Tuesday, March 10, 2009

ভালো লাগে না

কী যে অস্থির একটা সময়!

বইমেলার উৎসবমুখর পরিবেশ আর জমজমাট আড্ডার ঝাঁঝ নিমেষে কেটে গেলো পিলখানা হত্যাকান্ডের তান্ডবে। কয়েকদিন দেখলাম অস্ত্রের মহড়া, তারপর দেখলাম গলিত লাশের ছবি, পিলখানার একটি ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলির চেহারা পাল্টে গেলো, পাল্টে গেলো চোখ আর গাল, শুধু অশ্রু আর উৎকণ্ঠাই সব পরিবর্তনকে ঠেকিয়ে টিকে গেলো মহাকালজিৎ আরশোলার মতো। টেলিভিশনে আজ যাকে চোর বলছে কেউ, কাল তার মতোই দেখতে আরেকজন একই ফেনা মুখে নিয়ে তার বীরপূজায় মত্ত। দেখছি বিবৃতির পর বিবৃতিতে অবিব্রত এক একটা রাজনৈতিক মুখ, পড়ছি আর শিখছি কিভাবে গুজব আর উৎকণ্ঠা আলোর বেগে পার হয়ে আসছে দেশমহাদেশ।

আজ খবরের কাগজ খুলে দেখি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা দাবি করার অভিযোগ তুলেছে মেয়র পদে টিকিটপ্রার্থী এক ৩৮ বছরের কিশোর। নিচু দিয়ে চক্কর মারতে গিয়ে সেনা হেলিকপ্টার বিদ্ধস্ত হয়েছে অজপাড়াগাঁয়, কৃষক কাস্তে দিয়ে জঞ্জাল কেটে ধ্বংসস্তুপ থেকে বার করছে জেনারেলের মৃতদেহ। জনশক্তি রপ্তানির হার কমে এসেছে, মন্ত্রণালয়ের কর্তারা গম্ভীর বিষাদে জানাচ্ছেন বাইরের বাজারে বাংলাদেশী আদমের ক্রমহ্রাসমান চাহিদার কথা, হয়তো উল্টো হর্ষ নিয়ে রাজস্থানের কোন কালোয়াড় হিসেব করেছিলো বাংলাদেশের বাজারে উট আর গরুর ক্রমবর্ধমান চাহিদার কড়া-গন্ডা। এরই মধ্যে শনাক্ত করা হচ্ছে পিলখানা হত্যাকান্ডের দুষ্কৃতীদের, আইনমন্ত্রী জানাচ্ছেন কোর্ট-মার্শালের আভাস, কিন্তু পাটের মতো করে বিদ্যুৎও হাঁটু ভেঙে বসে পড়ছে অস্কার শিন্ডলার আর ভিলি ব্রান্টের মতো। এরই মাঝে লোকে পুরস্কার পাচ্ছে, খুন করে ফেরার হচ্ছে, বিনাপরাধে জেল খেটে বের হয়ে এসে প্রতিপক্ষকে খুঁজছে নির্দোষ মানুষ, যার অনেক আছে সে আরো অনেকের পেছনে ছুটতে গিয়ে এক কাতারে দাঁড় করাচ্ছে কিচ্ছু-নেইদের।

বিশাল উঁচু চারটা দেয়াল তৈরি করে ভেতরে ঢুকে যাই, যেখানে খবরের কাগজ পাবো না, যেখানে বাহিরের চিৎকার কানে আসবে না, যেখানে শুধু একগুচ্ছ বর্ষার সাদা ফুলের পল্লবিত হবার অপেক্ষায় সময় কাটাবো শুয়ে শুয়ে।

[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।