Sunday, September 20, 2009

নতুন শব্দ (সৌজন্যে ফেইসবুক)

নতুন শব্দ বানানোর একটা ঝোঁক আমার মধ্যে কাজ করে। এর জন্যে দায়ী লোকটির নাম সুকুমার রায়। অত্যন্ত দুষ্ট প্রকৃতির লোক ছিলেন বলেই হাঁসজারু তত্ত্বে তিনি আমাকে দীক্ষা দিতে পেরেছিলেন। এই মজহাবে শামিল হয়ে আমি দেখলাম, আসলেই দেবদারু কাঙ্গারু হতে পারলে মজারু কেন হতে পারবে না? কেন চিমনিচাটা ভোঁপসামুখো ভ্যাঁপাটে লোকগুলিকে চিমনিচাটা ভোঁপসামুখো ভ্যাঁপাটে বলা যাবে না? অবশ্যই যাবে। এই আনন্দেই বহুদিন যাবত হট্টমূলার গাছে ঝুলছি।

ফেইসবুকে মাঝে মাঝে মাথায় নতুন শব্দ এলে স্ট্যাটাসে প্রস্তাবনা রাখি। সেগুলি জড়ো করে তুলে দিচ্ছি প্রথম দফা। এগুলোর মধ্যে নতুন শব্দ, পরিভাষা, বাগধারা সবই আছে।

1. ব্যাচেলরের দীর্ঘশ্বাস। উঠতে বসতে মুখোমুখি হতে হয় এমন কোনো কিছু বোঝানোর জন্যে ব্যবহৃত। উদাহরণ, উফফফ ঐ রাস্তায় জ্যাম তো ব্যাচেলরের দীর্ঘশ্বাস!

2. টক শো এর অনুবাদ = কথাম্যালা। যেখানে ম্যালা কথা বলা হয়।

3. ভুলবুলি। অর্থ, টকশোতে উপস্থিত হয়ে ক্রমাগত নানা মিথ্যা কথাবার্তা বকে যান যে বিশিষ্ট সুশীল।

4. নিরিবিড়ি। অর্থ, একান্তে বসে কোনো কিছু করার সাময়িক বিরতি। যেমন, কাজের ফাঁকে বারান্দায় গিয়ে বিড়ি টেনে আসা, ফেসবুকানো ইত্যাদির জন্যে নেয়া পাঁচ মিনিটের ব্রেক।

5. ঢংধনু। এর অর্থ, একসাথে নানা কিসিমের আহ্লাদ।

6. বৃথুলা। এর অর্থ, খামাকাই এইটা সেইটা খেয়ে ফুলে ঢোল হয়ে যাওয়া বালিকা। ভাংলে পাওয়া যায়, বৃথাই পৃথুলা যে বালিকা।

7. হাগুপ্সা। এর অর্থ, মলত্যাগের ইচ্ছা।

8. নুনূর্ষু। যৌবনজ্বালা নিয়ে বিয়াপক সমস্যায় আছেন, এমন অবস্থা বোঝানোর জন্যে এই শব্দটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

9. হৃদয়াময়। এর অর্থ, কবিতার ডায়রিয়া। উদরাময়ের মতোই এই রোগ হলে আমসহ প্রচুর পাতলা কবিতার সাথে কবি ও পাঠকের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ঘাম দিয়ে বের হয়ে যেতে পারে।

10. হাগনখুশ। এর আক্ষরিক অর্থ, মলত্যাগের আনন্দ। যা করলে অপার আনন্দ মেলে, এবং যা থেকে বিরত থাকলে মলত্যাগে বিরতির মতো যন্ত্রণা অনুভূত হয়, তা-ই হাগনখুশ। যেমন, ফেসবুকিং এক হাগনখুশ কাজ।


[]

1 comment:

  1. ভাই আপ্নের তো মাথাখারাপ। হাহাহা!

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।