Friday, October 31, 2008

ৎসিভিলডিন্সট

জার্মানিতে প্রাকবিশ্ববিদ্যালয় পড়ালেখা বারো নয়, তেরো বছরের। আবিটুর, অর্থাৎ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়ার পর এখানে ছাত্রদের একটি নির্দিষ্ট সময় (এখন নয় মাস) বাধ্যতামূলকভাবে হয় সেনাসেবা (ভেয়ারডিন্সট) অথবা জনসেবা (ৎসিভিলডিন্সট) দিতে হয়। মূল প্রাচীন নিয়মটি হচ্ছে, পুরুষদের জন্যে সেনাসেবা বাধ্যতামূলক, কিন্তু যেহেতু জার্মানদের আগের সেই সামরিক অবস্থান নেই, তাই সেনাসেবাকে পাশ কাটানোর জন্যে কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখে জনসেবাকে বেছে নেয়া যায়। বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা বিভাগ, হাসপাতাল, পরিবেশরক্ষা, কৃষিখাত ইত্যাদিতে জনসেবা দিয়ে থাকে ছাত্ররা। নিয়মটা কেবল জার্মানিই নয়, পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই আছে। তবে অনেক দেশেই সেনাসেবা বাধ্যতামূলক (যেমন ইসরায়েল)।

সেনাসেবা দেয়ার বিরুদ্ধে "বিবেকজনিত আপত্তি" জানাতে পারে একজন ছাত্র। ১৯৭৩ সাল থেকে এ ব্যাপারটা দেখছে একটি ফেডারেল দপ্তর। তারা ছাত্রদের পাঠানো দরখাস্ত যাচাই করে তাকে সেনাসেবার পরিবর্তে জনসেবা হয় বেছে নিতে বলছে, অথবা নিজেরাই ঠিক করে দিচ্ছে সে কোথায় এ কাজ করবে। আমার সহপাঠী রাইনার ইয়োসেফ সেনাসেবা এড়ানোর জন্যে বতসোয়ানায় গিয়ে এক বছর জনসেবা দিয়ে এসেছে। তবে সেনাসেবা দিতে অনিচ্ছুক নয় সবাই, এখানে প্রায়ই রাস্তায় তরুণ ভেয়ারডিন্সট-দেনেঅলা দেখা যায় সামরিক পোশাকে, ঝোলা কাঁধে বাড়ি ফিরছে বা বাড়ি থেকে বেরিয়েছে। জার্মানদের সবকিছুই খুব শক্তিশালী আইন দিয়ে বাঁধা, এসবের জন্যে আছে ZDG বা জনসেবা আইন (ৎসিভিলিডিন্সটগেজেৎস)। তারপরও উল্লেখ্য যে সেনাসেবাই এখন কার্যত জনসেবার বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে এখানে।

এই সেবা বাধ্যতামূলক, তবে বিনামূল্যে নয়।

আমাদের দেশে তরুণদের মধ্যে বাধ্যতামূলক জনসেবার ব্যবস্থাটি চালু করা প্রয়োজন। ব্যবস্থাটিকে এভাবে উত্তরণ করা যেতে পারে, স্নাতক পর্যায়ের ডিগ্রি নিতে গেলে এক বছরের জনসেবার প্রমাণ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করতে হবে। স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ন্যূনতম ষোলো বছর ব্যয় করতে হয় একজন ছাত্রকে, এর মধ্যে বাহান্নটি সপ্তাহ সে বিভিন্ন জনসেবায় সম্পৃক্ত হতে পারে। টানা এক বছর করতে হবে, এমন কোন বাধ্যতা না রাখলে তা সহজেই সম্ভব।

জনসেবা কার্যক্রম চালু হতে পারে গ্রামের প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষাদান থেকে শুরু করে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায়। ত্রাণ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে খেলার মাঠে ভলান্টিয়ারিং, সবই এর মধ্যে পড়তে পারে।

প্রচুর যোগ্য মানুষ আমাদের, শুধু কাজে লাগাতে হবে। একজন স্নাতক যেন গর্ব করে বলতে পারেন, তিনি দেশের জন্যে অন্তত একটা বছর নিঃস্বার্থ সেবা দিয়ে এসেছেন।

[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।