Tuesday, November 18, 2008

বিএসএফ কমান্ডাররা কি কেবলই ঘাস খায় আর বাল ছিঁড়ে?

ব্যাপারটা মিডিয়াতে প্রায় সাপ্তাহিক আয়োজনের মতো নিয়মিত হয়ে পড়েছে। অমুক সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে বাংলাদেশী নিহত।

একটা নৃশংস ঘটনার নৃশংসতা ক্রমাগত ফিকে হয়ে আসে পুনরাবৃত্তিতে। চায়ে চুমুক দিতে দিতে খবরের কাগজে সেসব খবর টপকে চোখ চলে যায় অন্য খবরে, টিভিতে সুন্দরী সংবাদপাঠিকাও এই খবর শেষ করে অন্য কোন খবরে কণ্ঠান্তর করেন। আমাদের ভাবান্তর হয় না, কারণ আমরা সীমান্ত এলাকায় থাকি না। আমরা ভাই ঢাকার পোলা, আরামে থাকি, সীমান্তে ক্যাচাল হইলে চায়ের আড্ডায়, ব্লগে পোস্টের তুফানে, ফোনে জিয়েফের লগে চিল্লাচিল্লি কইরা আমাগো কাম শ্যাষ।

আমি জীবনে একবারই সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ এর মুখোমুখি হয়েছি, সেটি সুনামগঞ্জে, টাঙ্গুয়ার হাওরের উত্তরে, তিন-চারদিনের এক নৌবিহারে গিয়েছিলাম আমরা কয়েকজন। বিডিআর ক্যাম্পে বসে চা-বিস্কুট খেতে খেতে জওয়ানদের সাথে গল্প করে যা শুনলাম, বিএসএফ এর ক্যাম্প সে এলাকায় পাহাড়ের এমন এক অংশে যে সেখানে বসে তারা টপাটপ ফেলে দিতে পারে এদিকের যে কাউকে। নৌকো নিয়ে আমরা সেই নদী ধরে আরেকটু উজানে গিয়ে একটা মোড় ঘুরেই প্রকান্ড তেরঙ্গার মুখোমুখি হলাম। আমার চোখে বাইনোকিউলার ছিলো, দেখলাম ভূতের মতো মিশমিশে এক বিএসএফ জওয়ানও বাইনোকিউলার লাগিয়ে দেখছে আমাদের। সে হাত তুলে কী একটা ইশারা করতেই দেখলাম আরো কয়েকজন জওয়ান সশস্ত্র অবস্থায় ছুটে আসছে পেছন থেকে। কালবিলম্ব না করে নৌকা ঘুরিয়ে আমরা আবার বাঁক ঘুরে চলে এলাম। সেদিনই বিকেলে ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর কোয়ারি পেরিয়ে গিয়ে দেখি পাহাড়ের নিচে এক বিএসএফ জওয়ান বসে বসে ঝিমুচ্ছে। সেখানে আশেপাশে লোকজন সবাই মেঘালয়ের, ভাঙাভাঙা বাংলা বলেন, তাঁরা জানালেন, এ এলাকায় সবসময়ই আসাযাওয়া চলছে, কোন সমস্যা নেই। বিএসএফের সেই জওয়ানের সাথে আমরা আলাপ করার চেষ্টা করলাম, সে নিরাসক্ত মুখে জানালো, তার আলাপের এখতিয়ার নেই। কমান্ডারের অনুমতি ছাড়া জওয়ানেরা বাক্যবিনিময়ও করতে প্রস্তুত না, কাজেই তারা যখন গুলি ছোঁড়ে, কমান্ডারের সম্মতিতই ছোঁড়ে।

বিএসএফের আচরণে যা মনে হয়, এর স্থানীয় কমান্ডাররা সবাই ঘাস খায় আর বাল ছিঁড়ে। তাদের জওয়ানরা মদ খেয়ে আমাদের সীমান্ত অতিক্রম করে গ্রামে ঢুকে আমাদের মহিলা আর শিশুদের গুলি করে মারে, তারা ঠাহর করতে পারে না। একজন জওয়ান একটা কিলিং মেশিন, যার ট্রিগারে আঙুল রাখবে কমান্ডার। মেশিন ঠিকমতো কাজ করছে না, এর অর্থ হচ্ছে, কমান্ডার বোকাচোদা।

ব্যক্তিগত পরিমন্ডলের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, সীমান্তরক্ষার কাজে নিয়োজিত বাহিনীর সদস্য জওয়ানেরা নিজ উদ্যোগে কোন অফেন্সিভে যেতে পারে না। তার প্রশিক্ষণেই নেই এই জিনিস। আমাদের বিডিআরের সদস্যরা, যাদের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কাছ থেকে দেখেছি, যথেষ্ঠ চৌকস এবং ধুরন্ধর, এবং ঈর্ষণীয় রকমের ফিট। সেনাবাহিনীর সদস্যদের তুলনায়ও তারা অনেক বেশি স্মার্ট হয়। এই একই কথা বিএসএফের জওয়ানদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু তারা কেবল প্রতিবেশী দেশের সীমান্তের ভেতরে প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের হত্যায় সিদ্ধহস্ত।

গত পনেরো বছর ধরে খবরের কাগজে এই সংবাদ দেখতে দেখতে মনটা পঁচে গেছে। বিএসএফের শুয়োরের বাচ্চাদের বিচার চাই। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠামোতে বিচার চাই। নেপাল-ভূটান-চীন-পাকিস্তান সীমান্তে এইসব হয় কি না জানি না। বাংলাদেশ নমনীয় আচরণ করে বলেই এই চুতমারানিদের আচরণে কোন পরিবর্তন হয় না। রৌমারির মতো গুলি করে মেরে বাঁশে ঝুলিয়ে লাশ ফেরত দেয়া হোক, এ-ই তাদের কাম্য প্রতিক্রিয়া?

[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।