলি দ্যাখেন, আমি ভূতের মতো কালো। প্যান্ট খুললে ঘর অন্ধকার হয়ে আসে। সিলটি মেয়েরা আর যাই হোক একজন কালোকিষ্টি পুরুষের কণ্ঠে বরমাল্য পরাতে পারে না।

তিনি বলেন, আহ তুমি কয়েকদিন ফেয়ার এন্ড লাবলি (কী আর কমু, লাভলি লিক্তারেনা) মাখো না কেনে?

আমি বলি, ভাই ঐসব মলম মাখায়া আপনে ইদি আমিনরে ফর্সা বানাইতে পারবেন, কিন্তু আমি এইসব জাগতিক কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের ঊর্ধ্বে।

তিনি বলেন, আইচ্ছা গায়ের রং কুনো বেফার নায়। তুমি তাদের বাড়িত কম যাইও তাহইলেই হবে।

আমি আকাশ থেকে পড়ি ইউরি গ্যাগারিনের মতো। বাড়িতে কম যামু মানে? জামাই আদরের কী হবে? আমার তো মনে আশা ছিলো, শ্বশুরবাড়ির আপ্যায়নের উপরই চলবো কিছুদিন!

তিনি বলেন, না না নয়া দামান এত ঘন ঘন শ্বশুরবাড়ি যাওয়া ভালা নায়।

আমার সন্দেহ হয়, বলি, মেয়ের ওজন কতো?

তিনি বলেন, উজন (আলবাব সিলটি) কুনো বেফার নায়। আর তুমি তারে আলগাইতায় কিতার লাগি তে? দরকার পড়িলে তাই তুমারে আলগাইতো!

বলি, ভাই, আপনি কী বলতে চান? আমার ওজন আটাত্তর কেজি, আমারে যে আলগাইতে পারে তার ওজন কতো?

তিনি বলেন, ভালো জিনিসের ওজন একটু বেশিই হয়। আর বেশি মাতরায় কিতার লাগি রে বো?

বলি, পাত্রী রসিক তো? সেন্স অব হিউমার কেমন?

আলবাব দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তারপর যা বলে, তার মর্মার্থ হচ্ছে, বিবাহিত পুরুষের জীবনে হাসির কোনো স্থান নাই। পাত্রীর সেন্স অব হিউমার থাক্লেও যা না থাক্লেও তা, পাত্রের উপর সেই সেন্স প্রযুক্ত হবে, সে আশা গুড়ে বালি। হিউমার খুঁজতে চাইলে আমি যেন মুখফোড় হারামীটার ব্লগ রিভাইজ দেই।

আমি হাল ছেড়ে দেই। মিষ্টি ছিপছিপে পড়ুয়া রসিক বউয়ের যে ইমেজ চোখের সামনে ছিলো, মনে হলো এক মত্তা হস্তিনী করিমগঞ্জের পাহাড় থেকে নেমে এসে তা চুরমার করে দিলো।

আলবাব বলে, মন খারাপ করিও না। তুমি আবাদী। সিলটি মেয়ে পাইতেছো এইটাই বেশি। মোটা চিকন, গান নাচ, বই হিউমার বাছাবাছির আওকাতই বা তুমার কেয়া হায়?

বলি, মেয়ের বাপ কী করে?

আলবাব হাসে। বলে, বাপকে তুমি চিন তো। ব্রিগেডিয়ার (অব) ... ।

এরপর আর সামলাতে পারি না। হুঙ্কার দিয়ে বলি ...।

সে অতি বাজে কথা। কহতব্য নয়।

1 comment:

  1. hahahahhaahahahahhaahahahhahahahahahahahahahahahahahahahahahha... ami hastay hastay gora-gori khacchi! ata ki kon fun magazine a publish kora jaye na? :D

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।