Friday, February 27, 2009

একটি আধাসামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর কি বিশ্ববিদ্যালয় আর আবাসিক এলাকার মাঝে থাকা খুব জরুরি?

১.
ক্যান্টনমেন্ট সরিয়ে নেয়ার সমর্থক অনেক, আমি নিজেও। কিন্তু ঐ আব্দারটি পূরণ হবার নয়। গর্দান থেকে মাথা সরে যাবে, কিন্তু রাজধান থেকে ক্যান্টনমেন্ট সরবে না। বেশি বকলে সমস্যা হতে পারে, তাই সামরিকদের আস্তানাবদলের আবদারকে কেটেছেঁটে আদ্ধেকটা করলাম। আধাসামরিকদের আস্তানা, ঐ পিলখানাটিকেই কি বাংলাদেশ রাইফেলসের সদর দপ্তর করে রাখতে হবে?

সামরিক বাহিনীর কর্তাদের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা আর তাদের গোয়েন্দাদের নজরদারির নিদারুণ ব্যর্থতার কারণে সশস্ত্র বিডিআর বিদ্রোহের ৩৩ ঘন্টায় একটি রাজধানী শহরে দু'টি ছাত্রী হল ইভ্যাকুয়েট করতে হয়েছে, পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে কয়েক পর্যায়ের, আটাশ বর্গকিলোমিটার এলাকার নগরবাসীকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র সরে যেতে বলা হয়েছে, আর সেই আধাসামরিকদের দমন করার জন্যে পুরোসামরিকদের ট্যাঙ্ক নিয়ে রওনা দিতে হয়েছে সেই সাভার থেকে। আমরা বুঝতে পারলাম, ক্যান্টনমেন্ট আসলে সাভারে হলেও চলে।

সশস্ত্র আধাসামরিকরা এর আগে এই রাজধানী শহরে কী কাজে লেগেছে আর ভবিষ্যতে কী কাজে লাগবে, তার হিসেব নিশ্চয়ই শাসক ও নীতিনির্ধারকদের কাছে আছে, কিন্তু এই শহরের এক প্রকান্ড একটি জায়গা যে তাঁরা জুড়ে বিরাজ করেন, সেটি কি খুব জরুরি?

পিলখানাপিলখানা

পিল ওরফে হাতি পোষার সাধ্য আমাদের নেই ঠিকই, কিন্তু হাতি পোষার নবাবী মেজাজটা আমাদের ঠিকই আছে। কত রকমের শ্বেতহস্তীই তো আমরা পুষি। তারপরও আমি শুধু জ্যামজর্জরিত ঢাকার একজন সাময়িক দূরবর্তী বাসিন্দা হিসেবে হুজুর বাহাদুরদের কাছে করুণ ফকিরি ছোটলোকি আরজ গুজার করি, আপনাদের আধাসামরিকদের শহরের বাইরে নিয়ে যান। ছাত্র-জনগণ পিটাতে হলে দাঙ্গা পুলিশ আছে। ড্যামরা বা বরাবো নিয়ে যান আধাসামরিকদের। বিদ্রোহ ঘন ঘন দমনের প্রয়োজন দেখা দিলে সাভার ক্যান্টনমেন্ট আর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মাঝামাঝি রাখুন তেনাদের। প্রয়োজনে তাঁরা ট্রাকে চড়ে ওখান থেকে এসে ছাত্র-জনগণ পিটিয়ে যাবেন। পিলখানাটিকে একটি পার্কে রূপান্তরিত করা হোক, ভেতরের রাস্তা দিয়ে জ্যামগ্রস্ত মোহাম্মদপুর-ধানমন্ডিবাসী শহরের দক্ষিণদিকে খানিকটা হলেও যাতায়াত করতে পারবে। তাদের হাতি পোষার জন্যে এমনিতেই এক কাচ্চা টাকা বেরিয়ে যায়, জ্যাম বাবদ কিছু তো বাঁচবে? আর জানের ভয় মালের ভয় হয়তো কিছুটা হলেও কমবে।

২.
তানিয়াপার কয়েকজন আত্মীয় ছিলেন দরবার হলে। তাঁদের মধ্যে একজনের লাশ ভেসে এসেছে, বাকিদের কোন খবর নেই, সম্ভবত তাঁরা আর বেঁচে নেই। এই মহাশোকে শুধু অসহায় সমবেদনা জানাই দূরে বসে। পরিজনের মৃত্যুতে কোন সান্ত্বনা হয় না, শুধু চুপ করে পাশে বসে থাকা যায়। তানিয়াপার পাশে বসে থাকা সচলদের মধ্যে আমিও একজন, শুধু এটুকুই জানাই।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।