Friday, April 17, 2009

ভাস্কর্য ও স্থাপত্যকীর্তি প্রস্তাব

পাণ্ডবদার এই পোস্টটি পড়ে একটি চিন্তার উদয় হয়েছিলো মাথায়, মন্তব্যে তা শেয়ারও করেছিলাম। এখন মনে হচ্ছে এতে আরো মাংস যোগ করে পোস্ট আকারে শেয়ার করাই ভালো।

আমাদের দেশে ভাস্কর্য ও স্থাপত্যকীর্তিগুলোর মধ্যে পর্যটক আকর্ষণী শক্তি অর্জন করতে পেরেছে শহীদ মিনার আর শহীদ স্মৃতিসৌধ। এর মধ্যে শহীদ মিনার কেবল একটি ভাস্কর্য নয়, এটির প্রতীকমূল্য অপরিসীম, এটি সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃত। দূরদেশেও বাংলাদেশীরা সংখ্যা ও সামর্থ্যে গুরুত্ব অর্জন করতে পারলে নির্মাণ করে একটি শহীদ মিনার। আর সারা দেশ জুড়ে শহীদ মিনার বিস্তৃত হলেও এর মূল্যায়ন দিবসকেন্দ্রিক।

আমি প্রস্তাব করতে চাই পর্যটক আকর্ষণ করার মতো একটি ভাস্কর্য ও স্থাপত্যকীর্তির, যা

১. ঢাকা থেকে দূরে হবে (ঢাকা শহরে আর একটিও মানুষ আকর্ষণ করার মতো নির্মাণকর্মের প্রয়োজন নেই। শহরটি মানুষ ও অমানুষের চাপে কাঁপছে। একে গণধর্ষণের হাত থেকে নিস্তার দিয়ে এর ওপর থেকে মানুষ ও অমানুষের ভিড় দূর করা জরুরি)।

২. সারা বছর পর্যটনের জন্যে উপযোগী হবে। বিশেষ বিশেষ দিবসের জন্যেও এর কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে।

৩. এটি হতে হবে আলোকচিত্র-আবেদনসম্পন্ন। এর সামনে পর্যটকদের ছবি তোলার আগ্রহ হতে হবে তীব্র।

এগারোটি বালিঘড়ি সম্পন্ন একটি বিস্তৃত ভাস্কর্যখচিত স্থাপত্যকীর্তির প্রস্তাব করছি আমি। এই বালিঘড়িগুলি হবে একটি বিশাল কলামের গায়ে প্রোথিত, কলামটি সজ্জিত হবে বিভিন্ন থিমের ভাস্কর্যে। কলামগুলি থাকবে একটি চত্বরের ওপর। দশটি বালিঘড়ি নির্দেশ করবে দশক, একটি নির্দেশ করবে এক বছর। প্রতি নববর্ষে ভোরে সূর্যোদয়ের পর একবাৎসরিক বালিঘড়িটির সাতরঙ বিশিষ্ট দানাগুলোর শেষটিও নিচে নেমে আসবে, সেদিন একে ঘিরে পালিত হবে উৎসব। পরদিন ভোরে বালিঘড়িটিকে উল্টে দেয়া হবে, তাই একে ৩৬৪ দিনের আয়ু নিয়ে তৈরি করতে হবে।

দশবাৎসরিক বালিঘড়িগুলির দানা হবে ভিন্ন ও একক রঙের, এদের পূর্তি ঘিরে পালিত হবে দশকবরণ উৎসব। সূর্যের আলো এই বালিঘড়িগুলিকে পূর্ণভাবে আলোকিত করবে।

এই গোটা কীর্তিকে ঘিরে থাকবে বিভিন্ন রঙের ফুলের কেয়ারি ও সরোবর। বাংলার ঋতুভিত্তিক জল ও স্থলপুষ্পের একটি বিস্তৃত প্রোগ্রাম অনুসৃত হবে বছর ভর, ফুলের বাগানের আকৃতি ও ফুলের প্রকৃতি নিসর্গনকশাবিদ ও উদ্যানবিদেরা এক সাথে বসে ঠিক করবেন। শরতের প্রথম দিনে এই কমপ্লেক্স থেকে শুরু হবে বেলুন উৎসব, প্রকান্ড গ্যাসভর্তি রঙিন বেলুনে চড়ে সেদিন পর্যটকেরা ভ্রমণ করবেন। বছরের যে কোন সময় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থার জন্যে গোটা কম্পলেক্স থেকে কিছুদূরে গড়ে উঠবে ডরমিটরি ও রেস্তোরাঁ।

এই কেন্দ্রটি গড়ে উঠতে পারে বগুড়া বা চাঁপাইনবাবগঞ্জে, কিংবা মঙ্গাআক্রান্ত উত্তরবঙ্গের কোন উঁচু জায়গায়, যেখানে বন্যার পানি পৌঁছায় না। শারদোৎসবকে জনপ্রিয় করতে পারলে, ফসলশূন্য কার্তিকে পর্যটনই হতে পারে স্থানীয়দের আয়সংস্থানের একটি বড় উৎস।

আপনাদের মতামত জানান। ধন্যবাদ।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।