Wednesday, June 24, 2009

স্যার গো, দরপত্র জমা দেয়ার ব্যাপারটিকে ডিজিটাল করা যায় না?

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট যখন ক্ষমতার লঙ্কায়, তখন আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ডধারী রাবণসোনারাই পাঁচবছর দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে বলে মনে হচ্ছে। দিন বদলের সূচনা। গত সাত বছর তারা দৌড়ের উপর ছিলো, এখন আবার ঈশ্বর চোখ টিপে আশ্বস্ত করছেন তাদের, দিন বদলাইসে না? সরাসরি আওয়ামী লীগের দলীয় ক্ষমতাবলয়ে না থাকলে দেশের বাকি ব্যবসায়ীদের কপালেও দিন বদল ঘটবে। পত্রিকায় এমন একজন দিনবদলের কবলে পড়া ব্যবসায়ী মশিউর রহমানের খবর পড়লাম।

এই ইতিহাস পুনরাবৃত্ত হতে হতে হয়রান হয়ে এখন বটগাছের ছায়ায় জিরিয়ে নিচ্ছে। এর আগে জোট সরকারের সময় এই কাজগুলি করেছে তাদের পাণ্ডারা। তার আগে করেছে লীগের পাণ্ডারা। তার আগে করেছে বিএনপির পাণ্ডারা। তার আগে করেছে এরশাদের পাণ্ডারা। তার আগে ... ।

যেহেতু অ্যানালগের সানডে-মানডে কোলোজ করে মহাজোট সরকার বাংলাদেশকে ডিজিটাল যুগে ঢোকাতে চান, তাহলে এই দরপত্র জমা দেয়ার প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটাল করা হোক না কেন? ব্যাপারটি আহামরি জটিল কিছু হবে না, একটি ইলেকট্রনিক ফর্ম ওয়েবসাইটে তুলে দেয়া হবে, সেটির বিপরীতে ব্যাঙ্কে টাকা জমা দেয়া হবে। ব্যাঙ্ক আবার একটি কোড সরবরাহ করবে, যেটি ঐ ফর্মে পূরণ করতে হবে। স্বাক্ষরের পরিবর্তে ব্যবহৃত হতে পারে ঠিকাদারদের কোন কেন্দ্রীয় নিবন্ধনের বিপরীতে পিনকোড বা এমনই কিছু, যা যাচাই করা হবে সার্ভারের ডাটাবেজ বরাবর। জমা পড়লে একটি টিকেট নম্বর পাঠিয়ে দেয়া হবে তাঁদের ইমেইল ঠিকানায়, যেটি পরবর্তীতে এর রসিদ হিসেবে আইনের চোখে বিবেচিত হবে। এরপর বাংলাদেশের যে কোন জায়গায় বসে অন্য যে কোন জায়গার কাজে যাতে দরপত্র জমা দেয়া যায়, সেজন্যে একটি কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট খোলা হবে, যেটির সার্ভার একটি চরম সুরক্ষিত জায়গায় স্থাপন করা হবে। কোন শুয়োরের বাচ্চা ক্যাডার সেখানে গিয়ে বাগড়া দিতে পারবে না।

সরকার কি এমন একটি ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করতে পারেন না? মনে হয় পারেন না। পারলে দেশটার হেঁটোয় কণ্টক আর ওপরে কণ্টক দিয়ে ডালকুত্তাদের মাঝে বণ্টক করার সুযোগ কমে যাবে। যে দলই আসুক না কেন, ভোটের পরোয়া তারা করে না, ডালকুকুরের খোরাক আগে জোগানো চাই।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।