Thursday, November 20, 2008

একাত্তরের ছবি

ছবি অনেক কথা বলে।

খবরের কাগজে বছরের কিছু সময়ে ভেতরের পাতায় বিভিন্ন বিজ্ঞাপন আসে। মৃত্যুবার্ষিকীর বিজ্ঞাপন। মৃতের আত্মীয়রা পুরনো অ্যালবাম বা খাম থেকে বার করেন স্বজনের ছবি, পত্রিকা অফিসে নিয়ে যান, নগদ টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন ছাপান। সেইসব বিজ্ঞাপনের ভাষার মতো সরল আর কিছু হয় না। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার আর তার দোসররা হত্যা করেছিলো সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের। আজ তাঁকে বা তাঁদের স্মরণ করে কোন আয়োজন হচ্ছে। পাঠক আমন্ত্রিত।

এর মধ্যে একটি ছবি দেখে একদিন প্রচন্ড আলোড়িত হয়েছিলাম। নাটোরের ৩৮ জন কৃতী সন্তানের ছবি সেখানে। ১৯৭১ এ হামলার কয়েক মাস পর পাক সেনাবাহিনী নাটোর শহরের সেরা সন্তানদের ধরে হত্যা করে। সেই ছবির ভিড়ে অধ্যাপকের সৌম্য চেহারা আছে, আছে ডাক্তারের অভয় জোগানো প্রশান্ত, সাংবাদিকের বুদ্ধিদীপ্ত চোখ জেগে আছে খবরের কাগজের পাতা থেকে। পুরনো দিনের স্টুডিওতে তোলা সেসব ছবি। পাশাপাশি শুধু ছবি হয়ে তাঁরা অনেক কথা বলেছিলেন সেদিন।

মাঝে মাঝে অসহ্য ক্রোধ হয় শরীরে। মনে হয়, কিছু করতে পারলাম না। তুমি যে বৃথাই আমায় শক্তি দিলে শক্তিদাতা। শুধু সান্ত্বনার হাত রাখি নিজের পিঠে, হবে। আমি না পারলে আমার সন্তান পারবে। সে না পারলে তার সন্তান। তাদের জানাতে হবে। তারা যদি না জানে, এই ইতিহাস পুনরাবৃত্ত হবে। হয়তো আমি-আপনিই ছবি হয়ে তাকিয়ে থাকবো ভিন্ন কাগজের ভিন্ন পাতায়।

আপনাদের কাছে আর কিছু চাই না। শুধু হাতজোড় করে ছবি চাই। আপনাদের পুরনো অ্যালবামে দেখুন, অন্তত একটা ছবি আছে কি না। ১৯৭১ এর একটা ছবি স্ক্যান করে দিন আমাদের। নিজের কাছে না থাকলে বন্ধুকে বলুন, দেখবেন তাঁর মা ঠিকই ট্রাঙ্কের নিচ থেকে সযত্নে বার করে দেবেন। ১৯৭১ আছে সব জায়গাতেই।

কত উদ্যোগ অংশগ্রহণের দৈন্যে ঝিমিয়ে বুড়ো হয়ে গেলো, এবার অন্তত ফিরিয়ে দেবেন না।

[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।