Tuesday, July 14, 2009

ভাসমান মাছ প্রসেসিং কারখানা


আমার ডিপ ফ্রিজ নাই। ভোনহাইমে একটা ছোট রেফ্রিজারেটর আছে, সেটা আমি আর আমার ফ্ল্যাটমেট সৈয়দ ব্যবহার করি। ডিপ ফ্রিজ নাই বলে আমাকে প্রায়ই দিন আনি দিন খাই বেসিসে দিন গুজরান করতে হয়। বড় মাছ খেতে হলে কয়েকজন মিলে ঝটিকা দাওয়াতের ব্যবস্থা করি, মাংস খেতে চাইলেও তাই। আমি অত্যন্ত অসামাজিক বলে দেশে প্রায় সবরকম নিমন্ত্রণ এড়িয়ে চলতাম, প্রবাসে এসে নিমন্ত্রণের গন্ধ পাওয়া মাত্রই উড়ে চলে যাই। আমার এই চারিত্রিক পরিবর্তনের পেছনে মূলত ক্যাটালিস্ট হিসেবে মূলত কাজ করেছে একটি ডিপ ফ্রিজের অনুপস্থিতি।

যে বিকল্পটি হাতে থাকে, সেটি হচ্ছে এক বেলা বা দুই বেলা খাওয়ার মতো করে কেনা। তাতে করে খরচ বাড়ে, কারণ এখানে এক কেজি মাছ আর আড়াইশো গ্রাম মাছের ফিলে-র দাম প্রায় সমান। আর যে মাছ খেতে পছন্দ করি, সে মাছ প্রক্রিয়াজাত অবস্থায় মেলে না। রুশ দোকান থেকে কিনে আঁশ ছাড়িয়ে যে মাছ খাচ্ছি, তার স্বাদের সাথে বরফ গলানো বিস্বাদ লাখস-বার্শ-কাবেলিয়াউ-পাঙ্গাসিয়াস এর ফিলের তুলনা চলে না।

আরেকটি বিকল্প আছে, সেটি হচ্ছে কৌটার মাছ খাওয়া। টুনা, ম্যাকারেল, হেরিং এইসব। এগুলো একেবারে এক বেলার জন্যেই ডিজাইন করা, কৌটা খুলে তাওয়ায় চড়িয়ে সব্জির সাথে মিশিয়ে একটা ঘুঁটা দিলে মোটামুটি ভক্ষণযোগ্য একটা কিছু তৈরি হয়। ব্রকোলি/ফুলকপি, টোমাটো, বেগুন, পাপ্রিকা পেঁয়াজ দিয়ে ভেজে তার সাথে এই কৌটার মাছ আর ধনেপাতা দিয়ে ঝালঝাল ভুনা করলে বেশ ইন্টারেস্টিং একটা জিনিস দাঁড়ায়। তবে রোজ রোজ তো এক জিনিস খাওয়া যায় না।

ক্যানের মাছ কিনতে গিয়ে ভাবলাম, বাংলাদেশে কেন অন্তত কাছাকাছি কিছু করতে পারি না আমরা? আমাদের দেশে মাছের বিশাল চাহিদা, কতিপয় শুয়োরের বাচ্চা এই মাছে ফরমালিনের মতো বিষ মিশিয়ে বিক্রি করে, কিন্তু কেন বিকল্প শিল্পায়ন করা হবে না?

আমার ভোলাভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে তাই লিখছি। বরিশাল-চাঁদপুর অঞ্চলে চালু করা যেতে পারে দু'টি ভাসমান মাছ প্রক্রিয়াকরণ কারখানা। এই জাহাজগুলি ওখান থেকে কিনবে ইলিশের বিশাল চালান, টনকে টন। তারপর চলতে শুরু করবে উত্তর দিকে, যেখানে মাছের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল এবং নানা চুতিয়ামিতে আক্রান্ত। চলতে চলতেই ইলিশ মাছের আঁশ ছাড়িয়ে কেটে কুটে একে বিশেষ সংরক্ষণারকে চুবিয়ে একটা ক্যানে ভরা হবে। জাহাজ থেকে খালাস করা হবে ক্যানড ইলিশ। জাহাজ যখন আবার বরিশাল বা চাঁদপুরের দিকে ফিরবে, তখন সে সাথে কোন কার্গো নিয়ে ফিরতে পারে, যাতে তার ট্রিপ কস্ট কমে আসে। লোকজন বাজারে গিয়ে হয়রান না হয়ে দোকান থেকে ফিক্সড প্রাইসে কিনবে, প্রচলিত দামের চেয়ে অনেক সস্তায়। খুব অসম্ভব কিছু তো নয়, আটলান্টিক আর ভূমধ্যসাগরে তো এমন অহরহই হচ্ছে।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।