Friday, October 03, 2008

দ্য ব্ল্যাক বুক

ওরহান পামুকের এই বইটি আমার প্রিয় অর্ধসমাপ্ত উপন্যাসগুলির একটি। সমাপ্ত করার পরেও একই মুগ্ধতাবোধ থাকবে কি না জানি না। হয়তো অসমাপ্তির অপূর্ণতাবোধই মুগ্ধতার ছদ্মবেশে আমার মনে ধূলোর মতো জমে আছে।

আমি নিজেকেই প্রশ্ন করতে পারি, অর্ধসমাপ্ত একটি উপন্যাস সম্পর্কে কোন কিছু লেখার ঔচিত্য নিয়ে। হয়তো আমি যতটুকু পড়েছি, তার পর থেকে শেষটুকু পর্যন্ত উপন্যাসটি পুরোদস্তর অশ্ববিষ্ঠা, হয়তো আমি যতটুকু পথ পেরিয়েছি ঠিক ততটুকুই শেফালি-আবৃত ছিলো। কে জানে?

আমার ভাবনাটুকু তাই উপন্যাসের পঠিতাংশটি নিয়েই, যতটুকু অপঠিত, তা চাঁদের উল্টোপিঠের মতোই দৃশ্যাতীত।

উপন্যাসটি একটি দম্পতিকে নিয়ে শুরু, তাদের নাম গালিপ ও রুইয়া। রুইয়া গালিপকে ছেড়ে চলে যায়, প্রায় কোন কিছু না জানিয়ে। বিস্মিত ও আহত গালিপ রুইয়াকে খুঁজতে শুরু করে স্থানে-অস্থানে।

উপন্যাসের জোড় পরিচ্ছেদগুলি সবই গালিপ ও রুইয়ার বন্ধু ও আত্মীয় কলামিস্ট চেলালের পত্রিকায় লেখা কলাম। সেখানে চেলাল ইস্তানবুল শহরের স্মৃতি ও বর্তমান নিয়ে অদ্ভূত মোহনীয় সব কলাম লেখে।

সেই কলামগুলির মধ্যে গালিপ রুইয়ার অন্তর্ধানের আভাস খুঁজে পায়। সে রহস্যভেদে বেরিয়ে পড়ে। বেজোড় পরিচ্ছেদগুলি গালিপের এই শার্লকপনার বর্ণনা, আর জোড় পরিচ্ছেদে চেলাল এঁকে চলে একটি শহরের অসংখ্য ছবি।

বইটির সেই জোড় পরিচ্ছেদগুলিই মনে দাগ কেটেছিলো খুব। এক একটি বাক্য মূর্তি হয়ে ভেসে ওঠে মনে। পামুকের আরেকটি উপন্যাস, মাই নেম ইজ রেড পড়েছি শুধু, কিন্তু অসমাপ্ত ব্ল্যাক বুক তার চেয়েও গভীর কর্ষণচিহ্ন তৈরি করেছে স্মৃতিতে।

দেশ ছেড়ে আসার আগের রাত পর্যন্ত পড়ছিলাম দ্য ব্ল্যাক বুক। এখনও তার অপঠিত, অসমাপ্ত পরিচ্ছেদগুলি আমার অবর্তমানেরই সমান্তরাল। এই অপঠনের কাতরতাই হয়তো আমার ভেতরে ভালোলাগাটুকু বাঁচিয়ে রেখেছে।

[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।