Saturday, March 14, 2009

জলহস্তী

নদীতে তেষ্টা মেটাতে যেয়ে এক হাতির সাধ হলো, সে-ও জলহস্তীদের মতো ওরকম সারাদিন নদীর মাঝে ডুবে ডুবে জল খাবে।

যে-ই ভাবা সে-ই কাজ। নেমে পড়লো সে নদীতে।

কিছুদূর যেতেই হাজির হলো গাঁট্টাগোট্টা এক জলহস্তী। খ্যাঁক করে উঠলো সে, "এইখানে কী চাস ড়্যা?"

হাতি শুঁড় বাড়িয়ে জলহস্তীর বোঁচা নাকের সাথে নাসিকামর্দন করে বললো, "আজ থেকে আমিও এখানে তোমাদের সাথে মিলেমিশে নদীতে থাকবো।"

জলহস্তী বললো, "বটে? পুরান জলহস্তী ঘাস পায় না নতুন জলহস্তীর আমদানি?" এই বলে সে মারলো এক ঢুঁশ হাতির পেটে।

হাতি ককিয়ে উঠে তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে আরেকটু সামনে গেলো। কিছুদূর যেতে না যেতেই দু'দু'টো ষন্ডা জলহস্তী তার পথ রুখে দাঁড়ালো। তাদের মুখেও সেই একই প্রশ্ন, "এইখানে কী চাস ড়্যা?"

হাতি ভয়ে ভয়ে বললো, "আজ থেকে আমিও এখানে তোমাদের সাথে মিলেমিশে নদীতে থাকবো।"

ষন্ডা দু'টো খ্যাঁক করে হাতির সামনের দুই পায়ে পেল্লায় কামড় মেরে বললো, "বটে? পুরান জলহস্তী ঘাস পায় না নতুন জলহস্তীর আমদানি?"

হাতি তাড়াহুড়ো করে আরো সামনে এগিয়ে গেলো।

কিছুদূর যেতেই সে দেখতে পেলো, একপাল মাদী জলহস্তী এক বিচিত্রমুখো জলহস্তীকে ঘিরে নানা গুনগুন গুঞ্জরণে ব্যস্ত।

হাতি তার ছোট ছোট চোখ দিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ধুপধুপিয়ে এগিয়ে গেলো।

"আরে ঘোড়া ভায়া যে!" শুঁড় বাগিয়ে খুশি খুশি গলায় বললো সে। "খবর কী?"

ঘোড়া নাক অব্দি ডুবে ছিলো জলে, সে আশপাশটা ভালো করে দেখে নিয়ে হাতির মুখ চেপে ধরলো।

"চুপ চুপ! চুপ ব্যাটা!" ঘোড়া ফিসফিসিয়ে বললো।

হাতি থতমত খেয়ে বললো, "কেন কী হয়েছে?"

ঘোড়া বললো, "আমি আর শুধু ঘোড়া নই। এখন থেকে আমি নদীর ঘোড়া। হিপোপটেমাস। বুঝলি? কী চাস এখানে? যা ভাগ!"


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।