Saturday, November 01, 2008

পিলু বড় ভালো লাগে

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সম্পর্কে আমার জ্ঞান শূন্যের কোঠায়, কিন্তু আগ্রহ অনেক। তাই পিলু রাগ নিয়ে কোন কেশচ্ছেদী বিশ্লেষণে যাওয়ার স্পর্ধা দেখাবো না। যা বলবো তা অন্ধকারে আঁকা ছবির মতো হবে। নিষাদ ষড়জ কোমল ধৈবতের গন্ডগোলে পা বাড়াচ্ছি না। পিলুর আরোহ অবরোহের লৈখিক বিশ্লেষণ আমার কাছে অ্যাসিটালডিহাইডের বিক্রিয়ার মতোই দুর্বোধ্য মনে হয়।

হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বাঁশিতে পিলুর চমৎকার কিছু আলাপ শুনেছিলাম। বিশুদ্ধ পিলু নয়, তার সাথে অন্য রাগের ছোঁয়া আছে। আমি যেহেতু রাগমূর্খ, তাই রাগনিষ্ঠ এক বন্ধুকে গিয়ে পাকড়াও করলাম। আমার সরল প্রশ্ন ছিলো, কিভাবে বুঝবো কোনটা রাগ পিলু? সে আমাকে পারলে ঘাড় ধরে বাড়ি থেকে বার করে দেয়। আমার মতো একজন দামড়া পিলু চেনে না, এই ফ্যাক্টটাই সে হজম করতে পারছিলো না। অনেক খ্যাঁচাখেঁচির পর যা বুঝলাম, স্বরবিন্যাসের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মারপ্যাঁচ না শিখে এই হোঁদলের সাথে আলাপ করতে যাওয়া বৃথা। যা শিখলাম, তা হচ্ছে পিলুর জাতগোত্র, এটি কাফি ঠাটের রাগ (দেখলাম শুনলাম কিছুই বুঝলাম না)। স্বরগ্রামের সাতটি স্বরই এতে ব্যবহৃত হয় (খুব ভালো কথা)। আরোহ অবরোহের গতিপ্রকৃতি সব মাথার উপর দিয়ে যাওয়ায় মেজাজ গরম করে ঠিক করলাম, পিলুর ওপর লেকচার না শুনে বরং পিলুই শুনি।

পিলু কিছুটা বিষন্ন রাগ, এর মধ্যে একটা একাকীত্বের হাহাকার আছে। [i]মনে আমার পাই নে লো খেই, কে যেন নেই কী যেন নেই[/i] গোছের একটা অন্তর্গত দীর্ঘশ্বাস ছড়ানো থাকে। শেষ বিকেলের পড়ন্ত আলোয় কোন পুকুর পাড়ে একা বসে থাকার অনুভূতিটা জেগে ওঠে বার বার পিলু শুনলে।

কাসেলে শীত আবারও তার করাঙ্ক রাখছে প্রতিদিন। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখছি, সব পাতা হারিয়ে গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ, পেছনে মলিন ইস্পাতরঙা আকাশ। ধূমায়িত চায়ের কাপ ঠান্ডা হয়ে আসে আমার ভেতরটার মতো, ল্যাপটপে বড়ে গুলাম আলি মিনতি করে চলেন প্রিয়ার কাছে, কথা বলো, অভিমান করে থেকো না, সাইয়াঁ বোলো, তনক মোসে রাহিয়ো না যায়।


Piloo_Bade Ghulam ...


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।