Wednesday, December 19, 2007

প্রবাসে দৈবের বশে ০২৪

কাসেলে শীত এতদিন নতুন বউয়ের লজ্জা নিয়ে নেমেছিলো। নাচতে নেমে ঘোমটাও বলা যায়। সক্কালবেলা বুলেটজমানো ঠান্ডা পড়লেও দুপুরেই হয়তো বেশ চনমনে রোদ, কিংবা মেঘলা আকাশসহ মাঝারিমাপের শীত। আজ ভোরে বাইরে তাকিয়ে দেখি শীত মাথার ঘোমটা কোমরে পেঁচিয়ে নেমে পড়েছে স্বমূর্তিতে।

যদিও আমার জ্যাকেটের রংলাল নয়, তবুও সেদিন এক পিচকি আমাকে সান্তাক্লজ বলে ভুল করে বসেছে। রাস্তায় নেমেছি আপাদমস্তক ঢেকেঢুকে, সন্ধ্যা হয় হয় (এখন বেলা সাড়ে চারটার দিকেই চারদিক গোমড়া হয়ে আসে, আর সূর্য ওঠে পৌনে আটটার দিকে), ফুটপাথে দেখি পুচকি একটা মেয়ে ঘুরে ঘুরে নাচছে, সাথে তার মা, সেই মহিলাও পিচ্চির সাথে নেচে বেড়াচ্ছেন। আমি সাবধানে মা আর মেয়েকে বাঁচিয়ে পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি, এমন সময় শুনি পিচকি বলছে, "ইস্ট এর নিকলাউস? (এ কি সান্তাক্লজ?)।" পিচকির মা তো হেসে খুন। আমাকে বললেন, "এন্টশুলডিগুং! হো হো হো! হি হি হি! নে, এর ইস্ট নিষ্ট নিকলাউস!" আরেক ব্যাটা আসছিলো হেঁটে, এত হাসির বহর দেখে সেও দাঁড়িয়ে পড়লো ঘটনা কি শোনার জন্য। সব শুনে সে-ও হাসি শুরু করলো। পিচকির মা আরেকবার আমার কাছে মাপ চেয়ে মেয়েকে নিয়ে নাচতে নাচতে চলে গেলেন।

ফট করে ঠান্ডা নামায় দেখলাম ক্লাসের অনেকেই সর্দি বাঁধিয়ে ফেলেছে। আমি মোটে সর্দি কাটিয়ে উঠেছি, হঠাৎ শীত ভালোই লাগছে। মাঝে মাঝে অবশ্য কনকনে হাওয়া চালায়, তখন তাপমাত্রা যতই থাকুক, বুলেট জমে যায়।

একের পর এক কাজ জমে যাচ্ছে কিভাবে যেন, সেদিন কাগজে টুকে রাখতে গিয়ে দেখি আমার কপালে দুঃখই আছে বড়দিনের ছুটিতে। বাংলাদেশে বায়ুশক্তির ওপর একখান, ঈস্টারদ্বীপে জনসংখ্যাহ্রাসের ওপর একখান, সৌরতাপের ওপর একখান আর সদ্যসমাপ্ত জবমোটরের ওপর একখান। চামে চিকনে আরো গোটা চারেক চেপে যেতে পারে কাঁধে।

ভাবছি একটা স্বোৎসারিত রেসিপি সিরিজ শুরু করবো। নাম রেখেছি রসময় রেসিপি। একেবারেই উন্মুক্ত, মোটেও গুপ্ত নয়। শিগগীরই ছাড়বো। প্রবাসে যারা একাকী রান্নাবান্না ব্যাপারটা সবেমাত্র শুরু করেছেন, তাদের কাজে দেবে। ভাষাটা একটু ইয়ে, কাজেই রয়েসয়ে পড়াই ভালো।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।