Monday, September 22, 2008

ইসলামাবাদে বোমা হামলা

জেনারেল পারভেজ মুশাররফ গদি ছাড়তে না ছাড়তেই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন গণতন্ত্রোদ্ধারী বাহিনী পাঁচিল টপকে ঢুকে পড়েছে পাকিস্তানে। দু'দলে গোলাগুলিও বিনিময় হয়েছে কিছু, যদিও তা নিয়ে দু'পক্ষই পড়ে কিল চুরি করছে।

রাজধানী ইসলামাবাদে বোমাবাহী ট্রাক পার্লামেন্টভবনে হামলা করতে না পেরে উড়িয়ে দিয়েছে পাশের হোটেল ম্যারিয়ট। এবিসি নিউজের মার্ক করকোরানের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, হোটেল ম্যারিয়ট হচ্ছে পাকিস্তানে তথ্য কেনাকাটার অন্যতম স্থান, যে তথ্য সেখানে ক্ষমতার খেলাকে প্রতিমূহুর্তে প্রভাবিত করছে। ৯/১১ এর পর ম্যারিয়ট হয়ে পড়েছিলো মিডিয়ার আস্তানা, তার প্রতিটি রুম নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার মধ্যে একটা কাড়াকাড়ি পড়ে গিয়েছিলো, আর ২০০৪ থেকেই ম্যারিয়টের ওপর শুরু হয়েছে বোমা হামলা। ম্যারিয়ট ছিলো রাজনীতিক, কূটনীতিক, ওয়ারলর্ড, মাদকমোগল আর আইএসআইয়ের এজেন্টদের সম্মিলনস্থল।

শনিবারে এক ট্রাক এসে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ম্যারিয়টকে প্রায় ধ্বসিয়ে ছেড়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের প্রধান রেহমান মালিক জানিয়েছে, আজ সকাল সাড়ে নয়টা অব্দি ৫৩ জন নিহত এবং ২৬৬ জন আহত হয়েছে। আহত ও নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। নিহতদের মধ্যে চেক প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত ইভো জ্দারেকও রয়েছেন, ডেনমার্কের একজন কূটনীতিক হামলার পর নিখোঁজ হয়েছেন। নিহতদের বেশির ভাগই নিরাপত্তারক্ষী ও স্থানীয় মানুষ। মালিক আরো দাবি করেছে, হামলাকারী আত্মঘাতী আফগান সীমান্তবর্তী অঞ্চলের লোক এবং সেই ট্রাকে ৬০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক ছিলো।

এক কৌতূহলোদ্দীপক ফুটেজও দেখিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, হোটেলের সিসিটিভি থেকে পাওয়া। সেখানে দেখলাম, একটা ট্রাক এসে হোটেলের ব্যারিয়ার ভেঙে ঢুকে থেমে গেলো, তার কিছুক্ষণ পর তাতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠলো। নিরাপত্তাকর্মীরা ইতস্তত ছোটাছুটি করছে, একজন অগ্নিনির্বাপক এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বিস্ফোরণের দৃশ্য এই মিনিটখানেকের ফুটেজে নেই। বিবিসির পক্ষ থেকে আত্মঘাতী প্রাথমিক বিস্ফোরণ এবং পরবর্তী ধ্বংসস্তুপের ফুটেজ পাবেন এখানে। আকাশ থেকে নেয়া ধ্বংসযজ্ঞের ফুটেজ পাবেন এখানে

পাকিস্তানের বড় বড় নেতাদের নাকি ম্যারিয়টে সেদিন নৈশ আহারের পরিকল্পনা ছিলো। তারা বহাল তবিয়তেই আছে, মারা গেছেন নিরীহ মানুষ।

পাকিস্তানীরা যে বিষবৃক্ষের বীজ নিজেরা বপন করেছে, লালন করেছে, রক্ষা করেছে এতদিন, সেই বিষবৃক্ষের ফল তাদের এখন ভোগ করতে হচ্ছে। পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ এর হাত থেকে পরিত্রাণ পাবেন কি না জানি না, তাঁদের প্রতি রইলো গভীর সমবেদনা। আজ আপনারা যে কয়েকটি লাশ চোখের সামনে রেখে কাঁদছেন, তেমনি লক্ষ লক্ষ লাশ চোখের সামনে রেখে আমরা কেঁদেছি। আপনারা তখন হন্তারক ছিলেন, এখনও সে ইতিহাসকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন। দুনিয়া গোল। যে মৃতদেহ আমাদের মাটিতে পঁচে গলে মিশে গেছে, তা আপনাদের মাটিতে আবার ভেসে উঠছে।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।