Monday, November 03, 2008

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইলেকট্রনিক মিডিয়া

শিরোনাম শুনলে বিরাট প্রবন্ধের মুখচ্ছবি কল্পনায় আসতে পারে, কিন্তু শুরুতেই সে কল্পনায় কাঠি দিলাম।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিগত নির্বাচনগুলোতে ক্যাম্পেইনের প্রকৃতি বা তীব্রতা সম্পর্কে জানার সুযোগ আমার কম ছিলো। কারণ হিসেবে প্রথমে ছিলো যথাযথ আগ্রহের অভাব, আর মিডিয়ার দুর্লভত্ব। দেশে সিএনএন দেখার সুযোগ ছিলো, এর বাইরে কিছু নয়। ফলে খুব জরুরি কিছু ইভেন্ট ছাড়া আর কিছুই দেখার উপায় ছিলো না।

ব্লগের কল্যাণে (হাফিংটনপোস্টের নামই করবো সবার শুরুতে) ওবামা বনাম ম্যাকেইন প্রচারাভিযানের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খানিকটা আঁচ পাওয়ার সুযোগ এসেছে। প্রার্থীদের মধ্যে কে কী নিয়ে লড়ছেন, প্রতিপক্ষের কোন রন্ধ্রটিতে আঙুল ঢোকাচ্ছেন, সে সম্পর্কে অর্ধস্বচ্ছ একটা ধারণা তৈরি হয়েছে।

তবে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গাঢ় পেনিট্রেশনের কারণে এই প্রচারাভিযানে টেলিভিশন যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে, সেটা পরিষ্কার। ফক্স, সিবিএস, কমেডি সেন্ট্রাল, এইচবিওসহ আরো কয়েকটি চ্যানেল প্রায় দুই বছর ধরে চলতে থাকা এই নির্বাচন ক্যাম্পেইনকে প্রভাবিত করে চলছে।

রাজনৈতিক মেরুমুখিতা অনুযায়ী বিভিন্ন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তাদের অনুষ্ঠানগুলিতে রাজনৈতিক প্রচারযন্ত্র খুলে ধরছে। এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই আমার। তারেক রহমান বা ফালুর লুটপাটের টাকায় গড়া দু'টি টেলিভিশন চ্যানেলের আমি মুগ্ধ দর্শক ছিলাম (আহ, সেই সংবাদপাঠিকারা!), অনেক সন্ধ্যায় তারেকমুখী বা ফালুমুখী সংবাদ জুলজুলদৃষ্টিতে চেয়ে দেখেছি (ওরেরে, সেই সংবাদপাঠিকারা!)। তবে মার্কিন টেলিভিশনের শক্তি এর মাত্রায়।

স্যাটারডে নাইট লাইভ [এসএনএল] যেমন বহু বছর ধরে জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান, সারাহ প্যালিন উপরাষ্ট্রপতি পদে ম্যাকেইনের মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই অভিনেত্রী টিনা ফে তার ইমপারসোনেশন শুরু করেছেন। দূর থেকে টিনার সাথে সারাহ প্যালিনের পার্থক্য করা একটু মুশকিলই। প্যালিনের কথায় মধ্য-পশ্চিমের টান টিনা ফে চমৎকার অনুকরণ করতে পারেন, সেইসাথে প্যালিনের শারীরভঙ্গিও তিনি রপ্ত করে ফেলেছেন। ফলে প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা বা বিতর্কের পরপরই শনিবার রাতে এসএনএলে টিনা ফে এসে প্যালিনকে নির্মমভাবে পঁচান। একটি পর্বে তিনি কেটি কুরিকের সাথে সারাহ প্যালিনের সাক্ষাৎকারে ব্যবহৃত অসংলগ্ন সংলাপ প্রায় হুবহু ডেলিভার করে লোক হাসিয়েছেন। বিশ্ব রাজনীতি সম্পর্কে সারাহ প্যালিনের অজ্ঞতা থেকে শুরু করে তার ব্যবহৃত অসংবৃত বুলিগুলো (যেমন হকি-মম, জো সিক্সপ্যাক ...), সবই সেই ইমপারসোনেশনে মেশানো হয়।

কেবল প্যালিনকেই পঁচানো হয় না, ওবামা, ম্যাকেইন, ক্লিনটন, হিলারি, বুশ (উইল ফ্যারেল বুশকে পঁচানোর জন্যে আসেন, এক কথায় অনবদ্য), সবাইকেই কমবেশি ধোলাই করা হয় এসএনএলে।

তো সেই এসএনএলে এই ভাঁড়ামিরই একটি অংশ হিসেবে সম্প্রতি খোদ সারাহ প্যালিন (গত হপ্তায়) এবং জন ও সিন্ডি ম্যাকেইন (এ হপ্তায়) এসেছিলেন। মিডিয়ার প্রভাব কতটা সুদূরগ্রাসী হলে কোন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী একটি লোক-হাসানো অনুষ্ঠানে অন্যের লেখা বুলি আউড়ে অভিনয় করতে রাজি না হয়ে পারে না, সেটিই আমার বিস্ময়ের কারণ।






No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।