Friday, June 26, 2009

ফুটোস্কোপিক গল্প ০১৪

ফুটোস্কোপিক গল্প হচ্ছে ফুটোস্কোপ দিয়ে দেখা গল্প। সামান্যই দেখা যায়।

...

মোবাইলে বেজে উঠলো "রূপভানে নাচে কোমর দুলাইয়া"। রবি হাত বাড়িয়ে ফোনটা তুলে নিলেন।

"রবি চৌধুরী বলছেন?" ওপাশ থেকে খনখনে গলা ভেসে আসে।

রবি থতমত খেয়ে বললেন, "না ... কোন নাম্বারে ডায়াল করেছেন বলুন তো?"

ওপাশ থেকে খনখনে গলা নাম্বারটা আওড়ায়।

রবি বলেন, "নাম্বার তো ঠিক আছে। কিন্তু আমি তো চৌধুরী নই।"

খনখনে গলা বলে, "আমারই ভুল। থুক্কু। গলতি সে মিসটেক হো গ্যয়ি। ... আমি বিজ্ঞাপনী সংস্থা ধারাগোল অ্যাডভার্টাইজিং থেকে বলছি।"

রবি ধারাগোল নামটা নোট করে রাখেন প্যাডে। বেশ নামটা। কোন গল্পে ব্যবহার করা যাবে'খন। "হ্যাঁ, বলুন?"

"খবর-টবর পড়েন, নাকি শুধু কোবতে রচনা-ই করেন?" খনখনে গলা শুধায়।

রবি একটু গম্ভীর হন। "দেখুন, কী চান এই বেলা বলে ফেলুন ঝটপট। জলখাবার খেয়ে আবার জিমে যেতে হবে, সেখান থেকে আজিজে ... ফিরে এসে ফেসবুকে দু'চার গণ্ডা মামদোকে পেঁদিয়ে বিষ ঝাড়তে হবে ... ম্যালা কাম।"

খনখনে গলা বলে, "কালো টাকা সাদা করার মোচ্ছব লেগে গেছে। টাকায় দু'আনা করে দণ্ডি দিয়ে সব কালো টাকা কেচে সফেদ করা যাবে আগামী তিন বছর'তক।"

রবি উদাস গলায় বলেন, "তাতে আমার কী?"

খনখনে গলা বললো, "আপনার কিছু না মশাই, খদ্দেরদের তো পোয়াবারো। এই টঙ্কাধোলাই নিয়ে ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে এখন হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে, একের পর এক মুৎসুদ্দিগিরির সার্ভিস অফার করছে তারা, ফাঁকতালে দু'পয়সা কমিশন খেতে চায়। সে খবরই তারা বিজ্ঞাপন বাজিয়ে জাহির করতে ক্ষেপে উঠেছে অ্যাকেবারে। আমাদের কারবার রমরমা। আপনাকে একটা কোবতে লিখে দিতে হবে এ নিয়ে। টিভিতে আর এফএম রেডিওতে যাবে বিজ্ঞাপনের সাথে। একটা কালা সাঁওতাল ছেমরিকে ব্যাঙ্কের দরজা দিয়ে ঢুকিয়ে দোবো, আর বেরিয়ে আসবে ধলা মডেল সোনালিমা ...।"

রবি দোনোমোনো করতে লাগলেন। "দেখুন, এসব নিয়ে লেখাটা আমার ঠিক আসে না, বুঝলেন ...।"

খনখনে গলা খনখন করে ওঠে, "আরে মশাই, আপনি বললেই হবে নাকি? একটা বিড়ি ধরিয়ে টয়লেটে যান, হুড়হুড়িয়ে পদ্য বেরোবে মাথা থেকে। এখন রাখি, সন্ধ্যে বেলা একটা ছোকরাকে পাঠাবো, তার হাতে দিয়ে দেবেন। কালো টাকা নিয়ে কবিতা, এ আর এমন কঠিন কী? খুদাপেজ!"

রবি ফোন নামিয়ে আড়মোড়া ভেঙে খাট ছেড়ে ওঠেন। তারপর একটা ক্যাপস্টান সিগারেট ধরিয়ে টয়লেটে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেন ঘটাশ করে।

ঘন্টা আধেক পর বেরিয়ে কাগজ কলম টেনে বসেন তিনি। আসলেই, সক্কালবেলাটা বিড়ি হাতে ওদিকটায় গেলে কবিতা যে কীভাবে বোল ফোটায় হাতে আর খাতার পাতে!

আসলেই তো। টাকার আবার সাদা-কালো কী? টাকা কি ভাগ্নের বিয়ের জন্যে দেখতে যাওয়া মেয়ে, যে কালো হলেই নাক সিঁটকাতে হবে? যতসব গাঁইয়া মানসিকতা!

নিবিষ্ট মনে তিনি লিখতে থাকেন,

"কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক
দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ
কৃষ্ণকলি আমি তারে বলি ...।"

...


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।