Monday, April 13, 2009

পাডারবর্ন

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রটিকেট দিয়ে বিনাপয়সায় একটা বড়সড় জায়গা জুড়ে চলাফেরা করা যায়। সাম্প্রতিক সেমেস্টারে সেই জায়গার সীমা আরেকটু বেড়েছে। উত্তরে পাডারবর্ন শহর পর্যন্ত ট্রেনে এখন এই টিকেট দেখিয়ে যাতায়াত করতে পারবো।

পাডারবর্নে আগেও গিয়েছি, শহরটা ঘুরেও দেখেছি, তবে ততক্ষণে আলো কমে এসেছিলো। এবার ঠিক করলাম, ক্যামেরা নিয়ে শুধু ছবি তোলার জন্যেই চক্কর দেবো ওখানে। ইরিনাকে জিজ্ঞেস করতেই সে একপায়ে খাড়া।

বিষ্যুদবার ট্রেনে চড়লাম সকালে। কাসেলে তখন গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। তবে হোফগাইজমার পার হবার পর আকাশ পরিষ্কার হয়ে এলো। হেসেন প্রদেশ ছেড়ে যখন নর্ডরাইনভেস্টফালেন-এ পা রাখলাম, তখন আকাশ পুরো পরিষ্কার। আপসোস হলো, কেন ট্রাইপডটা সাথে করে নিয়ে এলাম না, কিছু দারুণ এইচডিআর এর খোরাক তোলা যেতো।

পাডারবর্ন শহরটা পাডার নদীর উৎসস্থল (পাডারবর্ন মানেও তা-ই)। নদী কথাটা শুনলে আমরা যা ভাবি, এ মোটেও তেমন কিছু নয়, শহরের ভেতরে এই নদী ধরে লোকে পায়ে হেঁটেও এগোতে পারবে। নদীটা মাটির নিচ থেকে বেরিয়েছে, প্রস্থ বড়জোড় পাঁচ মিটার হবে, স্বচ্ছ টলটলে জল, দুই পার বাঁধানো, নদীর পারে পায়ে হাঁটার পথ, চেস্টনাট আর ম্যাগনোলিয়া গাছের সারি, নদীতে ইতস্তত সাঁতরে বেড়াচ্ছে হাঁসের জুটি। নদীর পারে বসে আড্ডা দিচ্ছে বৃদ্ধবৃদ্ধার যুগল, স্কুলছুট ছেলেমেয়ে। কাসেলে চেস্টনাট গাছগুলোতে এখনও ঠিকমতো পাতা গজায়নি, পাডারবর্নে সেগুলোতে ভরপুর ঘন্টার মতো থোকা থোকা পাতা।

পাডারনদীর উৎস ছাড়া পাডারবর্নে দেখার মতো আর আছে এর ক্যাথেড্রাল আর শ্লস নয়হাউস, একটা দ্বীপপ্রাসাদ। আর বাকি শহরটাও অপূর্ব সুন্দর, অনেক ঝলমলে গীর্জা আছে, আর আছে মোড়ে মোড়ে ফুলের গাছ।

পাডারবর্নাররা সম্ভবত পণ করেছে গ্রীষ্মে পুরো শহরটাই ফুল দিয়ে সাজিয়ে রাখবে, পথের পাশে পাথরের টাবে, ল্যাম্পপোস্টের ওপর, রংবেরঙের ফুলের গাছ। নার্সিসাস, বোগেনভিলিয়া ছাড়াও নাম জানি না এমন অনেক ফুল দিয়ে বোঝাই শহর। উঁচু বিল্ডিং নেই বললেই চলে, বাসের মডেল একটু পুরনো, বাড়িঘরও পুরনো আমলের। দোকানপাট সবই রঙচঙে। কাসেলে প্রচুর বিদেশী বাস করে, কিন্তু পাডারবর্নে ভিনদেশী মুখ প্রায় নেই বললেই চলে। ইরিনা এক পর্যায়ে বলেই ফেললো, কাসেলে তার নিজেকে কখনো আগন্তুক মনে হয় না, কিন্তু পাডারবর্নে এসে তার মনে হচ্ছে সে বিদেশে আছে।

অনেকগুলি ছবি তুলেছি ঘুরতে ঘুরতে, কিছু তুলে দিলাম এখানে।


১. শ্লস নয়হাউস

শহর থেকে একটু দূরে একটা ঝিলের মধ্যে এই প্রাসাদ। এখন এটার মধ্যে একটা কারিগরী স্কুল (রেয়ালশুলে) চালু করা হয়েছে। আমরা ভেতরে ঢোকার পর একগাদা পিচ্চি এসে হাজির। একজন এসে জিজ্ঞেস করলো, "জিপিএস অস্টারআইয়ারজুখে (ঈস্টার অন্ডসন্ধান) কোথায় হচ্ছে বলতে পারেন?" ঈস্টারে এখানে সেখানে ডিম লুকিয়ে খুঁজে বার করার একটা মজার খেলা জার্মানীতে জনপ্রিয়, কিন্তু তাই বলে জিপিএস দিয়ে! প্রাসাদের ভেতরে ঢোকার পর বুঝলাম, জিপিএস ছাড়া উপায় নেই। বিশাল বাগান ভেতরে, নানা রঙের ফুলে সাজানো, আর গোটা প্রাসাদ ঘিরে ফুটে আছে হলুদ আর সাদা নার্সিসাস। ভেতরে শ'খানেক পিচ্চিকে খেলার নিয়মকানুন বোঝাচ্ছেন কয়েকজন বয়স্ক মানুষ।

২. পাডারের পারে

পাডারের পারে একটা ধাতব ভাস্কর্য আছে। নদীর পারে বছরের পর বছর কাপড় ধুয়েছেন যেসব মহিলা, তাঁদের স্মরণে এই ভাস্কর্য।



Created with flickr slideshow.

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।