Tuesday, January 27, 2009

মাওলানা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের সমস্যাটা আসলে কোথায়?

স্কুলে অত্যন্ত উৎসাহ নিয়ে কিংকং খেলতাম আমরা টেনিস বল দিয়ে। এই চরম উত্তেজনাপূর্ণ খেলাটা যারা খেলেননি তাঁদের জনম চার আনাই বৃথা। নিয়ম খুব সহজ, একজন গোলন্দাজ নির্বাচিত হবে প্রথমে। নির্বাচন প্রথা অনেকভাবে করা হয়, সাধারণত একটা গোল দাগ কেটে তার পরিধিতে পা রাখে সবাই, বলটা মাঝখানে ড্রপ খাওয়ানো হয়, এরপর যার পায়ে গিয়ে পড়ে সে-ই চোর। চোরের কাজ হচ্ছে বলটা নিয়ে বাকিদের গায়ে কষে মারা। শুধু মাত্র হাতের তালু দিয়ে তা প্রতিহত করা যাবে, অন্য কোথাও লাগলে যার গায়ে গিয়ে লাগলো, সে-ও স্পর্শদোষে চোরে পরিণত হবে। তারপর এরা দু'জন মিলে অভিযান পরিচালনা করবে। শেষমেশ যে বাকি থাকবে সে ঐ রাউন্ডে বিজয়ী। লক্ষ্যণীয় যে এই খেলাকে বোম্বাস্টিক নামেও চিনে থাকবেন অনেকে।

তবে একে একটি দ্বিদলীয় স্পোর্টি (শব্দটা শুনলেই ইদানীং মনে ঘাই মারে ... হায় ...) রূপ দিয়েছেন বাইতুল মোকাররমের কিছু মুসল্লি। তারা নামাজ আদায়ের পাশাপাশি পাদুকাক্ষেপণেও দড়। পর পর তিন সপ্তাহ ধরে জাতীয় মসজিদে এই ঘটনা ঘটলো।

মনে পড়ে যাচ্ছে একটি কবিতা।

একদা ছিলো না জুতা চরণ যুগলে
দহিল হৃদয় মন সেই ক্ষোভানলে
ধীরে ধীরে চুপি চুপি দুঃখাকুল মনে
গেলাম ভজনালয়ে ভজন কারণে। ...

কিন্তু পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, জুতার অভাব ঘটলে কেউ আর ভজন কারণে বাইতুল মোকাররমে যাচ্ছে না। রীতিমতো সপাদুক হয়ে যাচ্ছে কিছু মুসল্লি। নামাজের আগে তারা বোম্বাস্টিক খেলছে এক রাউন্ড, তারপর রাস্তায় বেরিয়ে গিয়ে আলাদা নামাজ পড়ছে।

নতুন খতিবের নাকি আকিদাগত সমস্যা আছে। যদিও তিনি এর আগে তেজগাঁয়ের আরেকটি মসজিদে নিযুক্ত ছিলেন, সেখানে কেউ তার আকিদা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে সংবাদে আসেনি, জুতাজুতি তো দূরের কথা।

আমি শুধু ওয়াকিবহাল মহলের কাছে জানতে চাই, সালাহউদ্দিনের আকিদাগত সমস্যাটা কী? ওবায়দুল হকের মতো বিতর্কিত একটা লোকের পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে পারলে, সালাহউদ্দিন কী সমস্যা করলো?


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।