Saturday, December 20, 2008

দ্য ফল

সিনেমা দেখার ফুরসত আমার এখন একেবারেই নেই। স্তুপীকৃত কাজের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে তারপরও বহুদিন পর দেখলাম ২০০৬ সালের সিনেমা, দ্য ফল।

সিনেমাটি সম্পূর্ণই ফ্যান্টাসিনির্ভর, চোখ বুঁজেই একে আমার প্রিয় চলচ্চিত্র দন হুয়ান দি মার্কো কিংবা অ্যাডভেঞ্চারস অব ব্যারন মুনশাউজেনের গোত্রে ফেলে দেয়া যায়। তারপরও মুগ্ধ হয়েছি দুর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফি, অভিনয়, সংলাপ আর শব্দকৌশলে।

সিনেমার গোটা কাহিনী বলে দর্শকের মজা আগাম নষ্টের বদভ্যাস আমার নেই, মোটের ওপর কাঠামোটা এমন, লস এঞ্জেলসের একটি খৃষ্টীয় হাসপাতালে আলেক্সান্দ্রিয়া নামে ছোট্ট একটি মেয়ে চিকিৎসাধীন, তার হাত ভেঙে গেছে কমলা পাড়তে গিয়ে। হাসপাতালের অন্য ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন স্টান্টম্যান রয়। কাহিনী মৌন চলচ্চিত্রযুগের। ছোট্ট আলেক্সান্দ্রিয়া ঘুরে বেড়ায় গোটা হাসপাতাল জুড়ে, কখনো নার্সদের চিরকুট ছুঁড়ে মারে, পাদ্রীকে ছুঁড়ে মারে কমলা, বরফের গাড়িতে গিয়ে বরফ চেটে দেখে। ঘুরতে ঘুরতেই একদিন তার সাথে রয়ের পরিচয় হয়। স্টান্টবাজি করতে গিয়ে রয়ের পা মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে, সে পঙ্গু। আলেক্সান্দ্রিয়ার সাথে ভাব জমাতে গিয়ে রয় শুরু করে এক বিচিত্র গল্প। সে গল্পের মোড় ঘোরে আলেক্সান্দ্রিয়া আর রয়ের নিজেদের জীবনের কাহিনীর ধাক্কায়, কখনো বা আলেক্সান্দ্রিয়ার আব্দারে কাহিনী আমূল পাল্টে যায়, কখনো আলেক্সান্দ্রিয়া নিজেই জোর করে ঢুকে পড়ে রয়ের গল্পের চরিত্র হয়ে। আপাতত এইটুকু বলেই থামি, বাকিটা দ্রষ্টব্য হয়ে থাকুক।

তারসেম সিং এর পরিচালনায় রুমানিয়ান শিশু কাতিনকা উন্তারু দুর্দান্ত অভিনয় করেছে আলেক্সান্দ্রিয়ার ভূমিকায়। গোটা সিনেমাতে সংলাপ আর শব্দকৌশল দেখে আমি মুগ্ধ। হাস্যরসাত্মক উপাদানগুলি সূক্ষ্মভাবে ছড়ানো, যেমন চার্লস ডারউইন সেখানে এক অ্যাকশন ফিগার, তার পোষা বাঁদরের নাম আবার ওয়ালেস (নিওডারউইনিয়ানদের চটবার পূর্ণ অধিকার আছে)! গোটা ছবিতে রঙের ব্যবহার দেখে বাকরুদ্ধ না হয়ে উপায় নেই। যাকে বলে টিয়ারজ্যাকার, সেরকম একটা সিনেমা হবার পথে সামান্য মোড় নিতে দেখা গেছে একে, ভয় পাচ্ছি, বলিউডের চামুন্ডারা একে নকল করে মা-খালা-কাঁদানো কোন বস্তাপঁচা সিনেমা পয়দা করে কি না।






[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।