Wednesday, June 10, 2009

পিনাকবাবুর কারণসুধা

পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করতে গিয়ে যে বাকচপলতা দেখাচ্ছেন, তা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমার গায়ে জ্বালা ধরানোর জন্যে যথেষ্ঠ। ছোট দেশের বড় প্রতিবেশীর রাষ্ট্রদূত একটু হামকিধামকি দিয়ে থাকেন, আর এ তো ভারতরাষ্ট্র, তার রাষ্ট্রদূত যে রক্তচক্ষু মেলে কটমটিয়ে আশপাশে তাকাবেন, তা আর বিচিত্র কী? কিন্তু উজানে বসে যথেচ্ছ নদীর ওপর বাঁধ বসানো নিয়ে প্রতিবেশীকে মান ভাষায় ধমকানোর এই উদাহরণ আমার চামড়ায় এসে বিঁধছে।

খবরে পড়লাম, টিপাইমুখ বাঁধে নাকি নদীর পানি আটকে রাখা হবে না, কৃষিকাজে ব্যবহার করা হবে না, অন্যত্র স্থানান্তর করাও হবে না। সামনীতি আর দাননীতির ললিতবুলির পর পিনাকবাবু দণ্ডনীতির মুগুরখানাও বার করে দেখালেন, আন্তর্জাতিক কোন আইন নাকি নেই, যার বলে বাংলাদেশ ভারতের কার্যকলাপকে বেআইনী বলে দাবি করতে পারে। আমাদের পক্ষ থেকে বিরোধিতার নাকি কোন কারণ নেই। কারণসুধা সবই ভারতের গেলাসে। হাতে তেনার মুগুর আছে, তায় কি হেথায় থাকবে না, মুগুর তেনার হালকা এমন মারলে মোদের লাগবে না!

পিনাকবাবু, কোন আন্তর্জাতিক আইন তো নাই। বাঁধ বানানোর পর আপনারা নদীর পানি আটকে রাখলে, কৃষিকাজে ব্যবহার করলে, অন্যত্র সরিয়ে নিলেও তো দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের কিছু বলার থাকবে না। তখন আপনি চোখ লাল করে এসে ধমক দিয়ে কি প্রতিবেশী দেশের পাবলিককে চুপ করাতে পারবেন?

টিপাইমুখ বাঁধ বরাক নদীর ওপর শুধু না, ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের ওপরও বাঁধ। এই বাঁধ নির্মাণ শুরু হলে বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে ভারতীয় পণ্য ঢালাওভাবে বর্জনের জন্য অন্যকে উৎসাহিত করাই আমার পক্ষে একমাত্র সম্ভাব্য প্রতিরোধের উপায় হবে। পিনাকবাবুর ধমকাধমকি আবারও পত্রিকায় পড়তে পেলে, আমি আমার অবসর সময়টুকু সেই কাজে ব্যয় করা শুরু করবো।

[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।