Tuesday, September 15, 2009

সোয়াইন ফ্লু

বিরিয়ানির মশলা দিয়ে তেহারি রান্না করি এখানে। মশলাটা পাকিস্তানী, ব্যাপারটা আমার পছন্দ না। রাঁধুনির দেশী মশলা কদাচিৎ মেলে এখানে, কোনো ডিলার নেই বলে আফগান দোকানি ঠিকমতো আনতে পারে না। বাঙালির ব্যবসাবুদ্ধি নেই, বিড়বিড় করি।

ঠিক করলাম, বিরিয়ানির মশলার কম্পোজিশনটা জেনে নিই আম্মাকে ফোন করে। দারচিনি, এলাচি, গোলমরিচ, জায়ফল-জয়িত্রী, পোস্তদানা, আলুবোখারা, তেজপাতা, জিরা ... এসবই তো?

ফোন করে আম্মার কণ্ঠস্বর শুনে বুকটা ধ্বক করে ওঠে। সর্দি লেগেছে। প্রথমেই মনে পড়ে সোয়াইন ফ্লুর কথা। জিজ্ঞেস করি শ্বাসকষ্টের কথা। সেটা তাঁর বরাবরই আছে। তারপরও অস্থির লাগে। বারবার বলি, একটু জ্বরজ্বর ভাব হলেই কাকে ফোন করতে হবে, কোথায় নিয়ে যেতে হবে। আম্মা হাসেন। জিজ্ঞেস করেন কী খেলাম। পড়াশোনা আর কতদূর? খাবার নিয়ে কথা বলার রুচি চলে যায় আমার, একটু পর পর শুধু সোয়াইন ফ্লু এর লক্ষণ নিয়ে কথা বলি।

ফোন রাখার আগে আম্মা শুধু বলেন, আজকে কেউ আমাকে ফোন করেনি। তুমি করেছো, খুব ভালো লাগছে এখন।

এরপর আবার কাজে ঢুকি। সচল পড়ি। ফেসবুকে ঘোরাঘুরি করি। তারপর ঘুমিয়ে যাই। ভোর রাতে ঘুম ভেঙে যায়, হাউ হাউ করে কাঁদি। টের পাই, আম্মার সোয়াইন ফ্লু চলছে গত তিন দশক ধরে। আর ঐ সোয়াইনটা আমি নিজে। কথার ফানুশ ফোলাই, ঘোঁৎ ঘোঁৎ করি আর কাদা হাঁটকাই, আর আমার আম্মা অসুখ নিয়ে পড়ে থাকেন কয়েক হাজার মাইল দূরে।

কিছু ভালো লাগছে না। সবকিছু ভেঙে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে ইচ্ছা করছে।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।