Monday, November 17, 2008

অভিনব রাজনৈতিক প্রচারণা

গত বারোই নভেম্বর, বুধবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছয়টি শহরে প্রায় ১.২ মিলিয়ন কপি নকল ১৪ পাতার "নিউ ইয়র্ক টাইমস" বিতরণ করা হয়েছে। জুলাই ৪, ২০০৯ (জুলাই ৪ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস) তারিখ ছাপা এই পত্রিকা জুড়ে রয়েছে লিবারেল রাজনীতির অনুসারীদের কাম্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের নকল খবর। প্রথম পাতায় বিশাল ছবি আর ক্যাপশনসহ রয়েছে ইরাক যুদ্ধ অবসানের খবর। আরো রয়েছে ব্যাপক ধ্বংসী যুদ্ধাস্ত্রের জুজু প্রসঙ্গে সাবেক মন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা, সেনাদের ইরাক থেকে ঘরে ফেরার কয়েক রকমের খবর, স্বাস্থ্য বীমা সংক্রান্ত আইন পাস, বুশের বিচার প্রক্রিয়া শুরু, অন্তর্দহন যান নিষিদ্ধ ঘোষণাসহ নানা খবর। মনসান্তোর ব্যানারে সেখানে রয়েছে কীটনাশকের বদলে গুবরেপোকা দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে ফসলের কীট ধ্বংসের বিজ্ঞাপন, এক্সন-মোবিল সেখানে ইরাক যুদ্ধের পেছনে নোংরা কৌশলকে বিশদ ব্যাখ্যা করে নতুন শক্তি সরবরাহ নীতি অনুসরণের প্রতিজ্ঞা করছে। এমনই আরো মজার সব "সংবাদ" রয়েছে চৌদ্দ পাতা জুড়ে।

যে ওয়েবসাইটটির রেফারেন্সসহ এই নকল সংবাদপত্র মানুষের হাতে হাতে বিলানো হয়েছে, সেটি দেখতেও নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতোই। নিউ ইয়র্ক, লস এঞ্জেলস, সান ফ্রান্সিসকো, শিকাগো, ফিলাডেলফিয়া আর ওয়াশিংটন জুড়ে অনেক স্বেচ্ছাসেবী এই "সংবাদ"পত্র বিতরণের কাজে যোগ দিয়েছেন। এর রূপকাররা হচ্ছেন জনৈক চলচ্চিত্র উদ্যোক্তা, টাইমসের তিনজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মী, এবং স্টিভেন ল্যাম্বার্ট, জনৈক চারুকলা অধ্যাপক। বারাক ওবামাকে এই পেপার ছাপিয়ে একটা মেসেজ দিতে চেয়েছেন তারা, জো ওয়াদা কিয়া ও নিভানা পাড়েগা।

সফটওয়্যার আর ইন্টারনেটে সহায়তা জুগিয়েছে "ইয়েস মেন" নামে একটি গোষ্ঠী। তারা জানিয়েছে, প্রায় ছয় মাস প্রস্তুতির পর ছয়টি প্রেসে এই কাগজটি ছাপা হয়েছে। "দ্য ইয়েস মেন" নামে একটি ননফিকশন চলচ্চিত্রও মুক্তি পেয়েছিলো ২০০৪, যেখানে এই ইয়েস মেন এর রাজনৈতিক প্র্যাঙ্কগুলো স্থান পেয়েছে। একটি উদাহরণ ছিলো এমন, অস্ট্রিয়ার জালৎসবুর্গে ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে নাম ভাঁড়িয়ে একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছিলো ইয়েস মেন এর একজন, অ্যান্ডি বিশলবাউম, এবং তার বক্তব্যের মোদ্দা কথা ছিলো, মার্কিনীদের উচিত তাদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট নিলামে তুলে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে বিক্রি করা, আর ডাব্লিউ.টি.ও.র আসল কাজ হচ্ছে "এক দুনিয়া এক সংস্কৃতি" চালু করা। তারা একই কাজ ফিনল্যান্ডেও একটি ট্রেড কনফারেন্সে নাম ভাঁড়িয়ে অংশগ্রহণ করেছিলো, যেখানে তাদের ওয়েবসাইটটি হুবহু ডব্লিউ.টি,ও.-র ওয়েবসাইটটির মতো সাজিয়ে ফিনিশ কর্তাদের ধোঁকা দেয়া হয়েছিলো। এবারে তাদের বক্তব্য ছিলো, ডব্লিউ.টি.ও, অচিরেই ভেঙে দিয়ে গরীববান্ধব বাণিজ্যের পথ উদারীকরণ হবে শিগগীরই।

তবে এমন ধোঁকা এ-ই প্রথম নয়। ১৯৯৯ এর এপ্রিল ফুল'স ডে-তে রিচার্ড ব্র্যানসন এক লক্ষ কপি নকল নিউ ইয়র্ক টাইমস ছাপিয়েছিলেন।


সূত্রঃ সংসারে এক সন্ন্যাসী।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।