Friday, March 27, 2009

ফয়সাল মোস্তফার গ্রীন ক্রিসেন্ট

মার্চের ২৫ তারিখে ভোলার বোরহানুদ্দিন উপজেলার এক দুর্গম এলাকায় এক দুর্গসদৃশ মাদ্রাসা থেকে ড়্যাব-৮ এর সদস্যরা বিপুল সংখ্যক অস্ত্র-গুলি-বিস্ফোরক-জঙ্গিচটি উদ্ধারের পাশাপাশি চারজনকে আটক করেছেন। মাদ্রাসার প্রশিক্ষণার্থী ছাত্ররা বয়সে বালক ও কিশোর, এবং যে ১১জন অভিযানের সময় মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলো, প্রত্যেকেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। মাদ্রাসাটি দুর্গসদৃশ এ কারণে, একে ঘিরে গভীর পরিখা খনন করা রয়েছে, এবং ভেতরের কম্পাউন্ডটি বাইরে থেকে দেখা সম্ভব ছিলো না।

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রীন ক্রিসেন্ট নামে একটি সংস্থার আর্থিক আনুকূল্য ও দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এই মাদ্রাসা, যে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ফয়সাল মোস্তফা নামে এক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক। এ সংবাদ বৃটেনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে, এবং বৃটিশ চ্যারিটি কমিশনে নিবন্ধিত সংস্থা জঙ্গিবাদের সামরিক কর্মকান্ডে মদদ দিচ্ছে বলে নানা মহলের প্রতি ধিক্কার উচ্চারিত হয়।

গ্রীন ক্রিসেন্ট সম্পর্কে যা জানা গেলো, সংস্থাটি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বৃটিশ ও বাংলাদেশী ছাত্রদের উদ্যোগে। বৃটেনে এটি ১০৯৯২৩৩ নাম্বারে নিবন্ধিত। বাংলাদেশের একাধিক জায়গায় এবং পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে এদের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা ও হাসপাতাল রয়েছে।[২, ৩]

ফয়সাল মোস্তফা সম্পর্কে যা জানা যায়, তিনি রসায়নের ছাত্র, মেটাল ইরোশনের ওপর পিএইচডি করেছেন, ২০০৯ সালে তার বয়স ৪৫। বিভিন্ন কারণে তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলাপ্রয়োগকারীবাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন এবং নানা অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন ও শাস্তি পেয়েছেন।












১৯৯৬ সালে ম্যানচেস্টার ক্রাউন কোর্টে তাকে বাড়িতে বিস্ফোরক দ্রব্য রাখার অভিযোগ থেকে খালাস পান। কিন্তু একটি বেআইনী আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে তিনি অপরাধী সাব্যস্ত হন, তাকে ৪ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়, এবং আজীবন আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকার হারান।[১, ২]

২০০২ সালে বার্মিংহ্যামে গ্রেপ্তার হয়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনার অভিযোগ থেকে মোস্তফা খালাস পান। সহঅভিযুক্ত বাংলাদেশী-বংশোদ্ভূত মইনুল আবেদিন ২০ বছরের কারাদন্ড পান। এর পর থেকেতিনি বৃটিশ গোয়েন্দা সংস্থা MI5 এর নজরদারীতে রয়েছেন। [১, ২]

গোয়েন্দারা ২০০০ সালে বার্মিংহামের একটি ঠিকানায় আবর্জনার ঝুড়ি থেকে প্লাস্টিকের দস্তানা উদ্ধার করেন, যেটিতে HMTD নামের উচ্চশক্তির বিস্ফোরকের আলামত পাওয়া যায়। আবেদিনের Fallows Road, Sparkhill এর ভাড়া করা বাসাটি কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি রাখার জন্য ব্যবহার করা হতো। পুলিশ বাড়িটিতে রেইড করলে আবেদিনকে পাশের একটি বাড়িতে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মোস্তফাকে বার্মিংহাম নিউ স্ট্রিট রেলস্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আবেদিনের স্টোররুমে ডিটোনেটর, সালফিউরিক এসিড ও মুখে পরার মুখোশ উদ্ধার করা হয়। মোস্তফা জানান, রকেট নির্মাণে আবেদিনের আগ্রহের সূত্রে তার সাথে তিনি পরিচিত হন। [৫]


২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্টে তিনি আটক হন। দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে তিনি লাগেজে একটি গ্যাসচালিত পিস্তল আর প্রাইমারসহ ধরা পড়েন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি উল্লেখ করেন, এগুলি তিনি শিকারের উদ্দেশ্যে সাথে নিয়েছিলেন। এ অপরাধে তার সাজার আদেশ বিলম্বিত করা হয় (সাসপেন্ডেড সেন্টেন্স)। [১, ২]


সংবাদসূত্রে জানা যায়, ফয়সাল মোস্তফা ভোলার প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী মেজর (অব) হাফিজের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে।[৪]






2009_03_26_2_3_b



মাদ্রাসায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও এ সংক্রান্ত মামলায় ড়্যাব-৮ ফয়সাল মোস্তফাকে আসামী করেনি।[৪]









2009_03_27_1_2_b

2009_03_27_2_10_b


ফয়সাল মোস্তফা বিবাহিত, তিন সন্তানের জনক। [২]

গুগলম্যাপে ইংল্যান্ডে গ্রীন ক্রিসেন্টের অফিসের ঠিকানাটি দেয়া হলো।[৩]

greencrescent





[hr]
সূত্রসমূহঃ
[১] [url=http://www.guardian.co.uk/uk/2009/mar/26/chemist-terror-arrested-bangladesh]দ্য গার্ডিয়ান, ২৬.০৩.২০০৯।[/url]

[২] [url=http://www.timesonline.co.uk/tol/news/world/asia/article5972749.ece]টাইমস অনলাইন, ২৬.০৩.২০০৯।[/url]

[৩] [url=http://www.greencrescent.org/]গ্রীন ক্রিসেন্টের ওয়েবসাইট।[/url]

[৪] দৈনিক প্রথম আলো, ২৬ ও ২৭ মার্চ, ২০০৯।

[৫] [url=http://news.bbc.co.uk/2/hi/uk_news/england/1766233.stm]বিবিসি, ১৭ জানুয়ারী, ২০০২।[/url]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।