Wednesday, April 29, 2009

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে তথ্য

চিন্তাগুলি কিছুটা বালখিল্য, কারণ আমি ধরে নিচ্ছি এই প্রস্তাব যাদের প্রতি উদ্দিষ্ট, সেই মহামহিম "কর্তৃপক্ষ" আসলেই দুর্নীতির সানডেমানডেকোলোজকরণে আগ্রহী।

প্রথম ধাপঃ

প্রতিটি নাগরিককে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার জন্যে একটি মৌলিক বারো ডিজিটের নাম্বার প্রণয়ন করা। একটি ইলেকট্রনিক মেমরি কার্ডে এ তথ্য থাকবে।

শেষ। দুর্নীতির বিরুদ্ধ জেহাদ তো এখানেই শেষ! প্রতিটি নাগরিকের জন্য যে কাজ করতে হবে, সেই কাজের মধ্যেই তো দুর্নীতির বীজ পোঁতার বুদ্ধি দিয়ে দিলাম! এই নাম্বার প্রণয়নের জন্য লাগবে জনবল, যন্ত্রপাতি। তার জন্য টেন্ডার কল করতে হবে। সেইখানে এক দফা দুই দফা তিনদফা চুরিদারি হবে।

হোক। তারপরও প্রতিটি নাগরিককে আলাদা করে চিহ্নিত করা জরুরি। জন্মনিবন্ধন, ভোটার রেজিস্ট্রেশন, সব কাজকে সমন্বয় করে হলেও এই কাজ করা হোক। এর জন্যে পাঁচ বছর সময় লাগলেও কবুল।

দ্বিতীয় ধাপঃ

আয় নিয়ে খোঁজখবর করতে গিয়ে এনবিআর হয়রান। এইবার তাদের ঘাড়ে চাপানো হোক নতুন ঝামেলা। ব্যয়ের খোঁজখবর। বিশেষ কিছু পণ্য আইন করে তথ্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে দেয়া হোক। কাজের সুবিধার কথা চিন্তা করে এই থ্রেশোল্ড নির্ধারণ করা যেতে পারে। আপাতত একে ২০,০০০ (কুড়ি হাজার) টাকা ধরে নেয়া যেতে পারে। দশ হাজার টাকার অতিরিক্ত দামের যে কোন জিনিস বিক্রি করতে হলে বিক্রেতাকে ক্রেতার কিছু তথ্য নিবন্ধন করতে হবে, এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারের ব্যয় পর্যবেক্ষণ অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ব্যাপারটা মোটেও কঠিন না, একদমই না। বললে আমাদের এনকিদু আর স্পর্শ মিলে এরকম একটা সিস্টেম দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।

হ্যাঁ, ঐ তথ্যের মধ্যে একটা থাকবে ঐ বারো ডিজিটের নাম্বার।

তৃতীয় ধাপঃ

বছর শেষে দেখা হোক কে কেমন খরচ করেছে। তারপর দেখা হোক তার সেই পরিমাণ খরচের এখতিয়ার আছে কি না। এখতিয়ার নির্ধারণ করা যেতে পারে সাদা আয় দিয়ে। অসামঞ্জস্য চোখে পড়লেই ব্যবস্থা।

কিন্তু যারা ব্যবস্থা নেবে, তারাই যদি নয়ছয় করে?

তাদেরও তো কার্ড থাকবে। থাকবে নাম্বার। থাকবে ব্যয়ের হিসাব। আয় নাহয় লুকিয়ে রাখলো, ব্যয় লুকাবে কিভাবে? কোন শুয়োরের বাচ্চা দুর্নীতিবাজ তো খরচ না করে বসে থাকে না।

এরপর দেখা যাক, ফকিরের দেশে কয়টা বিএমডব্লিউ চলে।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।