Thursday, April 02, 2009

রেড মিট আর অ্যালকোহল

রেড মীট খেলে নাকি মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে। গরু, ভেড়া, খাসির মাংস তাই বিষবৎ পরিত্যাজ্য।

এ বিষয়ে বিশদ তথ্য পাই হের চৌধুরীর কাছ থেকে। পেঁয়াজ কাটতে কাটতে। চৌধুরী কথাগুলি বলেন সদ্য কেনা গরুর গোস্ত সাইজ করতে করতে।

পাতিলে তেল গরম করে কাটা পেঁয়াজ বসিয়ে চৌধুরী মাংসকে আদা-রসুন-পেঁয়াজ-মরিচের পেস্ট আর দই দিয়ে মাখাতে মাখাতে আবার রেড মীটের গল্প শুরু করেন। কোথায় এক গবেষণায় নাকি দেখা গেছে, রেড মীট খাইলে আর বাঁচন নাই। শুনি আর শিখি।

গরুর গোস্ত থেকে ঝোল বেরিয়ে যখন পুরো রান্নাঘরেই একটা পরিস্থিতি, তখন চৌধুরী আবার স্বাস্থ্যসচেতনতার মড়াকান্না শুরু করেন। রেড মীট খেলে নাকি অন্ধ হবার ঝুঁকিও বাড়ে।

মাঝে মাঝে ওয়াইন খাই আমরা। দরিদ্র লোকের ওয়াইন। টাকায় হিসাব করলে একশো চুয়ান্ন টাকা দাম পড়ে এক বোতলের। ছিপি স্ক্রু দিয়ে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে খোলার সময় চৌধুরী শুরু করেন কলিজার উপর অ্যালকোহলের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে। অনেক কথা বলেন তিনি। মাল খেলে মানুষের আয়ু কমে। কলিজা দুর্বল হয়। আরো আরো সামাজিক ইন্সট্রুমেন্টও নাকি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

গরুর গোস্ত দিয়ে তেহারি আর ওয়াইন খেতে খেতে রেড মীট আর অ্যালকোহলের বদনাম শুনে যাই চুপচাপ। চৌধুরীকেই বলার সুযোগ দিতে হয়, কারণ এই দুই মাল উনিই বেশি খান, প্রায় সারা সপ্তাহ ও মাস জুড়েই, আমি কালেভদ্রে নিজের আয়ুনাশে যোগ দেই। আর তখনই নিজেদের আয়ু নিয়ে হিসাব করে গোণাগুণতি শেষে দেখি, সাত দুগুণে চৌদ্দর চার নেমে গিয়ে হাতে রইলো শুধু পেন্সিল।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।