Wednesday, June 17, 2009

মুহিত বলে, টাকার কী রং সংসারে

দেশে ফিরতে হবে। ফিরতে হয়। খুব যে টানে সবাই ফেরে, তা নয়। সবাই ফেরেও না। নিজের কথা বলতে পারি, দেশে ফেরার টান আমার মধ্যে কাজ করে না। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সেই দুর্বল অভিকর্ষকে আরো সবল লাথি মেরে বুলন্দ করে তুললেন।

নিজের সততা নিয়ে বড়াই করার পরিস্থিতি বোধহয় কারোই নেই। ডানে বামে সচেতন আর অবচেতন ধান্ধায় নিঃসন্দেহে অনেক ফাঁকিবাজি করেছি। কিন্তু অর্থমন্ত্রী আমাকে বিপদে ফেলে দিয়েছেন টাকার রং নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া করে। পূর্বপুরুষদের মধ্যে ঘোর দ্রাবিড়দের উপস্থিতির কারণে আমার গাত্রবর্ণ ঘরে কিছু অতিরিক্ত বাতির নিয়োগ দাবি করলেও, আমার টাকার রং ধবল। আমাকে তাই অতিরিক্ত কর গুণতে হবে দেশে গেলে, পদে পদে অতিরিক্ত গুণাগার গুনতে হবে সৎ আয়ের জন্য।

আমার পিতা বহু সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সংকীর্ণ পথে হেঁটে তাঁর সন্তানদের মানুষ করেছেন মুখে রক্ত তুলে। মৃত্যুর সময় আমার মায়ের জন্যে রেখে গিয়েছিলেন কঠোর স্বভাবের পুত্রকন্যাকে, আর আমাদের জন্যে রেখে গিয়েছিলেন আমাদের ঘাতসহা মা-কে। আজও আমরা আমাদের কৈশোর শেষে ঘরত্যাগী বাবার লিগ্যাসিই বহন করে চলছি, ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছি সবাই। আমি যদি আজ দেশে ফিরে কয়েক বছর শান্তসুবোধের মতো সৎ উপার্জনে মগ্ন হয়ে তারপর কোনমতে একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই কিনতে চাই, জনাব মুহিত, পারবো না। আপনি সেই সুযোগ রাখেননি। আপনি বলে দিয়েছেন, কালো টাকা আবাসন খাতে ব্যয় করলে কেউ খোঁজ নিতেও যাবে না। দেশে বহু বহু কালো টাকার মালিক খানকির পোলারা আমার সামনে দিয়ে শেষ বাড়ি-ফ্ল্যাট-প্লটটা কিনে নিয়ে যেতে পারবে কয়েকবার, বাড়িঘরের দাম চড়চড় করে বেড়ে যাবে, তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবো আর দরদর করে ঘামবো। আমি এর প্রতিকার চাইতেও পারবো না। কারণ দেশে কোন আইনেই নাকি এর বিরুদ্ধাচরণ করা চলবে না।

শেষ পর্যন্ত ঐ সংসদে বসে আপনারা সব কালোদের জন্যই আইন বানান। শুধু আমাদের কালো মুখগুলি আপনাদের চোখে পড়ে না। ছ্যাড়ছ্যাড় করে মুতে দিলাম এই নিয়মের উপর, স্যার। আপনারা বাকিটা জীবন আমার মাতৃভূমিকে এইসব কালো-বাঁচানো আইন বানিয়ে বলাৎকার করে শেষ করে দিবেন, এই সত্যটা বুঝতে আমাদের মতো ভোদাইদের শুধু দেরি হয়ে যায়। সাড়ে চার বছর পরে আবার ভোট চাইতে আইসেন আমাদের দরজায়, লাত্থি মেরে বের করে দিবো।

[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।