Saturday, September 12, 2009

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের আলঙ্কারিক পদগুলিতে অবঅফিসাররা কেন?

বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর অফিসার আর সদস্যদের প্রতি আমার কোনো অশ্রদ্ধা নেই। কিন্তু বাড়তি কোনো শ্রদ্ধাও নেই। অফিসাররা দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে দুই বছর কঠোর শ্রমসাধ্য প্রশিক্ষণ নেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ একাডেমিগুলিতে, এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখার বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দানের জন্যে কমিশনপ্রাপ্ত হন। তাঁদের নেতৃত্বের গুণাবলি সমর ও দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্যে অর্জিত।

কিন্তু সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তা পর্যায়ে অবসরপ্রাপ্ত এই অফিসারদের নিয়োগ নিয়ে আমার প্রশ্ন রয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বলুন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বলুন, বা পেট্রোবাংলাই বলুন, পরিচালক, কমিশনার, চেয়ারম্যান পদে একজন করে অবসরপ্রাপ্ত অফিসারকে আমরা দেখি।

আমার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামষ্টিক অভিজ্ঞতা থেকে আমার ধারণা জন্মেছে, বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর অফিসাররা সশস্ত্রবাহিনীর কাঠামোর বাইরে প্রশাসক হিসেবে নিম্নমানের হন। বেসামরিক প্রশাসন কাঠামো সম্পর্কে তাঁদের ধারণা অপ্রতুল থাকে, এবং বেশিরভাগ সময়েই অশ্বশক্তি আর হাঁকডাক দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তারা ব্যর্থ হন। সর্বোপরি, এসব নিয়োগের পেছনে সরকারের কী যুক্তি কাজ করে, সেটিও স্পষ্ট নয়। আমার ধারণা, মোটা বুদ্ধির এই অবঅফিসারদের সামনে রেখে ধূর্ত আমলারা পেছনে চুরিচামাট্টামি যা করার করে নেন।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসারদের পরিচালনায় কোনো প্রতিষ্ঠান রীতিমতো খোলনলচে পাল্টে উন্নতি করেছে, এমন কোনো উদাহরণ কেউ জানলে মন্তব্যে এসে আলোকিত করুন আমাকে, প্লিজ। কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হবেন সেই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে গভীর প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টির অধিকারী কেউ। কয়েক দশক সেনাবাহিনীতে সৈনিক আর ছোটো অবকাঠামোর নেতৃত্ব দিয়ে কী করে এই অবঅফিসাররা সরকারের জ্বালানি সন্ধান, টেলিযোগাযোগ কমিশন, বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষসহ সম্ভাব্য সকল অঙ্গের মুণ্ডু হয়ে সেই প্রজ্ঞা আর দূরদৃষ্টির দাবিদার হন, সেটা বুঝতে পারি না।

অবঅফিসারদের অবসরের পর এইসব আলঙ্কারিক পদে ডাম্প করার সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসুক। এনাদের যোগ্যতা থাকলে মেজর, কর্ণেল, ব্রিগেডিয়ার পদে থেকে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেয়ার কথা নয়, বরং সেনাবাহিনীতেই আরো পদোন্নতি পেয়ে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন দায়িত্ব পালনের কথা। সেনাবাহিনীতেই যখন তারা সেসব পদোন্নতির যোগ্য নন, তখন নিজের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন সংস্কৃতির একটি প্রতিষ্ঠানের আগায় বসে তারা কী করেন, সেটি রীতিমতো আশঙ্কা জাগায়।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।