Thursday, July 09, 2009

মাদার্চো-

গল্পটি কল্পবিজ্ঞান হলেও কিছুটা ইয়ে। নানা অশ্লীল গালিগালাজ আছে গল্পের প্রয়োজনে। গল্পের থিমটিই প্রাপ্তমনস্ক ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যে।

১.
প্রফেসর হক মহা অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরলেন গোলাম আম্বিয়ার দিকে। "কী হইল আম্বিয়া, আবার কী সমস্যা তোমার?"

গোলাম আম্বিয়া হাউমাউ করে উঠলো, "স্যার, একটা বিহিত করেন। এই লোকটা স্যার আমারে উঠতে বসতে মা বাপ তুইল্যা গালি দিতাসে স্যার। আমার কিন্তুক জিদ্দে শইলটা খালি ফাটতাসে। কিসু কই না খালি। আমি কিন্তুক স্যার, চেতলে খুব খরাব মানুষ, কখন যে তুইল্যা শালার পুতেরে একটা আছাড় দিমু ...।"

প্রফেসর হক চশমার ফাঁক দিয়ে গোলাম আম্বিয়ার পাঁচ ফুট এক ইঞ্চি লম্বা টিংটিঙে কলেবর দেখেন মনোযোগ দিয়ে। "কী করসে মোয়াজ্জেম হোসেন?"

আম্বিয়া আবারও ডুকরে ওঠে, "গাইল দিসে স্যার! অসইভ্য সব খাচড়া খাচড়া কথাবার্তা কয় হ্যায়।"

প্রফেসর হক বললেন, "আচ্ছা তুমি যাও, কাম করো গিয়া। মোয়াজ্জেমরে আমি কমুনে বুঝাইয়া।"

আম্বিয়া তড়পে ওঠে, "স্যার, লাথো কা ভূত বাতো মে নেহি যাতা, আমগো পাশের বাড়ির বিহারী দাদি সবসময় কইতো! আপনি স্যার অরে পানিশমেন্ট দেন!"

প্রফেসর হক বললেন, "এখন এইখানে ক্যামনে অরে পানিশমেন্ট দেই? আমরা ফিরত গিয়া লই, তারপর দেখা যাবেনে। তুমি যাও, কাম করো গিয়া।"

গোলাম আম্বিয়া আবারও কী যেন বলতে গিয়ে থেমে যায়। তারপর ঝট করে ঘুরে দুপদাপ পা ফেলে বেরিয়ে যায় কেবিন থেকে।

গোলাম আম্বিয়া বেরোতে না বেরোতেই কেবিনে ঢোকে মেজর মোয়াজ্জেম। "গুড মর্নিং, স্যার! কোন নিউজ?"

প্রফেসর হক গম্ভীর হয়ে বলেন, "মোয়াজ্জেম, তুমি নাকি আম্বিয়ারে খালি গালাগালি করো?"

মোয়াজ্জেম একটা টুল টেনে বসে পড়ে ধপ করে। "না স্যার, বিনা কারণে কি আর কেউ কাউরে গালি দেয়? আম্বিয়া লোকটা স্যার আইলসার হদ্দ। সে খালি শুইয়া বইসা থাকে। কাম করতে কইলে নড়েচড়ে না। তাই তারে মাঝেমধ্যে শরীর গরম করানোর জন্য ধরেন গিয়া একটু বড়দের গালি দেই আর কি। নাথিং পারসোনাল স্যার। আমাদের লাইনে এই জিনিস তো স্যার ধরেন গিয়া দুধভাত।"

প্রফেসর হক আরো গম্ভীর হয়ে বলেন, "তুমি তো আর তোমার লাইনে নাই মোয়াজ্জেম। তুমি এখন আমার লাইনে। আমার লাইনে এইসব না করাই ভালো। তিনজন মোটে মানুষ আমরা, তার মধ্যে দুইজন খালি একজন আরেকজনের পিছে লাইগা থাকবো, আর আমারে বইসা বইসা তার ফিরিস্তি শুনতে হইবো, ঐসব চলবে না। মিলমিশ কইরা চলবা এখন থিকা।"

মোয়াজ্জেম তার সাড়ে ছয় ফিট লম্বা শরীর কাঁপিয়ে হাসে। "ইয়েস স্যার! কিন্তু আমি আপনাকে বলতেসি স্যার, আম্বিয়ারে আমার হাতে ছাইড়া দ্যান, ওরে আমি এক সপ্তার মধ্যে সোজা করে ফেলবো। রোজ সকালে আমার সাথে এক ঘন্টা ব্যায়াম করলেই ও মানুষ হয়ে যাবে!"

প্রফেসর হক বলেন, "তোমার সাথে এক ঘন্টা ব্যায়াম করলে ও মরা মানুষ হইবো। গতর খাটার জন্য তো তুমি আছো, আম্বিয়ার কাম যন্ত্রপাতি লইয়া। ওর তো পালোয়ান হইয়া কাম নাই। বোজলা? এইবার যাও, দুইজনে মিলা মিশা কাম করো গা। ফড়িংগুলির কাছ থিকা আইজকা পর্যন্ত কোন রিপোর্ট আইলো না, চিন্তায় আছি।"

মোয়াজ্জেম উঠে আড়মোড়া ভাঙে। তারপর খটাশ করে একটা স্যালুট দেয় কেবিন কাঁপিয়ে। "স্যার ইয়েস স্যার!"

প্রফেসর হক কম্পিউটার স্ক্রিনে চোখ ফিরিয়ে আবার কাজ করতে থাকেন। মিনিট খানেক পরই বাইরে কিছু দূরে চাপা হুঙ্কার শুনতে পান, "আম্বিয়া! ইউ ব্লাডি মাদার্চোদ! এইদিকে আসো, এই বাক্সটা খোলো জলদি! মুভ ইওর ফ্যাট বাট রাস্কেল! কুইক কুইক!"

প্রফেসর হক দীর্ঘশ্বাস ফেলে লগবুক ওপেন করেন, তারপর মোয়াজ্জেমের খাতায় একটা লাল ক্রস দিয়ে রাখেন। তারিখের জায়গায় লেখা, দিন ০৬।

২.
প্রফেসর হককে সব বিজ্ঞানীই কম বেশি দুয়ো দিয়েছিলেন প্রজেক্টের শুরুতে। সময়ভ্রমণকে অ্যালকেমির সাথে তুলনা দিয়ে দুনিয়ার বড় বড় বিজ্ঞান পত্রিকা বিজ্ঞানী হকের তুলা ধুনে সোয়েটার বানিয়ে ছেড়েছিলো। এগিয়ে এসেছিলো শুধু তার দেশের লোক, চাপাতি মফিজ।

"স্যার, আমি জানি আপনি পারবেন।" চাপাতি মফিজ আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছিলো। "আমি স্যার বদ লোক, বহুত খুন খারাবি কইরা পয়সা বানাইছি, কিন্তু আমি লোক চিনি। আপনি পারবেন। আপনি স্যার সব কিছু আমার হাতে ছাইড়া দেন।"

প্রফেসর হক সেই থেকে নিশ্চিন্তে সব কিছু চাপাতি মফিজের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। মাসখানেক পরই পত্রিকায় প্রফেসর হকের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর খবর বেরোয় ফলাও করে। বিজ্ঞান পত্রিকাগুলি খবর ছেপেছিলো, টাইম ট্র্যাভেলার'স ট্র্যাভেলিং টাইম ইজ আপ নাউ।

চাপাতি মফিজ এসে বলে, দেখেন স্যার কত্ত বড় চুতমারানি এরা।

প্রফেসর হক ওয়েবসাইটে নিজের মৃত্যু সংবাদগুলি খুঁটিয়ে পড়ে কিছুটা মন খারাপই করেছিলেন। লোকজন কী বদ! মরা মানুষের পিছনে লাগতেও ছাড়ে না।

চাপাতি মফিজ চেষ্টার কোন ত্রুটিই করেনি। আন্ডারগ্রাউন্ড ল্যাব বানিয়ে দিয়েছে আফ্রিকার এক মরু এলাকায়। দুনিয়ার নানা কোণ থেকে খুঁজে এনেছে প্রফেসর হকের সহকর্মীদের। তারা সবাই জানেও না কী নিয়ে কাজ হচ্ছে, প্রফেসর হককে তারা ডক্টর চৌধুরী নামে চেনে।

প্রথম রোবটটা যেদিন ফিরে এলো এক হাজার বছর আগের ছবি তুলে, সেদিন প্রফেসর হক মরুর আকাশের নিচে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকক্ষণ। ওপরে অনেক তারা মিটমিট করছে, নিচে তিনি অন্ধকারে শীতল বাতাসে দাঁড়িয়ে। মহাবিশ্বের এক গোপন সিন্দুকের চাবি যেন তিনি কুড়িয়ে পেয়েছেন।

এরপর বাকিটা সময় কেটে গেছে টাইমশিপ তৈরিতে। ভলান্টিয়ার যোগাড়ও মফিজই করেছে। গোলাম আম্বিয়া বাংলাদেশে আণবিক শক্তি কমিশনে কাজ করেছে অনেকদিন, আর মেজর মোয়াজ্জেম হোসেন মৌরিতানিয়ায় জাতিসংঘ শান্তি মিশন থেকে দেশে ফিরে মোটে অবসর নিয়েছে। দু'জনেই মোটা টাকা পেয়েছে এককালীন, অতীতে গিয়ে ফিরে আসা যাবে শুনে তারা আর আপত্তি করেনি।

প্রফেসর হক টাইমশিপ বোঝাই করেছেন নানা যন্ত্রপাতি দিয়ে। তাঁর উদ্দেশ্য নানা রকমের তথ্য সংগ্রহ। মাটি, বাতাস, পানির গুণাগুণ মাপা, নমুনা সংগ্রহ, আর আশপাশের ছবি তোলা। আশপাশ বলতে অবশ্য তিনি কয়েক হাজার কিলোমিটার ব্যাসার্ধ ধরে নিয়েছেন। তাঁর নিজেরই আবিষ্কৃত রোবটবেলুন শুধু ফাঁপিয়ে ছেড়ে দেবেন, তারাই এদিক সেদিক ঘুরে আবার জায়গামতো ফিরে আসবে ছবি নিয়ে। আর আছে ফড়িং রোবট, তারা সূর্যের শক্তিতে ওড়ে, তারা ছবি তুলবে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ক্যামেরা দিয়ে, আশেপাশের ল্যান্ডস্কেপের। কেউ টেরটিও পাবে না তাদের উপস্থিতি। পরে সেই সূক্ষ্ম ছবিকে ম্যাগনিফাই করে দেখবেন প্রফেসর হক। ছয় হাজার বছর আগের পৃথিবীর চেহারাটা কম্পিউটারে গেঁথে নিয়ে আবার বর্তমানে ফিরে আসবেন, এ-ই ছিলো পরিকল্পনা।

৩.
আম্বিয়া দুপুরে খাওয়ার সময় আবারও বিচার নিয়ে এলো। "স্যার, মোয়াজ্জেম আমারে খালি মাদার্চোদ কইয়া গালি দেয়। স্যার আপনি একটা বিচার করেন!"

মোয়াজ্জেম বিশেষ স্যুপের প্যাকেট খুলে গরম পানিতে মেশাতে মেশাতে বললো, "আম্বিয়া, তোমার লজ্জা হওয়া উচিত! শরম করে না, এইসব আজেবাজে কথা বলো স্যারের সামনে? তোমার খারাপ লাগলে চলো মারামারি করি!"

আম্বিয়া বিষদৃষ্টিতে মোয়াজ্জেমের দিকে তাকালো শুধু, মুখে কিছু বললো না।

প্রফেসর হক মহা বিরক্ত হয়ে মোয়াজ্জেমকে বললেন, "মোয়াজ্জেম, তোমারে কী কইলাম সকালে?"

মোয়াজ্জেম কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললো, "কী করমু স্যার, অভ্যাস। আইলসা লোক দেখলেই জিহ্বা সুলসুল করে।"

প্রফেসর হক বললেন, "ফড়িংগুলি রিপোর্ট করছে কোনোটা?"

আম্বিয়া গোমড়ামুখে বললো, "না স্যার।"

প্রফেসর হক বললেন, "বেলুন থিকা কোন সাড়াশব্দ পাইলা?"

আম্বিয়া স্যুপ খেতে খেতে বললো, "একটু আগে আবার চেক করছিলাম স্যার। সিগন্যাল স্ট্রেংথ দেইখা মনে হইলো বারোশো কিলোমিটার দূরে আছে।"

প্রফেসর হক মনে মনে মাপলেন। ইয়োরোপের মাঝামাঝি পর্যন্ত গেলেই কাজ হয়ে যাবে তাঁর।

আম্বিয়া বললো, "স্যার, মোয়াজ্জেমরে বলেন সোলার সেলগুলি সব বসাইয়া ফেলতে। আমার আরো পাওয়ার লাগবো কালকে থিকা।"

প্রফেসর হক বললেন, "মোয়াজ্জেম, আজকে বিকালে সেলগুলি বসানো শুরু করো তাইলে।"

মোয়াজ্জেম বললো, "স্যার, আম্বিয়া হাত লাগাইলে কাজ তাড়াতাড়ি হইতো।"

আম্বিয়া বললো, "আমার তো মনিটরিং করতে হইবো। তুমি এতবড় শইলটা লইয়া কতগুলি সেল বসাইতে পারবা না? তুমি না কত হাতিঘোড়া মারসো?"

মোয়াজ্জেম চোখ রাঙায়, "আম্বিয়া, রোসো! খাওনটা খালি শ্যাষ হোক!"

আম্বিয়া বললো, "স্যার, মোয়াজ্জেম যদি আমারে আর একবারও মাদার্চোদ কইয়া গাইল পাড়সে, আমি কইয়া দিলাম, আমি আর কোন কাম করুম না!"

প্রফেসর হক বললেন, "মোয়াজ্জেম, দুষ্টামি বাদ দিয়া কাম করো, আম্বিয়ারে তার নিজের কাম করতে দ্যাও। আর লগে একটা রেডিও আর একটা ডার্ট গান লইয়া যাইও।"

মোয়াজ্জেম বললো, "স্যার, ডার্ট গানের বদলে আসল বন্দুক রাখলে ভালো হইতো। এইদিকে কি হোস্টাইল এনিমি থাকতে পারে?"

প্রফেসর হক বললেন, "মরুভূমির মধ্যে আছি ... তারপরও কিছু বলা যায় না। আশেপাশে লোকজন চলে আসতেও পারে। আর শোনো মন দিয়া! কোন প্রাণহরণ চলবে না। আমরা এখন ছয় হাজার বছর অতীতে আছি। একটা প্রাণী মারা মানে ভবিষ্যতে পুরা একটা বংশ ধ্বংস করা। খুব খিয়াল কইরা চলবা।"

খাওয়া শেষে আম্বিয়া আর মোয়াজ্জেম বেরিয়ে গেলে প্রফেসর হক আবারও বসলেন কাজে। একটা রোবট, যার নাম রাখা হয়েছে পেলিক্যান, ফিরে এসেছে কিছুক্ষণ আগে। পেলিক্যানও সূর্যের শক্তি কাজে লাগিয়ে ওড়ে, কিন্তু তার কাজ ফড়িঙের চেয়ে ভারি। সে মিষ্টি জলের সন্ধান করে তার ঠোঁটে ভরে নিয়ে এসেছে। প্রফেসর হক বসে বসে তার উড়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করতে লাগলেন। ছয় হাজার বছর অতীতে জিপিএস ট্র্যাকিঙের সুবিধা নেই, তাঁকে অতি আদিকালের সার্ভে প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে পেলিক্যানের গতিপথ হিসাব করতে হবে, দেখতে হবে জলের খোঁজ সে এই মরুভূমি থেকে কোথায় কত দূরে গিয়ে পেলো। এরকম আরো কয়েকটা পেলিক্যান চারদিকে ছড়িয়ে আছে, তারা ফিরলে আশেপাশে জলের উৎস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

কাজ করতে করতেই প্রফেসর হক শুনতে পেলেন, মোয়াজ্জেম ধমকাচ্ছে আম্বিয়াকে, "আমি এই হেভি হেভি খাটনি খাটমু, আর তুমি মাদার্চোদ বইয়া বইয়া আরাম করবা? চলো আমার লগে! হাত লাগাইবা না মানে? চাইর হাত পায়ে কাম করামু তোমারে দিয়া, ইউ ব্লাডি ফুল ... !"

প্রফেসর হক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে লগবুক খুলে মোয়াজ্জেমের নামে বারোটা লাল ঢ্যাঁড়া কাটলেন।

৪.
নবম দিনের মাথায় ফিরে এলো প্রথম ফড়িংটা।

প্রফেসর হক ছবিগুলি দেখে গম্ভীর মনে গোঁফ চোমড়াচ্ছিলেন, আম্বিয়া হন্তদন্ত হয়ে আবার মোয়াজ্জেমের নামে বিচার নিয়ে এলো।

"স্যার, আইজকা এই খবিশ আমারে বৈতল ডাকসে স্যার!" আম্বিয়া উত্তেজিত কণ্ঠে বলে।

প্রফেসর হক বিরক্ত হয়ে বলেন, "বৈতল কী?"

আম্বিয়া বলে, "এইটা স্যার একটা খুবই খরাব গালি।"

প্রফেসর হক বলেন, "আম্বিয়া যাও তো, কাম করো গিয়া। আমারে কাম করতে দ্যাও।"

আম্বিয়া স্ক্রিনে ছবিগুলি দেখে চমকে উঠলো। "স্যার, এইগুলি কোথাকার ছবি?"

প্রফেসর হক বললেন, "আমার হিসাব বলতেসে মিশরের।"

আম্বিয়া থতমত খেয়ে দেখতে থাকে ছবিগুলি।

প্রফেসর হক ছবিগুলি দেখে কিছুতেই হিসাব মেলাতে পারেন না। ছবিতে নদী আছে, গাছপালা মরুভূমি পাথুরে প্রান্তর সবই আছে, কিন্তু কোন লোকালয় নেই। অথচ কোঅর্ডিনেট যা হিসাব করে বার করেছেন তিনি, তাতে করে এখানে প্রাচীন মিশরীয়দের বেশ কিছু নগরাঞ্চল থাকার কথা।

আম্বিয়া মাথা চুলকাতে চুলকাতে বেরিয়ে যায়।

খানিক বাদেই মোয়াজ্জেম এসে বললো, "স্যার, এই মিশনে আসলে একজন লেডিস দরকার ছিলো। এই অমানুষ আম্বিয়ার বদলে স্যার কোন মিস চম্পা-চামেলিকে যদি নিতেন, সময়টা ভালো কাটতো। রোজ এই কুইড়া বদমাইশটার মুখ দেখতে হয় ঘুম থিকা উইঠা!"

প্রফেসর হক গম্ভীর হয়ে যান। "মোয়াজ্জেম, কোন কাজের কথা বলবা?"

মোয়াজ্জেম গোমড়া মুখে বলে, "না স্যার। সুখদুঃখের আলাপ করতে আসছিলাম আপনার সাথে। আম্বিয়া অমানুষটার সাথে তো আসলে কথা বলা যায় না। সে বুঝে গাইল আর মাইর। আপনি ব্যস্ত, বুঝি নাই স্যার। আসি এখন।"

মোয়াজ্জেম বেরিয়ে যাবার পর প্রফেসর হক লগবুক খুলে মোয়াজ্জেমের নামে পাঁচটা লাল ঢ্যাঁড়া দিয়ে রাখেন।

৫.

পরের পাঁচ দিনে ফিরে এলো বাকি ফড়িংগুলিও। কিন্তু ফলাফল কম বেশি এক। লোকালয়ের কোন চিহ্ন নেই।

সবচেয়ে অস্বস্তিকর ছবি রাতের। আগুনের কোন নমুনাই নেই কোন ফড়িঙের ছবিতে। এর একটাই অর্থ, মানুষের কোন বসতি নেই। অথচ প্রফেসর হক হিসেব করেই ফড়িংগুলিকে পাঠিয়েছেন।

আম্বিয়া আর মোয়াজ্জেম প্রফেসর হকের অস্থিরতা দেখে আর বিরক্ত করলো না তাঁকে।

মোয়াজ্জেম বাইরে বেরিয়ে এসে সিগারেট ধরিয়ে বললো, "আম্বিয়া, ডার্লিং, সমস্যাটা কী?"

আম্বিয়া দাঁত খিঁচিয়ে বললো, "আশেপাশে কোন মানুষ নাই।"

মোয়াজ্জেম বিড়বিড় করে বললো, "ড্যাম! মানুষ না থাকুক, মেয়েমানুষ থাকা উচিত ছিলো! আর কত?"

আম্বিয়া সন্দিহান চোখে মোয়াজ্জেমকে দেখতে দেখতে বলে, "মতলব কী তোমার?"

মোয়াজ্জেম গালে হাত ঘষতে ঘষতে বললো, "আরে আশেপাশে গ্রামগঞ্জ থাকলে একটা ছেরিরে ধইরা নিয়া আসা যাইতো। অ্যামনে কইরা আর কতদিন যাইবো? একটা চাহিদা থাকে না মানুষের?"

আম্বিয়া বললো, "ঐ সাবধান! হুঁশিয়ার! কোন তাফালিং চলবো না। এইখানে একটু ঊনিশ বিশ হইলে কিন্তু আসল সময়ে পুরা খবর হইয়া যাইবো কইলাম!"

মোয়াজ্জেম হাসিমুখে পকেট থেকে একটা কনডমের প্যাকেট বার করে দেখায়। "তোমার মতো বাঙ্গু পাইসো আমারে? আমরা সচেতন। মোজা পইরা হাঁটি।"

আম্বিয়া বলে, "ফুলাইয়া বেলুন বানাইয়া কানের লগে বাইন্ধা রাখো গিয়া। স্যারে কী কইলো শুনো নাই? আশেপাশে জনমনিষ্যি নাই!"

মোয়াজ্জেম চোখ টিপে হাসে। "তাইলে রাত্রে সাবধানে ঘুমাইও!"

আম্বিয়া ফ্যাকাসে মুখে অন্যদিকে হাঁটা ধরে। মোয়াজ্জেম ঠা ঠা করে হাসে।

৬.

আরো চারদিন পর যখন বেলুনরোবট ফিরে আসে, তখন প্রফেসর হক অস্থির হয়ে ওঠেন।

বেলুন রোবটের তোলা ছবি শুধু বিস্ময়করই নয়, আতঙ্কজনকও। সে ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিস্তৃত মরুভূমির মধ্যে কিছু ইতস্তত সুতোর মতো সরু নদীর চিহ্ন, পরিষ্কার নীল নদ, মরুভূমির সীমানা পেরিয়ে নিশ্ছিদ্র সবুজ জঙ্গল, ভূমধ্যসাগর, আর তার ওপাশে ... আবারও নিশ্চিদ্র জঙ্গল। মানুষের সভ্যতার কোন চিহ্ন সেখানে নেই। রাতের বেলা তোলা ছবিতে চাঁদের আলো ছাড়া আর কোন আলোর চিহ্ন নেই। আগুন নেই কোথাও এতটুকু। নীল নদের তীরে নেই কোন বসতির চিহ্ন।

মাত্র ছয় হাজার বছর আগের কথা। অথচ কোন মানুষের চিহ্ন নেই কোথাও।

প্রফেসর হক উত্তেজিত হয়ে পায়চারি করতে লাগলেন। এমনটা হবার কথা নয়, এমনটা কখনোই হবার কথা নয়।

আম্বিয়া এসে ধরা গলায় বললো, "স্যার আমি ক্যালিব্রেশন নিজের হাতে চেক করসি। আমরা ছয় হাজার বছর আগেই আছি। কোন ভুল হয় নাই।"

প্রফেসর হক বললেন, "আকাশের ছবি তুলবা আজকে রাতে। স্টেলার ম্যাপ মিলাইয়া দেখবা ঠিকাছে কি না। কোন একটা গণ্ডগোল হইসে। নাইলে মানুষের আলামত নাই কেন?"

মোয়াজ্জেম বলে, "স্যার, ডাইনোসরের আমলে আইসা পড়লাম না তো?"

প্রফেসর হক বললেন, "না, আমাদের এনার্জি লেভেল এতো বেশি অতীতে যাওয়া সাপোর্ট করবে না।"

মোয়াজ্জেম বলে, "স্যার, তাহলে এক কাজ করি। এয়ার স্কুটার লইয়া আমি আর আম্বিয়া দুইটা চক্কর দিয়া দেইখা আসি আশেপাশে।"

প্রফেসর হক গোঁফ চোমড়ান। "খাড়াও, স্টেলার ম্যাপ মিলাইয়া দেখি। আকাশের তারাগুলি ছয় হাজার বছর আগে যেমন থাকার কথা, যদি তেমনই থাকে, তাহলে আমরা ঠিক সময়ে আছি।"

৭.
সকালে নাস্তা খাওয়ার সময় আম্বিয়া জানালো, স্টেলার ম্যাপ নির্ভুল। ছয় হাজার বছর আগেই আছে টাইমশিপ।

মোয়াজ্জেম বললো, "স্যার, তাহলে অনুমিত দেন। চক্কর দিয়ে আসি।"

প্রফেসর হক বললেন, "ঠিক আছে। কিন্তু ভূমধ্যসাগর পার হইও না। মিশরের উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত রেঞ্জটা দেইখা আসো খালি। লুক্সর থিকা মেমফিস ... এর মধ্যে কিছু না কিছু থাকা উচিত।"

মোয়াজ্জেম বললো, "পিরামিডের আশেপাশে কি নামতে হবে স্যার?"

প্রফেসর হক বললেন, "পিরামিড বানাইতে মানুষের আরো দুই হাজার বছর সময় লাগবে। শনের ঘর পাইলেই আমি খুশি। দেখো কী পাও।"

এয়ার স্কুটারও একটা বেলুন, তার সাথে একটা শক্তিশালী ইমার্জেন্সি জেট আছে শুধু। বাকিটা সময় সৌরবিদ্যুত চালিত একটা ছোট মোটর দিয়ে সেটা নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

মেমফিস আর লুক্সর, কোন দিকে কে যাবে, তা নিয়ে মোয়াজ্জেম আর আম্বিয়ার মধ্যে একটা তর্ক পাকিয়ে উঠছিলো, প্রফেসর হক ঝাঁঝিয়ে উঠে মোয়াজ্জেমকে উত্তরে মেমফিসে যাবার হকুম দিলেন। মোয়াজ্জেম কাঁধ ঝাঁকিয়ে রাজি হয়ে গেলো।

প্রফেসর হক দু'জনকে সাতদিনের রসদ দিয়ে বিদায় জানালেন। এই সাতদিন তাঁকে একা একা এই বিরাট নির্জন মরুভূমিতে বসে বসে ছবিগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে।

কেবিনে ঢুকে প্রফেসর হক দরজা আটকে আবার বসলেন কম্পিউটারের সামনে। তাঁর সার্ভের তথ্যে কোন ভুল নেই, এ নিয়ে তিনি মোটামুটি নিঃসন্দেহ, মরুভূমির মাঝে মিশনের আগে এ নিয়ে পুরো একটি মাস তিনি পরীক্ষা করেছেন, স্যাটেলাইটের ডেটার সাথে মিলিয়ে ক্যালিব্রেট করেছেন সবকিছু। কাজেই ফড়িঙের তোলা ছবিগুলি ভুল ঠিকানার নয়, তিনি নিশ্চিত। বেলুন থেকে তোলা ছবিগুলিতে তো দুই মহাদেশের সব কিছুই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু কোন ছবিতেই মানুষের বসবাসের কোন চিহ্ন নেই। এমন তো হতে পারে না।

তিনি আবার সব ছবি খুলে মন দিয়ে দেখতে লাগলেন এক এক করে।

৮.
ছয় দিনের মাথায় ফিরে এলো আম্বিয়া। ভয়ানক উত্তেজিত সে।

"স্যার, মাত্র একজন মানুষ পাইসি স্যার!" বেলুন থেকে নেমেই হাঁপাতে হাঁপাতে বললো সে।

প্রফেসর হক ছুটে এলেন, "ছবি কই?"

আম্বিয়া ক্যামেরা এগিয়ে দিলো। প্রফেসর হক বললেন, "স্কুটারটা প্যাক কইরা আসো আমার কেবিনে। শুনি কী ঘটসে।"

ক্যামেরা থেকে ছবি নিয়ে স্ক্রিনে দেখতে লাগলেন প্রফেসর হব। আম্বিয়া এক মগ চা হাতে ঢুকলো কেবিনে।

আম্বিয়ার দূর পাল্লার শক্তিশালী লেন্সে নিখুঁতভাবে ধরা পড়েছে মানুষটা। মাঝারি গড়ন, মুখে দাড়িগোঁফ, প্রায় উলঙ্গ, পরনে শুধু একটা লতাপাতার কৌপিন। গায়ের রং কালচে, চেহারার গড়ন আবিসিনীয়দের মতো। সব ছবিতেই তার হাত খালি। কোন অস্ত্র বা যন্ত্র নেই হাতে।

"মাত্র একজনরেই পাইলা?" প্রফেসর হক হতাশ হয়ে বললেন।

"জ্বি স্যার।" আম্বিয়া সড়াৎ করে চায়ে চুমুক দেয়।

"লোকটার সাথে যোগাযোগের কোন চেষ্টা করো নাই?"

"না স্যার।" আম্বিয়া চা খায় মন দিয়ে।

"ক্যান?"

আম্বিয়া হাসে। "স্যার, আমি যদি বেলুন থিকা নাইমা ওরে কিসু বলতে যাইতাম, ও আমারে দেবতা মনে কইরা পূজা শুরু করতো। তারপর স্যার আমরা আসল সময়ে ফিরলে দেখা যাইতো সারা দুনিয়ায় আমারে লোকে প্রাচীন দেবতা হিসাবে চিনে!"

প্রফেসর হক মাথা দোলান। "হুমম। খুব সত্য। ভালো করসো যোগাযোগ না কইরা। তাছাড়া লোকটা তোমারে মাইরও দিতে পারতো।"

আম্বিয়া ঢোঁক গেলে। "জ্বি স্যার। জংলি তো।"

প্রফেসর হক বলেন, "আশেপাশে কোন বসতি পাও নাই?"

আম্বিয়া বললো, "না স্যার। ছবিগুলি দেখেন একটু ... সব কমবেশি ফড়িঙের ছবির মতোই। একটা কোন ঘরবাড়ি নাই স্যার। দালানকোঠা ক্ষেতখামার কিচ্ছু নাই।"

প্রফেসর হক বলেন, "তাহলে এই লোকটা একা একা ঘুরতেসে ঐ জায়গায়?"

আম্বিয়া বললো, "জ্বি স্যার। ওরে আমি সারাদিন ফলো করসি। পুরাই জংলি স্যার। টিলার গায়ে একটা গর্তের মধ্যে থাকে। সারাদিন ঘুরেফিরে, ফলমূল খায়, খোলা ময়দানের মধ্যে পেচ্ছাপপায়খানা করে। পুরাই অসভ্য স্যার।"

প্রফেসর হক বলেন, "হুমম। দেখি মোয়াজ্জেম কী খবর আনে।"

আম্বিয়া কিছু বলতে যাচ্ছিলো, এমন সময় কেবিনের দরজায় টোকা পড়লো।

আম্বিয়া কেবিনের দরজা খুলে দিতেই হাস্যোজ্জ্বল মোয়াজ্জেম কেবিনে ঢুকলো দুপদাপ করে। "স্যার, দেখেন কী নিয়ে আসছি!"

প্রফেসর হক ভুরু কুঁচকে মোয়াজ্জেমের পেছন পেছন বাইরে বেরিয়ে এসে ধাক্কা খেলেন।

মোয়াজ্জেম বেলুনে করে এক তরুণীকে নিয়ে এসেছে সাথে। তরুণীর গায়ের রং ভূমধ্যসাগরীয়, খাড়া নাক, কালো চোখ আর চুল, পরনে লতাপাতার সংক্ষিপ্ততম পোশাক।

প্রফেসর হক মোয়াজ্জেমের কলার চেপে ধরে বললেন, "তুমি কোন বুদ্ধিতে এই মেয়েকে তুইলা নিয়া আসলা?"

মোয়াজ্জেম লজ্জিত মুখে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো, "স্যার, কী করবো, বলেন? একা একা ঘুরতেসিলো মেয়েটা। আশেপাশে জনমনিষ্যি নাই। আমিও স্যার একটু বোরড হইয়া গেসিলাম, ভাবলাম নিচে নাইমা গল্পসল্প করি।"

প্রফেসর হক প্রচণ্ড এক ধমক দিয়ে বললেন, "গল্পসল্প মানে? তুমি এর ভাষা জানো যে গল্পসল্প করবা?"

মেয়েটা ভড়কে গিয়ে বিচিত্র শব্দে ফুঁপিয়ে ওঠে।

মোয়াজ্জেম এগিয়ে গিয়ে মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেয়। তারপর বলে, "স্যার আপনি লোকটা বেরসিক। মাইয়াটারে ভয় পাওয়ায় দিলেন।"

প্রফেসর হক মাটিতে পা ঠুকে বললেন, "তুমি ওরে তুলে নিয়ে আসছো কেন কেন কেন?"

মোয়াজ্জেম একটা সিগারেট ধরালো। "স্যার, আসলে হইছে কী, দিনের পর দিন এইখানে কোন মেয়েমানুষ ছাড়া এই হাবিজাবি কাজ করতে করতে আমি বিরক্ত হইয়া গেছিলাম। তাই স্যার ভাব জমানোর জন্য মাটিতে নাইমা এই মাইয়ার সাথে একটু আলাপ করলাম। আর ভাষার কথা বলেন স্যার? দুনিয়ার একটা ভাষা সবাই বোঝে!" অশ্লীল হাসি ফুটে ওঠে তার মুখে।

প্রফেসর হকের মুখ থেকে রক্ত সরে যায় রাগে। "তুমি ... তুমি এই মেয়েরে ... এই মেয়ের সাথে ... ?"

মোয়াজ্জেম লাজুক হাসে। "জ্বি স্যার। তবে স্যার দোষ আমার না। ঈভ স্যার ঐ জায়গায় একা একা ঘুরতেসিলো, আশেপাশে লোকজন নাই, আমি স্যার নামতে না নামতেই আইসা আমারে জাপটাইয়া ধরছে। আমি কী করুম কন?"

আম্বিয়া এসে ফুঁসে ওঠে, "মিছা কথা স্যার! মোয়াজ্জেম স্যার ধান্ধাতেই ছিলো আশপাশ থিকা মাইয়া তুইলা আনার। ওর পকেটে আপনি কনডম পাইবেন স্যার, খুঁইজ্যা দ্যাখেন!"

প্রফেসর হক আম্বিয়ার কথা শোনেন না. বিস্ফারিত চোখে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ধরা গলায় বললেন, "মোয়াজ্জেম, তুমি মাইয়াটার নাম কী কইলা?"

মোয়াজ্জেম বলে, "ঈভ, স্যার!"

প্রফেসর হক ধীর গলায় বলেন, "ক্যামনে জানলা ওর নাম ঈভ?"

মোয়াজ্জেম বলে, "স্যার, এইটা টারজান দেইখা শিখছিলাম। ঐ যে জেইন গিয়া বলে আই অ্যাম জেইন, ইউ আর টারজান ... তারপর টারজান বলে আই টারজান ইউ জেইন ... ঐ কায়দায় স্যার ... কইলাম আই মোয়াজ্জেম ... ইউ? কয়েকবার জিগানোর পর মাইয়া কয়, ঈভ। ওরে ঈভ ডাকলে সাড়াও দেয়। ডাইকা দেখেন?"

ডাকতে হয় না, নিজের নাম শুনে মেয়েটা কান খাড়া করে তাকায় মোয়াজ্জেমের দিকে।

প্রফেসর হকের মুখ থেকে রক্ত নেমে যায়। হঠাৎ করেই যেন গোটা ব্যাপারটা বুঝে ফেলেন তিনি।

লুক্সরের কাছে এলোমেলো ঘুরে বেড়ানো সেই জংলি লোকটা আদম। আর মোয়াজ্জেমের বেলুনে তুলে আনা মেয়েটা ঈভ।

আশেপাশে কোন জনবসতি নেই, কারণ আশেপাশে কোন জন নেই। মানুষের সভ্যতা এখনও শুরু হয়নি। পৃথিবীতে মাত্র দুইজন মানুষ এই খ্রিষ্টপূর্ব চার হাজার সালে।

প্রফেসর হক অস্ফূটে বলেন, "আশারের ক্রোনোলজি!"

মোয়াজ্জেম বলে, "স্যার?"

প্রফেসর হক ধপ করে মাটিতে বসে পড়ে বলেন, "মোয়াজ্জেম, ঠিক কইরা বলো, এই মাইয়ারে কিসু করসো তুমি?"

মোয়াজ্জেম বুক টান করে দাঁড়িয়ে বলে, "স্যার, যদিও এইটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়, তারপরও কই। হ, করসি। প্রথম যেদিন দেখা হইলো সেইদিন চারবার, আর বেলুনে বাকিটা পথ ফিরতে ফিরতে এগারোবার। মোট পনেরোবার। আর কিছু জানতে চান?"

প্রফেসর হক মুখ ঢাকেন। পৃথিবীতে মানুষের ইতিহাস শুরু হবে যে যুগলকে দিয়ে, তারা এখনও বিচ্ছিন্ন। আদি মাতা ঈভের সাথে সঙ্গম করে বেড়াচ্ছে কোন এক মোয়াজ্জেম হোসেন। মানুষের ইতিহাস পাল্টে যেতে পারে চিরতরে। যে ভবিষ্যৎ বর্তমানে তাঁরা ফিরবেন, সে ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অন্যরকম হতে পারে। সেখানে তাঁর বা আম্বিয়ার জায়গা না-ও হতে পারে। মোয়াজ্জেমের জায়গা হয়তো হবে মানুষের জিনের গভীরে। প্রতিটি মানুষের ভেতরে থাকতে পারে মোয়াজ্জেমের জিনের স্বাক্ষর।

মোয়াজ্জেম ঝুঁকে পড়ে ডাকলো, "স্যার, ঠিকাছেন তো? কোন সমস্যা?"

প্রফেসর হক মুখ তুলে তাকিয়ে মোয়াজ্জেমকে চাপা গলায় শুধু বললেন, "মাদার্চোদ!"


গল্পে ব্যবহৃত সব ঘটনা ও চরিত্রের নাম কাল্পনিক, বাস্তবের সাথে সাদৃশ্য কাকতালমাত্র।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।