Saturday, July 18, 2009

ক্যামকর্ডার বৃত্তান্ত



১.
গরীব মনটা কিছুদিন ধরে ওনাপ্যানা করছে, ক্যামকর্ডার একখানা কেনা যায় কি না। কিন্তু ক্যামকর্ডার নিয়ে জ্ঞান সামান্য আমার। অন্যের ক্যামকর্ডারও ছেনেঘেঁটে দেখার সুযোগ মেলেনি। তাই গুগল মারলাম।

কিছু পড়াশোনা করে যা বুঝলাম, ক্যামকর্ডার কিনতে গেলে অনেক কিছু দেখে কিনতে হবে। নিচের জিনিসগুলি নাকি থাকলে ভালো।

[list]
[*] ম্যানুয়াল ফোকাস। অটোফোকাস দিয়ে দুনিয়ার অনেক কিছুই মনমতো তোলা যাবে না। আমি যেমন স্টিল ছবিও ম্যানুয়াল ফোকাসেই তুলি।

[*] ম্যানুয়াল আইরিস। এক্সপোজার ঠিক করার জন্যে এটা দরকার।

[*] হোয়াইট ব্যালান্স। যখন আলোর একাধিক কিসিমের উৎস থাকে, তখন হোয়াইট ব্যালান্স ছাড়া ম্যানেজ করা মুশকিল।

[*] থ্রি সিসিডি। এক সিসিডির পরিবর্তে তিন চিপের ক্যামকর্ডারগুলিতে কালার স্যাচুরেশন ভালো আসে।

[*] হেডফোন জ্যাক। এটা না থাকলে কী শব্দ রেকর্ড করা হচ্ছে, তা মনিটর করা মুশকিল।

[*] সাউন্ড কন্ট্রোল। ক্যামেরা যদি নিজেই শব্দ নিয়ন্ত্রণের কাজটা করে, তাহলে মনমতো শব্দ পাওয়া যাবে না।

[*] অডিও ইনপুট। একটা এক্সটার্নাল মাইক্রোফোন লাগানোর ব্যবস্থা থাকলে ভালো কোয়ালিটির শব্দ যোগ করা যাবে।

[*] ফিল্টার রিং। লেন্সের সাথে ফিল্টার যোগ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। আমি আমার স্টিল ক্যামেরার লেন্সগুলিতে একটা করে আলট্রাভায়োলেট ফিল্টার লাগিয়ে রাখি লেন্সের নিরাপত্তার জন্যে, ক্যামকর্ডারের ক্ষেত্রেও একই নিরাপত্তা দরকার। এছাড়া পোলারাইজিং ফিল্টার বা স্টার ফিল্টারও যোগ করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

[*] লেন্স অ্যাডাপটার। খুব উঁচুদরের জিনিস ছাড়া ক্যামকর্ডারে সংযোজ্য লেন্স মেলে না, তবে মাঝারিদরের যন্ত্রে লেন্সের সাথে অ্যাডাপটার লাগানোর ব্যবস্থা মাঝেসাঝে থাকে। তবে আমার মনে হয় না এ জিনিস আমার প্রয়োজন হবে।

[*] ট্রাইপডের স্ক্রু ঢোকানোর জন্যে একটি রন্ধ্র। আমার হাত মোটামুটি স্টেডি, কিন্তু মাঝপথে কোন কিছু ম্যানুয়ালি পাল্টাতে হলে ক্যামেরা কাঁপুক, তা চাইবো না।
[/list]


২.
এ তো গেলো ক্যামেরার বাইরের দিক। এর নাড়িভুঁড়ি নিয়েও বিয়াপক কথাবার্তা আছে। ক্যামকর্ডার ছবি রেকর্ড করবে কীসে?

দেখলাম, সুযোগ আছে তিন ধরনের। এদের সুবিধা-অসুবিধাও আছে নানারকমের। অসুবিধাগুলিকে লাল কালি দিয়ে দাগিয়ে রাখলাম।

[list]
[*] মিনি-ডিভি। এই ভুঁড়ির ক্যামকর্ডারগুলি সবচেয়ে প্রচলিত, বেছে নেয়ার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। এক একটা মিনি-ডিভি ক্যাসেটের দাম দুই ইউরোর মতো পড়বে দেখলাম। এক থেকে দেড় ঘন্টা রেকর্ড করা যায় এক একটা ক্যাসেটে। ক্যামকর্ডার থেকেই টিভির সাথে যোগ করে ফুটেজ দেখা যায়, তবে এক এক করে দেখতে হয়, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গেলেই ফরওয়ার্ড বা রিওয়াইন্ড করার ভ্যাজাল। আর ক্যামকর্ডার থেকে সরাসরি দেখতে গেলে যন্ত্রটার ওপর চাপ পড়ে, তাই এই কাজ ঘন ঘন করা ঠিক নয়। বেশির ভাগ এডিটিং সিস্টেমই মিনি-ডিভিতে শুট করা ফুটেজ এডিট করার জন্যে তৈরি, তবে এর সবচেয়ে বড় ভেজাল হচ্ছে, পিসিতে ফুটেজ ইমপোর্ট করার ব্যাপারটা ঘটে রিয়্যাল টাইমে, মানে এক ঘন্টার ফুটেজ ইমপোর্ট করতে এক ঘন্টা সময় লাগবে। মিনি-ডিভি সংরক্ষণ করা যায় দীর্ঘদিন, তবে মোটামুটি নাতিশীতোষ্ণ, ধুলো আর আর্দ্রতা থেকে মুক্ত জায়গায় সাবধানে রাখতে হয়।

[*] ডিভিডি। এক একটা ডিভিডির দাম পঁচাত্তর সেন্টের মতো পড়বে। তিরিশ মিনিট রেকর্ড করা যায় এক একটা ডিস্কে। এক এক ক্যামেরার জন্য এক এক পদের ডিস্ক লাগতে পারে। ডিভিডির সুবিধা হচ্ছে দুমদাম কোন ডিভিডি-প্লেয়ারে নিয়ে দেখা যায়, তবে কমপ্যাটিবিলিটি চেক করে নিতে হবে। ডিভিডি ক্যামকর্ডারগুলি এমপিইজি-২ ফরম্যাটে রেকর্ড করে, যেটা ঠিক এডিটবান্ধব নয়, আবার এডিট করার পর অনেক সময় কোয়ালিটি পড়ে যায়। ডিভিডি সংরক্ষণ করা সহজ।

[*] হার্ড-ডিস্ক। এর সবচে বড় সুবিধা হচ্ছে, আলাদা কোন খরচ নেই। তবে ফুটেজ সংরক্ষণের জন্যে আলাদা মিডিয়াম লাগবে, যেমন পিসির হার্ডডিস্ক, ডিভিডি বা মিনি-ডিভি ক্যাসেট। এর ধারণ ক্ষমতা হার্ড ডিস্কের আকারের ওপর নির্ভর করবে। ক্যামকর্ডার থেকে ফুটেজ দেখাও সুবিধাজনক, ড়্যান্ডম অ্যাকসেসের সুযোগটা থাকে। পিসিতে ট্র্যান্সফার করাও সহজ।
[/list]

লালকালির দিক বিবেচনা করলে হার্ড-ডিস্ক মিডিয়ামই দেখা যাচ্ছে সেরা। তবে যা বুঝি, হার্ড-ডিস্ক গেলে খবরই আছে।

৩.
এই সেকশনটা লিখবো নানা ক্যামকর্ডারের রিভিউ পড়ে। ততক্ষণে আপনাদের কাছ থেকেও মূল্যবান পরামর্শ পেয়ে আলোকিত হবো। এরপর সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে, ক্যামকর্ডার কিনলে সর্বোচ্চ কয়দিন উপবাসে থাকা উচিত হবে। ভোজনরসিকদের জন্যে আগাম সুখবর থাকবে, ক্যামকর্ডারের প্রথম শিকার হবে বদ্দার "তেহারি"র উপর একটি ডকুমেন্টারি।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।