Wednesday, September 24, 2008

প্রবাসে দৈবের বশে ০৫০

১.
দীর্ঘদিন পর জ্বর হলো।

খুচরা সর্দিকাশিকে নিত্যসঙ্গী করেই বেঁচে আছি, কিন্তু জ্বরের দেখা পাইনি বলে দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর আবার সাক্ষাতের মতো একটা অনুভূতি হচ্ছে।

কাসেলে শীত নেমে পড়ছে পড়ছে ভাব, গতকাল ঘুম থেকে উঠে জানালার বাইরে পাতা ঝড়ার দৃশ্য দেখলাম বছরে এই প্রথম। টিপটিপ বৃষ্টি পড়ে সারাদিন, হিম হাওয়া চালায় একটু পরপর। চারদিক ভেজা, ঘরে হীটার মৃদু লয়ে চালিয়ে বসেছিলাম সারাদিন। তবে সন্ধ্যেবেলা ডাঁই হয়ে থাকা হাঁড়ি-বাসনকোসন ধুতে ধুতেই মনে হয় জ্বরের শূককীট শরীরে ঢুকে পড়েছে।

হাঁচি শুরু হলো একটু পরই। প্রলয়ঙ্করী হাঁচি, সাফার-সিম্পসন স্কেলে ক্যাটেগরি ফোর তো হবেই। হাঁচতে হাঁচতে ঘাড় ব্যথা হয়ে যাবার দশা। এলাচ আর আদা দিয়ে চা খেয়ে শুধুমুধু ঘুমটা চটলো, জ্বরকে ঠেকিয়ে রাখা গেলো না। জ্বরের মূককীটকে শরীরে নিয়ে বসলাম পাওয়ার সিস্টেমস নিয়ে।

আজ থেকে পাঁচ বছরে আগে শেষ কষেছি এসব প্যাঁচঘোঁচ, বহু জিনিস ভুলে গুলে খেয়ে বসে আছি। লাইব্রেরি থেকে দেখেশুনে বই তোলার পরও ঘরে এসে বই খুলে দেখি, সব হিজিবিজি ঠেকছে। দুনিয়ার হাবিজাবি দিয়ে ভরা জিনিসপত্র, আমার দরকার এলিমেন্টারি কিছু। নিজের ই-বুক সংগ্রহ ঘেঁটে দেখলাম গোটা দুয়েক স্ক্যান করা বই আছে সেখানে, সেগুলো খুলে পড়ছি কয়েকদিন ধরে। জিনিসগুলি খুবই ইন্টারেস্টিং, জ্বরের ঘোরে পড়তে গিয়ে একটু এলোমেলো ঠেকলেও ভালোই লাগছিলো। চটকা ভাঙার পর উঠে দেখি ভোর সাড়ে পাঁচটা বাজে।

আজকে বেড়াতে যাবার কথা ছিলো একজনের সাথে, দশটার দিকে ঘুম থেকে উঠে তাকে জ্বরের কথা জানিয়ে আবার ঘুম দিলাম। শরীরে তখন জ্বর পুরো ডানা মেলা প্রজাপতি, প্রচন্ড গলাব্যথা, মাথার ভেতরে মনে হচ্ছিলো কেউ গ্রেকো-রোমান কুস্তি প্র্যাকটিস করছে। দুপুরে ঘুম ভেঙে উঠতেই আরেকটা ফোন পেলাম, প্রায় বছর খানেক আগে একটা স্টুডেন্ট জবের জন্যে অ্যাপ্লাই করেছিলাম, সেখান থেকে খোঁজ এসেছে, আমি আগ্রহী কি না।

সামনে আরেকটা পরীক্ষা, আর আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পাওয়ার নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত অনেক হাবিজাবি আবার ঝালিয়ে নিতে হবে। জিনিসগুলো বার করে দেখলে ভেতরে একটা ঘাই দেয়। আসলেই অনেকগুলি বছর কিভাবে কিভাবে যেন কেটে গেলো। লোড বাস, জেনারেটর বাস, সুইং বাস, এ-বি-সি-ডি প্যারামিটার সব নাচানাচি করছে চোখের সামনে।


২.
মেজাজটা চটে আছে। ভাল্লাগছে না কিছু। এই মুভিটা দেখে মেজাজ আরো খারাপ হয়েছে, কিন্তু প্লটটা ভাবনা জাগানোর মতো। কিল বিল দেখে যদি কারো ভালো লাগে, তাহলে তিনি এটাও পুরোটা দেখতে পারবেন। কিল বিল বেশ রিপালসিভ হওয়া সত্ত্বেও আমার বেশ প্রিয় সিনেমা, তবে ১১:১৪কে পছন্দের তালিকায় রাখবো না।





[]

12 comments:

  1. This comment has been removed by the author.

    ReplyDelete
  2. ১. আমার দ্বিতীয় মন্তব্যও হাপিশ। এবারও অবশ্যই আপনার আকাশসম উদারত্ব অব্যাহত আছে এবং দোষ পুরাটাই মডুরামের এলার্জির।

    ২. ভুল বুঝবেন না, এই পলিগ্যামি সেই পলিগ্যামি না। শকুন দোআ করেছে যেন এথিকসদের সাথে বহুগমন করা অব্যাহত রাখতে পারেন, কোন একটা নির্দিষ্ট এথিকসের প্রতি বিশস্ত না থেকে।

    ৩. ছাগুকন্টেন্টে এলার্জি, কর্তৃপক্ষের একজনই নিঝুমকে ছাগু ফতোয়া দেয়াই না সাবধান করলাম, এলার্জির বহিপ্রকাশ গলা চিপে ধরায় শেষ হবে।

    ৪. আমাকে আপনি কিছু বলে কষ্ট দেন নি, নিজেকে অতোটা ক্ষমতাবান ভেবেন না। বলেছিলাম, তব্ধা খেয়েছি। কারন, আপনি এক বদ্ধ দরজা আড্ডায় শত্রুপক্ষের এক ব্লগারের যৌনজীবন নিয়ে স্পেকুলেটিভ আলোচনা করছিলেন। তখন আমি আরেকটু ছোট ছিলাম, পৃথিবীকে আরেকটু সুন্দর মনে হতো। তাই তব্ধাটা মনে আছে। এটা কোন এথিকসের কোন ধারায় হালাল হয়, ধর্ম বা অধর্ম কোন সংজ্ঞায় শোভন, একজন মানুষের রুচি বিকৃতি কোন পর্যায়ে ঘটলে সেটা সম্ভব সেসব ভেবেই তব্ধা খেয়েছিলাম।

    ৫. নিজে ধর্ম পালন না করে, ধর্মের বাইরে থেকে নিজের মন মত ধর্ম ব্যাখ্যা দিয়ে ধর্ম পালনকারীদের ধর্ম শিখানো... এটা কি নিজের কথা সত্য বলে প্রতিষ্ঠার জন্য ধর্মের ব্যবহার হলো না? আপনার আচরণের সাথে সেই সব মোল্লাদের আচরণের কোন পার্থক্য নেই যারা হিন্দুরা কেন গো মাংস খায় না, কালীর গায়ে কাপড় নাই কেন এই সব টপিক নিয়ে লাফায়। এইটাকেই বলেছি এথিকস সংক্রান্ত বহুগামিতা।

    ৬. আর জামাতের কথা বলেন? প্রথম মন্তব্য থেকেই রেফারেন্স জামাতের। এই একটা কথা বলে আমাকে ডিভেনসিভ বানিয়ে ফেলা ভীষণ সহজ, কি মজা, বুঝে ফেলেছেন! তাছাড়া, পাছে পাঠক আমার কথায় যুক্তি পেয়ে যায়! জামাতের নাম বললেই আর কোন ভয় নেই, তাই না? আপনার এই কুৎসিত চেহারাটা আগে দেখি নি, তর্কের মোড় ঘুরাতে এতটা নগ্ন ভাবে ব্যক্তিগত আক্রমন।

    ডোন্ট টেল মি হু আই অ্যাম। আমার জীবনের প্রায়োরিটি আপনাকে ঠিক করে দিতে হবে না।

    আপনি জামাতের কাউকে কাছ থেকে দেখেছেন কখনও? আই থিংক নট। না, জামাতের সবাই ফেরেশতা এই স্টেইটমেন্ট দিতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করি নি। কোন বিতর্ক জিততে হলে, বিপক্ষ কি যুক্তি দিবে, সেইটা জানা থাকা লাগে, কিন্তু কখনও, কখনও বিপক্ষের যুক্তিকে যুক্তিযুক্ত মনে হতে হয় না... বিতর্কে মাঝামাঝি কিছু নেই, সব ল্যাটারালাইজড। যেই মুহূর্তে মনে হবে প্রান্তিক কোন অবস্থানে নিজেকে মানাচ্ছে না, তখনই হার, তাই না? আমি বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে জামাতের অনেক মানুষ দেখেছি। ভালো দেখেছি, খারাপ দেখেছি, গুণ দেখেছি, দোষ দেখেছি। আপনার চেয়ে অনেক ভালো করে জামাত চিনি। চিনি বলেই আপনার মত করে ভাবতে পারবো না কখনও। আর যেইটা ভাবতে পারবো না, সেইটা বলার মত পলিগ্যামাস কি করে হই বলেন? আপনার কোন লেখায় ধর্মের ব্যবহার নেই বলছেন? আমার কোন পোস্টে জামাতের বা জামাতের কোন মানুষের রেফারেন্স দেখাতে পারবেন? পারবেন না, কারণ নেই। আমার যা কিছু বলা, সব কিছু ডিবাট হিসেবে, আমার কাছে জামাত ফার্স্ট প্রায়োরিটি না, সেকেন্ড থার্ড কিছুই না... কিন্তু তারপরেও আমি যা সত্যি ভাবছি সেটা নিয়ে চুপ থাকতে পারি নি বলেই বলেছি অনেক কিছু নানা সময়ে। আপনি, আপনারা জামাত অবসেশনে ভুগছেন, আপনাদের কাছে এসে আমিও একটু রোগে পড়েছিলাম এই আর কি। টেনশন সাইটটা ব্লোন আউট অফ প্রপরশন হয়েছে, যেটা হয়।

    আমি জামাত নিয়ে কথা বলতে এক সময় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম, তারপর বুঝলাম, আমার কথা শুনে আমার উপর জামাতের তকমা লাগানো হচ্ছে, যা আমার আর সব কিছু ঢেকে দেয়। দ্যাট ইজ নট হু আই অ্যাম। তাছাড়া, সবাই তো আপনার মত করে মধুর বাহাস করতে পারে না, তাদের সীমিত শব্দভান্ডারের সব টেনে টুনে যখন আপনার কথাগুলোই নিজেদের সীমিত শব্দ দিয়ে বলে, তখন সেগুলোর মুখোমুখি হয়ে ধন্ধে পড়ে যেতে হয়--সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য এত কুৎসিত ভাষা আর উপমা দরকার হয়? তাছাড়া, ওদের নোংরা হাত আমার ব্যক্তিগত জীবনেও পড়ছিল। ব্লগজীবনের বাইরে গিয়ে হাতাহাতি, আমার প্রিয় মানুষদের নিয়ে নিয়মিত অশ্লীল পোস্ট। আপনার অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিগত আক্রমন জাস্টিফাইড হলে ওদের আচরনও জাস্টিফাইড। দুইটা একই ধারার, আপনারটা খালি একটু সফিস্টিকেইটেড, প্রথমেই অন্যায় বলে মনে হয় না।

    সে যাক গে, আপনার আমার পথ আলাদা, তাই তো? কোথায় যেন পড়ছিলাম, কোন একটা সংখ্যালঘিষ্টের সংখ্যা ১০% ছাড়িয়ে গেলেই ঝামেলা শুরু হয়। নিঝুম এখনও ১% এর মধ্যেই আছে, তাই সচল এখনও শান্তিতে, তাই না? দেশে কি করে শান্তি হবে, সংখ্যাটা ১০% ছাড়িয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দুরাও ১০% এর আশে পাশেই। কোন সংখ্যালঘিষ্টের মুখ বন্ধ করবেন? নিজের সংজ্ঞায় যা ভুল এবং অন্যায়? তারপর সেই সংখ্যালঘিষ্টকে 'যে কোন উপায়ে' সাপ্রেস করতে হবে? ছাগু ফতোয়া, ভার্চুয়াল দোররা, পারসোনাল লাইফ নিয়ে টানাটানি? তাহলে হিন্দুবিদ্বেষী দাঙ্গাবাজরা আর কি দোষ করলো? আপনাদের এরকম অনেক অসঙ্গতি আমি কখনও বুঝবো না। এই প্রশ্নগুলা অবশ্য করা যাবে না। ছাগুকন্টেন্ট ফিল্টারে আটকা পড়ে যাবে।

    আপনার জবাব পড়তে আমার আর ফিরে আসা হবে না। কিছু কোন কিছু খুব জানাতে ইচ্ছা করলে আমার ব্লগ আছে। আর যদি অ্যাজ য়ুজুয়াল আপনার পারফরমেন্সই সার হয়, তাইলে মনের ঝাল মিটিয়ে জবাব দেন। বীরত্ব দেখান। কয়েকজন জোগালী জুটিয়ে তালিয়া দেয়ারও ব্যবস্থা করেন। দরকার হলে এই মন্তব্য মডিফাই করে নেন। তারপর মেয়েলী কায়দায় দরজা বন্ধ করে কুটনামী করেন, স্পেকুলেশন করেন।

    হ্যাপি পলিগ্যামি :)

    ReplyDelete
  3. 2 মন্তব্য:
    TanCurve said...
    This post has been removed by the author.
    2:05 AM, October 21, 2008


    আপনি বলছেন,

    ১. আমার দ্বিতীয় মন্তব্যও হাপিশ। এবারও অবশ্যই আপনার আকাশসম উদারত্ব অব্যাহত আছে এবং দোষ পুরাটাই মডুরামের এলার্জির।

    আপনি কী বোঝাতে চাইলেন, বুঝিনি। আঁচ করছি, এখানে আপনার মন্তব্য মোছা নিয়ে কিছু বলছেন। আমি দেখতে পাচ্ছি আপনি একটা কিছু বলে মুছে দিয়েছেন নিজেই।

    ২. আপনি আমার অনুসৃত একাধিক এথিকস উদাহরণসহ উল্লেখ করুন। যদি করতে না পারেন, আপনার অ্যাঙ্গল অব অ্যাটাক নিয়ে আবার ভাবুন। আমি তো দেখি এ কাজে আপনিই দক্ষ।

    ৩. আপনি ঠিক ধরেছেন। সচলে ছাগুদের বিচরণ সীমিত করা হয়। ঘাস মাঠে পাবেন।

    ৪. আপনি এক কাজ করুন, বদ্ধ দরজার আড্ডা নিয়ে আপনার কল্পনাগুলি গুছিয়ে একটা গল্প লিখে ফেলুন। আমরা পড়ে তব্ধা খাই। "শত্রুপক্ষ" কথাটার ব্যবহার শুনেই বোঝা যায়, আপনি যখন যুক্তিতে লড়তে পারবেন না, তখন তাদের ঘাড়ে বদ্ধ দরজার আড্ডায় বসে যৌন গুলগল্পের অভিযোগ করে কেটে পড়বেন। এখন যদি আমিও আপনার মতো বলি, হে আস্তমেয়ে, আপনি একটি বদ্ধ দরজার আড্ডায় আমার যৌন কীর্তিকলাপ নিয়ে অশ্লীল সব গল্প ফেঁদেছেন? ভিত্তিহীন অভিযোগ না করে বরং যেসব যুক্তি দিয়ে আসলেই আপনাকে ঠেশ দেয়া হয়েছে সেগুলির উত্তর দিন না কেন?

    ৫. নিজে ধর্ম পালন না করে যদি ধর্ম নিয়ে কথা বলা না যায়, তাহলে সবার আগে আপনার উচিত ধর্ম নিয়ে চুপ থাকা, কারণ আপনি এটি ব্যবহার করেন, এবং পালনের অভিনয় করেন। এটি এথিকস নিয়ে বহুগামিতা নয়, এটি এথিকসের ধর্ষণ।

    ৬. আপনি যে জামাতি পরিচয় নিয়ে লজ্জিত, জেনে ভালো লাগছে। তর্কের মোড় ঘোরাতে নয়, তর্কে আপনার স্ট্যান্ড পরিষ্কার করার জন্যেই বলা। এতে যদি আমার চেহারা কুৎসিত লাগে আপনার কাছে, কী করণীয়? আমি আপনার চোখে সুন্দর হয়ে থাকার কষ্টদায়ক সংকল্প নিয় তো কথা বলি না :) ।

    ৭. প্লিজ, দেখান না আমার কোন লেখায় ধর্মকে কোন স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে? লিঙ্ক দিন। পড়ে দেখি আবার।

    জামাতের লোকজন সম্পর্কে রেফারেন্স তো কম নেই মাদমোয়াজেল। আপনি এক কথায় নেই বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন, আমি বলছি আছে। আপনি তো বালিশের নিচে গোলাম আজমের বই রেখে পড়েন :), সেইসব রেফারেন্স আপনাকে দেখালেও আপনি ফুৎ দিয়ে উড়িয়ে দেবেন। আপনি যেমন ছোটবেলা থেকে জামাতের লোকজনের আচরণ দেখেছেন, আমিও দেখেছি। তারা ঘরে বসে মিষ্টি আচরণ করেন না, এ তো বলিনি? আমি বলছি তাদের রাজনীতির কথা, যেটা নোংরা।

    সত্য প্রতিষ্ঠার জন্যে "কুৎসিত" হলাম কোথায়, একটু দেখান। মিথ্যা প্রতিষ্ঠার জন্যে আপনি কাছা মেরে নামতে পারেন, আর তার উত্তরে যখন প্রশ্ন করি, হে মুহতারামা, আপনি কেন ব্যক্তির অঙ্কিত প্রতিকৃতিসহ একটি দেশের কারেন্সি নোট ব্যবহার করেন, তখন উত্তর দিতে পারেন না, গালমন্দ করেন। এটা কি আপনাকে পীড়া দেয় না?

    আপনি নিঝুমকে নিজের দলে টানছেন শুনলে সে ভয়ানক চটবে। এই ক্ষতে খুঁচিয়ে সুবিধা করতে পারবেন না, অন্য ইস্যু লাগবে। আর এই যে হিন্দুবিদ্বেষী ফ্র্যাকশনের কথা বলছেন, এখানেই টের পাওয়া যায় আপনার অনুসৃত রাজনীতির সারফেসের নিচের দর্শনটা। বিদ্বেষ। আমার চোখে অন্যায় হচ্ছে ধর্মের নামে নিজের নোংরা রাজনীতি উদ্ধার, আমি এর বিপক্ষে। পক্ষান্তরে আপনি ধর্মের দোহাই দিয়ে হত্যা, লুট, ধর্ষণ আর অগ্নিসংযোগকারীদের সাফাই গাওয়ার পক্ষে। আপনার আমার রাস্তা তো একটু আলাদা হবেই।

    হ্যাঁ, আপনার ইন্টেনশন যখনই থাকবে ফ্যানাটিক রাজনীতির প্রোপাগান্ডা, তখন ছাগুফিল্টারে আটকে যাবে। অন্য ব্যাপারে স্বাভাবিক কিছু লিখুন, আটকাবে না। সিম্পল, তাই না?

    আপনি যেসব বুদ্ধি দিলেন, সেগুলো কাজে লাগাবো না। আপনার সাথে বীরত্ব দেখানোর প্রশ্ন আসছে কেন, আপনি কি কুস্তি করতে এসেছেন আমার সাথে :) ? আর দরজা বন্ধ করে কুটনামি আর স্পেকুলেশনের কায়দাটা যে মেয়েলি, সেটা তো আপনিই বললেন :)।

    আপনার ব্লগে যাওয়া হয় না। কাজেই আপনি যদি এখানে এসে উত্তরটা না পড়েন, তাহলে কিছু করার থাকবে না।

    পলিগ্যামির শুভেচ্ছার জন্যে ধন্যবাদ। আপনি মনোগ্যামির পথে আসুন, এই হার্দিক শুভকামনা রইলো। আহলান ওয়া সাহলান, জাযাকুল্লাহ খাইরান।

    ReplyDelete
  4. ১. সচলে পাবলিশ না করা আরেকটা মন্তব্যের কথা বলছিলাম।
    আপনার ব্লগে আসতে ইচ্ছা করছিল না, ভেবেছিলাম 'ইমেইল ফলোআপ' দিব, প্রথমবার দেয়া হয় নি, তাই মুছে আবার করেছিলাম, সেজন্যই সেই ম্যাসেজ।

    ৪. ঠেশ দিয়ে কথার জবাব চান?

    ছবি আঁকা আর ছবি তোলার মধ্যে পার্থক্যটা বললেন সূক্ষ্ম? এই কথাটা আপনি কি করে বললেন? ডোন্ট য়ু নো দ্যা ফিজিক্স অফ ফটোগ্রাফী? পোট্রেইট হোক আর যাই হোক, স্রষ্টার সৃষ্টি (আলো এবং যার উপর আলো পরে তা) অবজারভ করে কেবল একটা মুহূর্তকে ধরে রাখা... ঠিক যেভাবে স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন, সেভাবে। সিলভার নাইট্রট আর আলোর প্রতিক্রিয়া। ফটোগ্রাফী এবং ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করা আর ছবি আঁকা/ভাস্কর্যের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই বা পার্থক্যটা সূক্ষ্ম-- এটা বলে আপনি হাজার হাজার বছরের দুনিয়া জোড়া কত শত শিল্পীকে অপমান করলেন, বুঝেন?

    " হে মুহতারামা, আপনি কেন ব্যক্তির অঙ্কিত প্রতিকৃতিসহ একটি দেশের কারেন্সি নোট ব্যবহার করেন, তখন উত্তর দিতে পারেন না, গালমন্দ করেন। (গালমন্দ করলাম? উদাহরন প্লিজ।) এটা কি আপনাকে পীড়া দেয় না?"

    -- কুরআনের আয়াত 'কেউ অন্য কারো কর্মফল ভোগ করবে না।' কারেন্সি আমি ডিজাইন করি নি, কারেন্সীর ছবিও আমি আঁকি নি।

    তাছাড়া, আপনি ইসলাম সম্পর্কে ইন্টারেস্টেড না, যারা ইন্টারেস্টেড না, তারা ইসলামের জ্ঞান ডিজার্ভও করে না, আর আমি ওদেরকে দিতেও চাই না। আপনি ইন্টারেস্টেড না বলে তেমন জানেন না। যতটুকু আপনার তর্কের খাতিরে দরকার হয়, ততটুকু খুঁজে নেন। মুর্খ মানুষের কথার জবাব দিতে আগে ব্যাকগ্রাউন্ড দিতে হয়, যেটা আমার ছাত্র পড়ানোর সময় ওদেরকে দিতে ভালো লাগে, বুড়া বুড়া সবজান্তা ভাব করা ব্যাটাদের দিতে ভালো লাগে না. বিরক্তিকর যন্ত্রনা মনে হয়।

    একটা হাদীস আছে যেখানে আয়েশা (রা) প্রানীর ছবি সহ একটা পর্দা ব্যবহার করায় মুহাম্মদ (সা) রাগ করেছিলেন, কিন্তু সেটা কেটে বালিশের গেলাফ তৈরি করার পরে রাগ করেন নি। আয়েশা (রা) পুতুল খেলতেন, যেইগুলা প্রানীর প্রতিকৃতি ছিলো, সেগুলোতে মুহাম্মদ (সা) এর সম্মতি ছিলো।

    এইগুলা থেকে আমি নিজে মনে করি প্রানীর প্রতিকৃতি তৈরির ব্যাপারটা উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে। কিন্তু এই লাইন অফ থটটা ভীষণ কন্ট্রোভার্শিয়াল, (প্লীজ ডোন্ট ইকুয়েট কন্ট্রোভার্সি উইথ মওদূদীবাদ, ইন দিস কেইস ইট ইজ নট। মওদূদী এই ক্ষেত্রে ট্রেডিশনাল আলেমদের কথা সত্যি মনে করতেন)। কন্ট্রোভার্শিয়াল বলেই আমি নিজে এইটা প্র্যাকটিস করি, কিন্তু এইটা 'অ্যাডভোকেট' করি না। আমি ধর্ম যাজক না, ধর্ম সম্পর্কে অনেক বেশি জানিও না, তাই আমি যা ভাবি, সেটাকেই ইসলামের চিন্তাভাবনা বলে 'অ্যাডভোকেট' করার অধিকার আমার নাই বলে মনে হয়।

    আমি আপনাদের সচলে লিখছিলাম, 'এই সম্পর্কে ইসলামে যা আছে....' আমি শব্দগুলো সাবধানে লিখেছিলাম, নিজের বলে দাবী করি নি। ইসলামের বেশির ভাগ আলেম মনে করে ভাস্কর্য পুরাপুরি হারাম, যদিও ভাস্কর্য তৈরি হারাম বলে, কিন্তু ভেঙে ফেলা ব্যক্তিগত দায়িত্ব তেমনটা বলে না। যাই হোক, কখনও ইসলাম সম্পর্কে 'যথেষ্ট' জানলে নিজের চিন্তাধারা ইসলামের একমাত্র সঠিক ধারা বলে হয়তো দাবি করতে পারব, এখন সাহস পাই না। ভয় হয়, আমার থেকে মানুষ ইসলাম শিখলে যদি আমি ভুল হই, তাইলে আরও অনেকের কর্মফলের দায়ভার আমাকেও নিতে হবে। এই ইমোশনটা কি আপনি বুঝবেন? না। আপনি তর্কের খাতিরে ইসলাম টানেন, ইসলামে কোনটা 'সত্যি' সেইটা 'খুঁজে বের করার' চেষ্টায় না, কারণ আপনি ইসলাম সম্পর্কে নিজের অপিনিয়ন অলরেডি দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন, য়ু ডোন্ট থিংক য়ুর অপিনিয়ন উইল চেইঞ্জ ইন দ্যা নিয়ার ফিউচার। আমি মনে করি আমার এখনও শিখার অনেক বাকি আছে। এখনও তাই অন্যদের উদ্ধৃতি দেই। আপনার কথা পাশ কাটানোর ব্যাখ্যা এইটা।


    ৫. "নিজে ধর্ম পালন না করে যদি ধর্ম নিয়ে কথা বলা না যায়, তাহলে সবার আগে আপনার উচিত ধর্ম নিয়ে চুপ থাকা, কারণ আপনি এটি ব্যবহার করেন, এবং পালনের অভিনয় করেন।" -- কিরামুন কাতেবীনের করা রিপোর্ট ডাবল চেক করার জন্য আল্লাহ আপনাকে হায়ার করেছে বুঝি?

    ৬. "আপনি যে জামাতি পরিচয় নিয়ে লজ্জিত, জেনে ভালো লাগছে।" দুইটা স্টেইটমেন্ট, 'আপনার জামাতি পরিচয়' এবং 'আপনি লজ্জিত'.... দুইটা কোথা থেকে ইনফার করলেন? প্লীজ রেফারেন্স দিন।

    ৭. আমি হিন্দুবিদ্বেষী ফ্র্যাকশনের কথা বলি নি। বাংলাদেশের বেশির ভাগ ধার্মিক মানুষ যুক্তি দিয়ে ধর্ম বুঝে না, বরং নিজেদের যুক্তিগুলো মডিফাই করে নেন ধর্ম বিশ্বাস দিয়ে। নিঝুম সেই দলের। আমি নিজেও সেই দলে। এই দলে আসতে নিঝুম মাইন্ড করবেন বলে মনে হয় নাই। আপনাদের সচলে এই দলের মানুষ কম। যখন বাড়বে, তখন তর্কগুলো গরম হবে, কারণ আপনারা কিছুতেই ধর্মের চশমা পড়া মানুষের যুক্তিকে যুক্তি ভাবতে পারেন না, ওরা কিছুতেই আপনাদের পয়েন্ট অফ ভিউ দেখতে পারবে না। এএমাহবুব মোর্শেদ অনেককাল আগে সা.ই.তে একটা ডায়াগ্রাম পাবলিশ করেছিলেন, ধর্ম বিশ্বাসী আর বিজ্ঞান মনস্কদের থট প্রসেসের পার্থক্য নিয়ে। তিনি ছাগু ভাববেন, ডাকবেন, এইটাই স্বাভাবিক। রোজার সময় আপনাদের ব্লগে কেউ রোজা রাখা নিয়ে ধার্মিক অনুভূতি নিয়ে লিখে নাই (জ্বিনের বাদশার একটা লেখা ছাড়া), ইফতারের লোভে রোজা রাখা বা প্রবাসে গিয়ে রোজা না রাখা, খুব বেশি হলে কোথায় গিয়ে রঙিন পানীয় খেয়েছে সেই গল্প করছে। ধর্ম কেউ পালন করলে তার লাইফ স্টাইল আলাদা হয়ে যায়, চিন্তাভাবনার ধারা অন্য রকম হয়, যুক্তির ধরন অন্য রকম হয়। এই ডিফারেন্সটা ড্রাস্টিক, এবং ১০% এর বেশির লাইফস্টাইল, ইমোশন, সব এত ভিন্ন হলে আসলেই সমস্যা হবে। মিউচুয়াল রেসপেক্ট থাকলে সমস্যা হবে না, কিন্তু সচলে সবাই মোটামোটি একটা কনভিকশন থেকে ধর্ম পালন বাদ দিয়েছে, সেই কনভিকশন এত স্ট্রং যে ধার্মিকদের প্রতি রেসপেক্ট নেই, ইট বিকামস এভিডেন্ট ইন মেনি ইনস্ট্যানসেস। সন্নাসী বলেছিলেন, ধর্মের অসঙ্গতি ধরিয়ে দিলেই ধর্মের অবমাননা মনে করে ধার্মিকরা... সেটা ঠিক। ধর্ম প্রচার আপনাদের কাছে বিরক্তিকর, কিন্তু ধর্ম প্রচারের বিপরীত কি? ধর্মের মহাত্ব ফুটো করে দেয়া, তাই তো? দুইটাই দুই ধরণের মানুষের কাছে অবমাননাকর বা বিরক্তিকর, আপনাদের ওখানে একটা নিষিদ্ধ, আরেকটা নয়।

    চিন্তাভাবনার ধরণ ভিন্ন হলে ম্যানিপুলেটিভ না হয়েও সেটার প্রভাব রাজনীতিতে পড়বেই। বাংলাদেশে মাদ্রাসা পড়ুয়া জনসংখ্যা ১০% হবে না? ওনাদের প্রায়ে সবাই মনে হয় ভাস্কর্য নামানোকে সমর্থন করেছিলেন, জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এই সংখ্যালঘিষ্টকে এক ধাক্কায় 'মোল্লা' ডেকে, ধর্মব্যবসায়ী ডেকে, তাদের পাছায় লাথির সিদ্ধান্ত দিলেই কি সেটা সমাধান?


    ৪. ওইটা লিখার পর ভাবছিলাম, আপনার মূল সাফল্য আপনার চাপার জোর, উইট... আপনার মত মানুষ থেকে কি আশা করে সেটা লিখেছিলাম আমি? অনুতাপে দগ্ধ হয়ে সেলফ রিফ্লেকশন? সেইটা তো হবে না। যাক, অনুমান তো ঠিক হলো।

    শোনেন, আমার ব্যক্তিগত আক্রমন করতে ভালো লাগে না। আফটার টেইস্টটা খুব তিতা লাগে। আপনি যে কোন ধারার ব্যক্তিআক্রমন করে খুব সুখ পান বুঝি, কোথুকে 'সদ্য বাবা হওয়া বন্ধু' ধরে এনে কথার মাঝে ঢুকিয়ে দিলেন, ইসলাম পালন করি না ফতোয়া দিলেন। আমি অপবাদ দিয়ে পালাতেও চাই নি, যুক্তি প্রমানও হাজির করতে চাই না। সত্যিই যদি ভুলে গিয়ে থাকেন, তাহলে আমার কথা তুলে নিলাম। মনে করিয়ে দিতে চাই না।

    "আমার চোখে অন্যায় হচ্ছে ধর্মের নামে নিজের নোংরা রাজনীতি উদ্ধার, আমি এর বিপক্ষে।"

    আপনি যতটুকু রাজনীতি করেন বা বুঝেন, আমি তার চাইতে কম বুঝি।

    আমার ফিলোসফি সরল--প্রত্যেকটা মানুষের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা আছে, সবার আগে ব্যক্তির কাছে, তারপর সমাজের কাছে, তারপর রাষ্ট্র আর বিশ্বের কাছে। ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, সব কিছুর অধিকার লংঘনই অন্যায়।

    আপনি কারো সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ দিলে সেটা তার অধিকার লংঘন। আপনার নিচের স্টেইটমেন্টগুলোর রেফারেন্স দিন। একটা মিথ্যা ১০ বার বলে সেটাকে সত্যি বানানোর রাজনৈতিক ট্যাকটিকটা আমার কাছে নোংরা লাগে। রাজনীতি করতে গিয়ে ভিন্ন চিন্তার মানুষকে দমাতে যে কোন পথ ধরার রাজনীতি আমার কাছে নোংরা লাগে।


    " নিজে ধর্ম পালন না করে যদি ধর্ম নিয়ে কথা বলা না যায়, তাহলে সবার আগে আপনার উচিত ধর্ম নিয়ে চুপ থাকা, কারণ আপনি এটি ব্যবহার করেন, এবং পালনের অভিনয় করেন।"

    "পক্ষান্তরে আপনি ধর্মের দোহাই দিয়ে হত্যা, লুট, ধর্ষণ আর অগ্নিসংযোগকারীদের সাফাই গাওয়ার পক্ষে।"

    পোস্ট/কমেন্টের লিঙ্ক দিলেও হবে, কিরামুন কাতিবীনের থেকে আমলনামার ফটোকপি দিলেও হবে।

    ReplyDelete
  5. আপনি একবার বলছেন, রাসূল যেহেতু কা'বার ভেতরে মূর্তি ধ্বংস করেছিলেন, কাজেই তাঁর উদাহরণ অনুসরণ করে কোন মুসলমান যদি মূর্তি ধ্বংস করে, সেটার বিরোধিতা করা যায় কি না। আবার এসে বলছেন, যার যার কর্মফল তার তার, কুরআনের বাণী অনুযায়ী। তাহলে লালনের ভাস্কর্যটির সমস্যা কোথায় ছিলো একটু বুঝিয়ে বলুন। আয়েশার জন্য প্রাণীর প্রতিকৃতির সাত খুন মাফ, আর বাঙালি একটা বুইড়ার মূর্তি বানায় রাখলে মহাপাপ? ডাবল স্ট্যান্ডার্ড মনে হয় না? আর ঐ হাদিসটার সোর্স একটু জানাবেন তো। ইন্টারনেটে থাকলে লিঙ্ক দিতে পারেন, কোন বইয়ে পড়লে তার নাম, এডিশন আর পৃষ্ঠা সংখ্যা বলবেন প্লিজ।

    লালনের মূর্তিও তো মোল্লারা বানায়নি। এর কর্মফল তো মৃণাল হকের ঘাড়েই চাপার কথা। কিন্তু আপনি এসে ওকালতি করেছেন মূর্তিধ্বংসের পক্ষেই, এমনকি একে রাসূলের পথ অনুসরণ বলে যুক্তিও দিলেন। এখন যখন দেখছেন যে পাসপোর্ট আর কারেন্সিতে প্রতিকৃতি ব্যবহার আপনাকে করতেই হচ্ছে, আপনি ফোটোগ্রাফিকে দায়মুক্ত করছেন স্রষ্টার সৃষ্টির একটা ইনস্ট্যান্স হিসেবে দাঁড় করিয়ে, আর কারেন্সির দায় চাপাচ্ছেন ডিজাইনারের ঘাড়ে। স্রষ্টার দেওয়া পাথর মাটি লোহা কাঠ দিয়েই লোকে মূর্তি বানায়। ওতে দোষ হলে ঘরবাড়ি বানানোও দোষ। আসল কথা হচ্ছে আল্লাহকে ফেলে ওটাকে উপাস্য বানানো যাবে না। আর নেক্সট টাইম বাংলাদেশে মোল্লাদের হাত যে কোন মূর্তি বা প্রতিকৃতি ধ্বংসের সমর্থন এবং তার পক্ষে ইসলামের অপব্যাখ্যা দেয়ার আগে অনুগ্রহ করে আপনার দেশের নোট ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন, পারলে পুড়িয়ে ফেলবেন।

    সামহোয়্যারে আস্তমেয়ের ব্লগটাকি সরিয়ে ফেলেছেন? সরিয়ে না থাকলে ওখানে আপনার লেখা আর মন্তব্য পড়ুন। লিঙ্ক আমার মনে নেই, আপনারই মনে থাকার কথা। কোনটা ছেড়ে কোনটার কথা বলি এখন?

    আপনি আপনার জামাতি পরিচয় নিয়ে গর্বিত তাহলে? ধ্যুৎ। আমারই ভুল। অঙ্গার শতবার ধুলেও নাকি মলিনত্ব যায় না।

    আপনি তো জ্ঞান দিতে গিয়ে অনেক পানি মেশান। সেটা কেউ ধরিয়ে দিলে কান্নাকাটি করেন, তার ঘাড়ে যৌন গুলগল্পের অভিযোগ চাপান। এটা কোন এথিকসের পর্যায়ে পড়ে? আর সবাইকে কেন ইসলাম সম্পর্কে মূর্খ ধরে নেন? ইসলাম সম্পর্কে আপনার আবেগ থাকতে পারে, তার মানে এই না যে এর সম্পর্কে বাকি সবাই আপনার চেয়ে কম জানে। বা জানলেও সমস্যা নেই, ফাঁকটুকু আপনি পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে পারেন, তবে তাতে গোঁজামিল ঢোকাতে গেলে বুঝেশুনে ঢোকাবেন, লোকে ধরে ফেললে আপনার মহাজ্ঞানী ইমপ্রেশন নিয়ে টানাটানি পড়বে।

    ইসলাম সম্পর্কে আমি ইন্টারেস্টেড, কিন্তু অবসেসড না। আমি যেহেতু ইসলাম পালন বা ব্যবহার করি না, তাই অন্য কারো কুকর্মকে ইসলাম দিয়ে হালাল বা সুকর্মকে ইসলাম দিয়ে হারাম করার কাজে লম্ফঝম্প করি না। কেউ যদি তা করে, আমি আপনার মতোই কুরআন, হাদিস আর কমনসেন্স নিয়ে তার উত্তর দিতে চেষ্টা করি। আপনি বলতে চাইছেন, সেটা করার অধিকার আমার নেই। কেন বলুন তো?

    বাংলাদেশের জনসংখ্যা পনেরো কোটির কাছাকাছি। দেড় কোটি লোক মাদ্রাসাপড়ুয়া হয় কিভাবে? আর যদি হয়ও, আপনি তাদের অনৈসলামিক চর্চাকে ইসলামের প্রলেপ মাখিয়ে জায়েজ করবেন কেন? গত চৌদ্দশো বছরে মাদ্রাসার ছেলেমেয়েরা কয়টা মূর্তি ধ্বংস করেছে? প্লিজ, মাদ্রাসার ছাত্র্রদের দিয়ে আপনার জামাতি স্বপ্নপূরণের অপচেষ্টার সমর্থন করবেন না।

    ইসলাম নিয়ে আপনার ইমোশন (দেখুন, এটার প্রতি আমার কোন বিদ্বেষ নেই, আপনার ইমোশন আপনার ব্যাপার) সবাই শেয়ার তো না-ও করতে পারে। এতে সমস্যা কোথায়? আমি টয়লেটে শচীনদেববর্মণের গান গাই হেঁড়ে গলায়, এখন আমি কি গিয়ে বলবো, ভাইসব, আস্তমেয়ে কখনো টয়লেটে শচীনকত্তার গান গায় নাই, কাজেই ও খারাপ। সচলে ধর্ম নিয়ে কোন বিতৃষ্ণা নয়, বরং ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে পরিষ্কার দ্বিমত আছে। আপনি যেমন আপনার রোজা রাখা নামাজ পড়া আরবী শেখা নিয়ে ব্লগিং করে আনন্দ পান, তেমনটা সচলের ধার্মিকেরা হয়তো পান না। সবকিছুর মাত্রার একটা তফাত তো আছে। আর ধর্ম নিয়ে আপনি এতো গলা শুকাচ্ছেন ঠিকই, কেবল পাসপোর্টের ছবি আর পার্সের টাকায় প্রতিকৃতিকে খোঁড়া যুক্তি দিয়ে হালাল করার সময় আপনার মন কাঁপে না। ধর্মকে তখন কোন ক্লজেটে বন্দী করে রাখেন?

    মিউচুয়াল রেসপেক্টের কথা আপনি বলতে পারলেন? খামাখা গিয়ে লালনসাঁইয়ের ভাস্কর্য ভেঙে দেয়া মিউচুয়াল রেসপেক্টের মধ্যে পড়ে? আপনি রেসপেক্ট ডিম্যান্ড করেন অন্যের কাছ থেকে, কিন্তু রেসপেক্ট করেন না অন্যকে। হবে?

    বাংলাদেশের ধর্মব্যবসায়ীদের পাছায় গদাম লাথি মারি আসুন। এদের হয়ে ওকালতি না করি, চলুন। বাংলাদেশে ১১% লোক যদি আজকে দুর্নীতিবাজ হয়, আপনি কি তাদের তোয়াজের পথ বেছে নেবেন? ইসলাম কি সে শিক্ষা দেয়? ন্যায় তো পার্সেন্টেজ বোঝে না। বাংলাদেশের ৯৯% লোকও যদি আজকে বলে চুরি করা ভালো, তাতেই কিন্তু চুরি করা ভালো হয়ে যায় না।

    আমারও ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে ভালো লাগে না বলে আমি আপনাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করিনি। আপনি একটা জিনিস প্রিচ করে বেড়াচ্ছেন, তা নিজে প্র্যাক্টিস না করে। এটা ধরিয়ে দিলেই আপনি মাটিতে গড়িয়ে কাঁদেন ব্যক্তিগত আক্রমণ বলে। ভন্ডামি তো এটা।

    অনুতাপে দগ্ধ হয়ে সেল্ফ রিফ্লেকশন করলাম। করে অনুতাপ কেটে গেলো। আমি কি কখনো ইসলামের নাম করে ধুনী, ধর্ষণকারী, লুণ্ঠনকারী, অগ্নি সংযোগকারীদের সাফাই গেয়েছি? না। তাদের সাফাই গাওয়ার জন্যে ঐতিহাসিক সত্য বিকৃতির চেষ্টা করেছি? না। ঐসব কুকীর্তি করতে গিয়ে লোকজনের প্রতিরোধের মুখে পড়ে বানোয়াট ইমোশনের খেলা খেলে লোকজনের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেছি? না। কাজেই অনুতাপটাও খামাখা ছিলো, বুঝতে পারলাম। আপনি কি এমন কোন সেল্ফ রিফ্লেকশনের চেষ্টা করে দেখবেন একটু?

    আর একটা ব্যাপার লক্ষ্য করবেন। ধর্মেরে মহত্ব ফুটো হয় না, ফুটো হয় তাকে ম্যানিপুলেটর (নাকি ম্যানিপুলেট্রেস বলবো?) এর মহত্ব (আদৌ যদি কিছু থেকে থাকে)। কাজেই ম্যানিপুলেশন করে ধর্মকে খাটো করবেন না, নিজের হীন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করবেন না।

    ReplyDelete
  6. ১. http://www.sachalayatan.com/masuda_vatti/19045#comment

    এখানে আরেকবার পড়ে দেখুন, আমার প্রথম এবং দ্বিতীয় এবং তৃতীয় এবং চতুর্থ মন্তব্যে কোথাও কিন্তু লালনের মূর্তি ভাঙা বা রক্ষা নিয়ে কোন কথাই নেই। আপনাদের যেই কাজটা আমার কাছে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড লেগেছে, সেটা আবার উল্লেখ করেছি, আপনি সেটার উত্তর দেন নি এবারও।

    আপনি আমার প্রথম মন্তব্যে শুধুমাত্র সেটার উল্লেখ্যেই আক্রান্ত হয়ে আমার সব সত্য মিথ্যা কাসুন্দী নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। আমি সেখানে আমার ধর্ম হিসেবে ইসলামকে ডিফেন্ড করছিলাম, ওইটা করলেও আপনার ভাষায় 'কাজেই ম্যানিপুলেশন করে ধর্মকে খাটো করবেন না, নিজের হীন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করবেন না।' এবং আরও কিসব বললেন গত কয়েক দিন, সে সব কিছুর মধ্যে কি করে পরে, একটু বুঝিয়ে বলবেন?

    আপনার অ্যাটাক আসার পরেই আমি মূর্তির দিকে গিয়েছি, আমার অরিজিনাল ইনটেনশন ছিলো না ওইটা নিয়ে কথা বলা, কারণ আমি মূর্তি ভাঙা ভাঙি নিয়ে ইসলামের স্ট্যান্স সম্পর্কে এখনও নিজের চিন্তাভাবনা গুছাই নি, এটা নিয়ে কখনও পড়াশোনা করি নি। করে থাকলে আমি চারটা মন্তব্য করার মত সময় নিয়ে ধৈর্য্য ধরে থাকতাম না, প্রথমেই ঝাপিয়ে পড়তাম। ওই দিকে যাওয়ার পরেও আমি যখন উল্লেখ করছিলাম, আমি তখন ওই পক্ষের যুক্তিগুলো উল্লেখ করছিলাম, সাজেস্টিভ ম্যানারে (আবার পড়ে দেখুন, জিজ্ঞাসা করেছি, কোন মুসলিম যদি রাসুলের মূর্তি ভাঙার দোহাই দিয়ে মূর্তি ভাঙে তাহলে? তখন প্রশ্নটা সহাবস্থান নিয়ে আসবে ইত্যাদি।), আমার নিজের ভাবনা হিসেবে না।

    "আর নেক্সট টাইম বাংলাদেশে মোল্লাদের হাত যে কোন মূর্তি বা প্রতিকৃতি ধ্বংসের সমর্থন এবং তার পক্ষে ইসলামের অপব্যাখ্যা দেয়ার আগে অনুগ্রহ করে আপনার দেশের নোট ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন, পারলে পুড়িয়ে ফেলবেন। "
    "আর ধর্ম নিয়ে আপনি এতো গলা শুকাচ্ছেন ঠিকই, কেবল পাসপোর্টের ছবি আর পার্সের টাকায় প্রতিকৃতিকে খোঁড়া যুক্তি দিয়ে হালাল করার সময় আপনার মন কাঁপে না। ধর্মকে তখন কোন ক্লজেটে বন্দী করে রাখেন?"
    হা হা হা। ডিড য়ু ইভেন রীড মাই প্রিভিয়াস কমেন্ট? আপনি তর্কে নিজের অবস্থান থেকে একটুও সরলেন না, আমি যুক্তিখন্ডন করার পরেও, আপনি আমার কথাই শুনছেন না, কান বন্ধ করে রেখেছেন, আপনার সাথে কেন আমি আমার ধর্ম, আমার বিশ্বাস, আমার প্র্যাকটিস নিয়ে কথা বলব? য়ু ডোন্ট ডিজার্ভ দ্যাট।

    ২. আমার বাবা মা জামাতের, এন্ড আই অ্যাম প্রাউড অফ দেম। আমার 'গর্বিত জামাতী পরিচয়' বলে কিছু থেকে থাকলে সেটা এতটুকুই। আমার কাছে তাদের কোন চিন্তাভাবনায় আমার কখনও সমস্যা লাগে নি, ওদের সততা, ইসলামকে বুঝার চেষ্টায় আমি কখনও ফাঁক পাই নি। ওনারা নিজেরা মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের হয়েই যুদ্ধ করেছিলেন, তারপরে জামাতে গিয়েছেন, কোন রকম লোভ প্রলভন বা বস্তুজগতের কিছুর আশা না করে, এবং ওনারা অসম্ভব ভালো মানুষ, ভীষণ রকমের উদার চিত্ত। আমি ১৫ বছর বয়সে দেশ ছাড়ায় আমার কাছে জামাত বলতে আমি ওদের চোখ দিয়ে যা দেখেছি তা-ই। জামাতের মানুষ বলতেই 'হত্যা, ধর্ষন, গণসংযোগে ধর্মের অজুহাত' ইত্যাদি, আমি সেটা নিজে দেখি নি, বরং যা দেখেছি, সেই অবজারভেশন, এবং নিজেস্ব ইন্টারপ্রিটেশন বলার চেষ্টা করেছি নানা সময়ে। এই পয়েন্টে আমাকে ধর্মব্যবসায়ী বলা, আমার ধর্মপালনের পুরাটুকুকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা, কোন রকম বিকার ছাড়াই 'সদ্য বাবা হওয়া বন্ধু' জাতীয় ব্যক্তি আক্রমন ছুড়ে দেয়ায় আপনার এথিকসে না বাঁধলে গো এহেড। আই ডু নট নো হাউ টু ডীল উইথ দ্যাট, তাই ডিফেনসিভ হয়ে যাব, ফলে আপনিই জিতবেন সব সময় :)।

    ৩. আমি যতটুকু বুঝি, মূর্তি, স্কালপচারের পিছনের প্রিডমিন্যান্ট ঐতিহাসিক পটভূমির জন্যই ভাস্কর্য কনসেপ্ট মেনে নিতে মুসলিম আলেমদের মেনে নিতে আরও অনেক দিন সমস্যা হবে। ইসলামের রিসার্চ সিস্টেমটা অনেক ডাইভার্স। আমি যেই হাদিসটা উল্ল্যেখ করেছিলাম, কাবার ভিতরে মূর্তি ধ্বংস নিয়ে, সেটার লিটারাল অর্থ নিয়ে কেউ মূর্তি ধ্বংসের ফতোয়া দিতেই পারে। আরও একটা হাদিস আছে 'আমার আগমন মূর্তি ধ্বংসের জন্য'। আপনার চাওয়া রেফারেন্স খুঁজতে গিয়ে এই মাত্র পেলাম এই দুইটা--

    1 – Muslim (969) narrated that Abu’l-Hayaaj al-Asadi said: ‘Ali ibn Abi Taalib said to me: “Shall I not send you with the same instructions as the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) sent me? ‘Do not leave any image without defacing it or any built-up grave without leveling it.’”

    2 – Muslim (832) narrated from ‘Urwah ibn ‘Abasah that he said to the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him): “With what were you sent?” He said, “I was sent to uphold the ties of kinship, to break the idols, and so that Allaah would be worshipped alone with no partner or associate.”

    আপনি আমার যুক্তি খন্ডাতে গিয়ে কি ভাষায় কথা বলেছেন দেখুন--
    "হা হা হা, এবার শুরু হয়ে গেলো ইসলামের মুখে আপনার নিজস্ব মওদুদীয় ভাবনা গুঁজে দেয়া। প্লিজ, টেক আ ব্রেক। আর কত হাইজ্যাক করবেন ইসলামকে?

    রাসুল কাবা ঘরের ভেতরের মূর্তি সরানোর কথা বলেছেন। তাঁর দাবি ছিলো সেটি আল্লাহর ঘর এবং সেখান থেকে অন্য ধর্মের উপাস্যের মূর্তি সরিয়ে ফেলার দায়িত্ব নিয়ে তিনি এসেছেন। দুনিয়ার প্রতিটি মূর্তি ধ্বংসের হুকুম তিনি মুসলিমদের দিয়ে যান নি। তাঁর প্রতিটি আচরণ অনুসরণ করা মুসলিমদের পক্ষে সম্ভবও না। যেমন তিনি জিবরাইলের সাথে যোগাযোগ করতেন নিয়মিত।"

    প্লীজ এক্সপ্লেইন।


    ৪. নাস্তিকতার প্রিডমিনেন্ট কনসেপ্টটা পৃথিবীতেই নতুন। স্রেফ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য স্কাল্পচার, এটা বাংলাদেশে ব্রিটিশরা যাওয়ার আগে ছিলো না, এর আগে মূর্তি বলতে চার্চ আর মন্দিরের ভিতরেই ছিলো। তাই যুদ্ধটা আপনাদের করতেই হবে। দেখেন কে জিতে, আমি এইখানে কোন পক্ষ নিব না, কারন আই ডু নট নো উইচ সাইড টু টেইক। "গত চৌদ্দশো বছরে মাদ্রাসার ছেলেমেয়েরা কয়টা মূর্তি ধ্বংস করেছে?" বাংলাদেশে গত ১৪০০ বছর ধরে মুসলিমরা ছিলো না। মাদ্রাসা শুরু হয়েছে ব্রিটিশরা আসার পরে, ভাস্কর্যের চল তখন থেকেই শুরু। খুঁজে দেখুন ইতিহাস, ভাস্কর্য প্রতিটা ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও ইসলামি ঐতিহ্যে কখনও সেরকম ছিলো না। রিলেটিভলি নতুন সমস্যা, কনফ্লিক্টটাও তাই রিলেটিভলি নতুন। কনফ্লিক্টে হয় যে কোন এক পক্ষ জিতবে, আর না হয় একটা নোভেল সমাধান বের হবে। আই হোপ ফর দ্যা ল্যাটার।


    ৫. "ইসলাম সম্পর্কে আমি ইন্টারেস্টেড, কিন্তু অবসেসড না। আমি যেহেতু ইসলাম পালন বা ব্যবহার করি না, তাই অন্য কারো কুকর্মকে ইসলাম দিয়ে হালাল বা সুকর্মকে ইসলাম দিয়ে হারাম করার কাজে লম্ফঝম্প করি না। কেউ যদি তা করে, আমি আপনার মতোই কুরআন, হাদিস আর কমনসেন্স নিয়ে তার উত্তর দিতে চেষ্টা করি। আপনি বলতে চাইছেন, সেটা করার অধিকার আমার নেই। কেন বলুন তো? "
    -- নেই, কারণ উপরে দেখুন, আপনি খুব সহজেই বলে দিলেন, মূর্তি ধ্বংস শুধু মুহাম্মদ (সা) এর জন্য ছিলো, তাও কাবার ভিতরে। আমি কিন্তু সাথে সাথে কনফিউজড হয়ে গিয়েছি। কারণ, আমি এই মন্তব্যে যেই হাদীস উল্লেখ করেছি, সেটা তখনও দেখি নি, খুঁজি নি। কনফিউজড হয়ে গিয়েছি বলেই, তর্কে জিততে হলে ব্যাপারটা খারাপ হলেও সেখান থেকে সরে এসেছি। যা জানি না, সেটা নিয়ে কথা বলা আমার কাছে পাপ। বিশেষত, সেটা যখন ইসলাম নিয়ে হয়। আপনি এই সাবধানতা অবলম্বন করেন না, ফর য়ু ইটস জাস্ট এনাদার টপিক অফ ডিবেইট। সে জন্যই আই ডোন্ট থিংক য়ু শ্যুড টক এবাউট ইট।

    তাছাড়া, ইসলামে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার সিস্টেমটা এরকম-- অনেক কিছু এক সাথে করে সেটা থেকে ইনটিগ্রেটিভ একটা সিদ্ধান্ত নেয়া। রেফারেন্স চেয়েছিলেন মনে হয় এইগুলোর--

    হাদীস ১:
    Bukhari:
    Volume 8, Book 73, Number 151:
    Narrated 'Aisha:

    I used to play with the dolls in the presence of the Prophet, and my girl friends also used to play with me. When Allah's Apostle used to enter (my dwelling place) they used to hide themselves, but the Prophet would call them to join and play with me.

    হাদীস ২:
    Narrated Aisha, Ummul Mu'minin: When the Apostle of Allah (peace_be_upon_him) arrived after the expedition to Tabuk or Khaybar (the narrator is doubtful), the draught raised an end of a curtain which was hung in front of her store-room, revealing some dolls which belonged to her. He asked: What is this? She replied: My dolls. Among them he saw a horse with wings made of rags, and asked: What is this I see among them? She replied: A horse. He asked: What is this that it has on it? She replied: Two wings. He asked: A horse with two wings? She replied: Have you not heard that Solomon had horses with wings? She said: Thereupon the Apostle of Allah (peace_be_upon_him) laughed so heartily that I could see his molar teeth. Abu Dawud:41:4914, Abu Dawud:41:4913

    হাদীস ৩:
    Narrated 'Aisha:Allah's Apostle returned from a journey when I had placed a curtain of mine having pictures over (the door of) a chamber of mine. When Allah's Apostle saw it, he tore it and said, "The people who will receive the severest punishment on the Day of Resurrection will be those who try to make the like of Allah's creations." So we turned it (i.e., the curtain) into one or two cushions.Sahih Bukhari 7:72:838



    এই যে এই হাদীসটা, আর প্রথমে যেখানে রাসুল বললেন প্রতিকৃতি ধ্বংসের জন্য... এই দুইটা এক সাথে করে ইসলামের বিভিন্ন আলেম বিভিন্ন রকম সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেন আয়েশা ছোট ছিল, তাই তার জন্য সাত খুন মাফ ছিলো। কিন্তু ১-৩ নম্বর হাদীসগুলোর জন্যই আর কিছু কিছু আলেমরা আরেকটু নন-লিটারেল ব্যাখ্যা করেছেন। আমার কাছে সেগুলো বেশি ইনটিগ্রেটিভ মনে হয়।

    যা বললাম, আমার এখনও এই কনফিডেন্স নেই যে আমার চিন্তাধারাই ইসলামের এক মাত্র সঠিক ধারা, তাই এগুলা আমি অ্যাডভোকেট করব না, কোন আলেম করে থাকলে আমি তাঁকে উদ্ধৃতি করব শুধু। ইমেজ/মূর্তি নিয়ে আমার চিন্তাভাবনাগুলো মূলত ইউসুফ আল কারাদাওয়ী দিয়ে প্রভাবিত, ওনার একটা বিখ্যাত বই আছে, "Halal and Haram in Islam", আমার কথাগুলোর রেফারেন্স ওখানে আছে।


    ৬. "বাংলাদেশের ধর্মব্যবসায়ীদের পাছায় গদাম লাথি মারি আসুন। এদের হয়ে ওকালতি না করি, চলুন। বাংলাদেশে ১১% লোক যদি আজকে দুর্নীতিবাজ হয়, আপনি কি তাদের তোয়াজের পথ বেছে নেবেন? ইসলাম কি সে শিক্ষা দেয়? ন্যায় তো পার্সেন্টেজ বোঝে না। বাংলাদেশের ৯৯% লোকও যদি আজকে বলে চুরি করা ভালো, তাতেই কিন্তু চুরি করা ভালো হয়ে যায় না। "

    -- ন্যায়ের ক্ষেত্রে পারসেন্টেজ বুঝে গণতন্ত্র। দেশে তো গণতন্ত্র, ইসলামীতন্ত্র তো নেই।
    ধর্মব্যবসায়ীদের গদাম লাথি মারতে হলে আমাকে নিজের মত করে বড় হতে হবে, সেটার সম্ভবনা দেখছি না। আপনারাই দিবেন না। প্রথমেই উদাহরন দিয়েছি, প্রথম ৪টা মন্তব্যে আমি কেবল ইসলামের কথা বলছিলাম, মূর্তি ভাঙা নিয়ে একেবারেই মুখ খুলি নি, শেষে ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে বলেছিলাম, যখন আমাকে ব্যাক্তিগত আক্রমন করা শুরু করলেন, তখন।

    ৭. "সেটা কেউ ধরিয়ে দিলে কান্নাকাটি করেন, তার ঘাড়ে যৌন গুলগল্পের অভিযোগ চাপান। এটা কোন এথিকসের পর্যায়ে পড়ে?" -- আপনি বছর দুয়েক আগে এক এমএসএন আড্ডায় বলেছিলেন আস্তমেয়ে বিছানায় খুব স্পোর্টি হবে, ইত্যাদি।

    এই তথ্য আমাকে কে দিয়েছে, তার এথিকস কতটুকু, সেই আলোচনায় যেতে চাই না, কারণ জানি আমার ইনফরমেন্টের এটা আমাকে বলা উচিত হয় না, ইফ নট ফর য়ু, দেন ফর মি।

    সে যাই হোক, শুনতে চেয়েছেন, শোনালাম। আপনি যদি এই পয়েন্টে আর একটা কথাও বলতে চান, তাহলে আপনাকে সরাসরি অস্বীকার করতে হবে এরকম কোন কথা বলার কথা। যদি করতে পারেন, তাহলে আমি ক্ষমা চাইব ভিত্তিহীন কথায় বিশ্বাস করার জন্য। যদি করতে না পারেন, তাহলে লেট ইট স্টপ হিয়ার। আমিও এটা আর বলব না, কিন্তু ধরিয়ে দিলাম শুধু-- আমি যেখানে যতটুকু অন্যায় করি, আমাকে সেখানে ততটুকুতে কনফ্রন্ট করার অধিকার আপনার আছে। এর বেশি নেই। এর বেশি করলে, 'এথিকস ধর্ষণ' করা হয়। প্রথম ৪টা মন্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান পটভূমি নিয়ে কিছু না বলতেই আপনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, আই ডিড নট ফাইন্ড দ্যাট এথিকেল। সে জন্যই এটা উল্লেখ করেছিলাম, বলতে যে আমি খুব বেশি অবাক হই নি, কারণ আপনার সেই সমস্যা আছে আমি সেটা জানি।

    ৮. "আর সবাইকে কেন ইসলাম সম্পর্কে মূর্খ ধরে নেন? " - সবাইকে ধরি না। আপনাকে ধরেছি। কারণগুলা এই মন্তব্যেই পাবেন।


    ৯. প্লীজ রেফারেন্স দিন আপনার এই কথাগুলোর--
    "আপনি একটা জিনিস প্রিচ করে বেড়াচ্ছেন, তা নিজে প্র্যাক্টিস না করে। এটা ধরিয়ে দিলেই আপনি মাটিতে গড়িয়ে কাঁদেন ব্যক্তিগত আক্রমণ বলে। ভন্ডামি তো এটা।"

    " নিজে ধর্ম পালন না করে যদি ধর্ম নিয়ে কথা বলা না যায়, তাহলে সবার আগে আপনার উচিত ধর্ম নিয়ে চুপ থাকা, কারণ আপনি এটি ব্যবহার করেন, এবং পালনের অভিনয় করেন।"

    "পক্ষান্তরে আপনি ধর্মের দোহাই দিয়ে হত্যা, লুট, ধর্ষণ আর অগ্নিসংযোগকারীদের সাফাই গাওয়ার পক্ষে।"

    ReplyDelete
  7. ১.

    আপনি বললেন, "আপনাদের যেই কাজটা আমার কাছে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড লেগেছে, সেটা আবার উল্লেখ করেছি, আপনি সেটার উত্তর দেন নি এবারও।"

    পরিষ্কার করে অভিযোগটা প্লেস করতে তো শিখবেন? কোনটা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড? আর আপনার প্রথম কমেন্টের উত্তরে কোথায় ঝাঁপিয়ে পড়লাম আপনার ওপর বলুন তো?? কোট করুন। আমি কনফিউজড, আপনি ঝাঁপিয়ে পড়া বলতে কী বোঝান তা নিয়ে। এ সম্পর্কে সম্ভবত আপনার আর আমার পারসেপশনের পার্থক্য আছে।

    আপনি বলছেন, "আমার অরিজিনাল ইনটেনশন ছিলো না ওইটা নিয়ে কথা বলা, কারণ আমি মূর্তি ভাঙা ভাঙি নিয়ে ইসলামের স্ট্যান্স সম্পর্কে এখনও নিজের চিন্তাভাবনা গুছাই নি, এটা নিয়ে কখনও পড়াশোনা করি নি। করে থাকলে আমি চারটা মন্তব্য করার মত সময় নিয়ে ধৈর্য্য ধরে থাকতাম না, প্রথমেই ঝাপিয়ে পড়তাম।"

    আবারও সেই ঝাঁপানো নিয় জটিলতা। এখন আবার সাজেস্টিভ ম্যানার টেনে আনছেন। যদি তা-ই হয়, তাহলে এর উত্তরে আমার যুক্তি শুনে আপনি এতো চটেন কেন? সাজেস্টিভ ম্যানারে একটা আর্গুমেন্ট প্লেস করলে এর জবাব নিয়ে তো ভাববেন, নাকি?

    ২. আপনার বাবা-মা সম্পর্কে মন্তব্য করা থেকে বিরত খাকবো। কিন্তু আপনার জামাতি মনোভাব সম্পর্কে আমার বক্তব্য পরিবর্তিত নয়, আগের মতোই আছে। আপনি চিন্তায় আর আচরণে একজন মওদুদিয়া। ইট'স আ ফ্যাক্ট। আমি সবসময় জিতবো না, কিন্তু ঐ একটা জায়গায় আপনি পিছিয়ে থাকবেন। খুনী, ধর্ষণকারী, লুণ্ঠনকারী এবং অগ্নিসংযোগকারীদের রাজনৈতিক সমর্থন দেয়ার অপরাধে।

    ৩. আপনি যে কারো ওপর ফতোয়া দেয়ার অধিকার চাপিয়ে দিচ্ছেন, আর আমি যখন আপনাকে বলছি যে ইসলামে প্রতিকৃতি নিষিদ্ধ, তখন আপনি আমাকে উড়িয়ে দিয়ে নিজের মতো করে ফোটোগ্রাফিকে জায়েজ করছেন, কারেন্সি নোটে ব্যবহৃত ইমেজ এর দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর জন্যে কুরআনের একটি আয়াত ব্যবহার করেছেন (সূরা আর আয়াত নং উল্লেখ করেননি কিন্তু)। আমি আপনার দেয়া প্রধম হাদিসটি ব্যবহার করি বরং

    1 – Muslim (969) narrated that Abu’l-Hayaaj al-Asadi said: ‘Ali ibn Abi Taalib said to me: “Shall I not send you with the same instructions as the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) sent me? ‘Do not leave any image without defacing it or any built-up grave without leveling it.’”

    আমি যদি আপনাকে প্রশ্ন করি, হে আস্তমেয়ে আপনি কেন আপনার পাসপোর্টের ফোটোটি ডিফেইস করেন না, কেন প্রতিটি ডলারের নোট হাতে আসা মাত্র তার ইমেজগুলি ডিফেইস করেন না? তখন কেন মেনে চলেন না রাসূলের আদেশের হাদিস? তখন কেন শ্রিউড সব লজিক বার করেন ফাঁকি দেয়ার জন্যে?

    ঐ জায়গাতে আপনি জামাতি। ঐ জায়গায় আপনি মওদুদিয়া। এবং ঐ জায়গায় আপনি ভন্ড। প্লিজ নোট ইট, বিকজ ইট মেকস মি সিক রিপিটিং দ্য সেম থিং ওভার অ্যান্ড ওভার অ্যাগেইন টু ইউ।

    2 – Muslim (832) narrated from ‘Urwah ibn ‘Abasah that he said to the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him): “With what were you sent?” He said, “I was sent to uphold the ties of kinship, to break the idols, and so that Allaah would be worshipped alone with no partner or associate.”

    বোল্ড করা অংশটুকু দেখুন। যাতে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন মূর্তি উপাস্য হিসেবে গৃহীত না হয়, সে জন্যে তিনি মূর্তি ভাঙার কথা বলেছেন। তা-ও যদি জেনারালাইজ করতে চান, তাহলে এক কাজ করুন, হাইড পার্কে ফ্রঁসোয়া সিকাখদের করা ভাস্কর্যগুলি গুঁড়া করে দিয়ে এসে দেখান দেখি আপনি কত খাঁটি মুসলমান। সেটা করার আগে দয়া করে অন্যের মূর্তিধ্বংস করার সাপাই গাইতে যেয়েন না।

    কী যেন এক্সপ্লেইন করতে বললেন, বুঝি নাই, প্লিজ এক্সপ্লেইন।

    ৪. আপনি দেখছি বাংলাদেশে মাদ্রাসার সাথে বৃটিশকে জড়িয়েই খালাস। মধ্য এশিয়ার কথা ভাবলেন না একটু? উজবেকিস্তানে কত প্রাচীন মাদ্রাসা আর ভাস্কর্য পাশাপাশি আছে, একটু দেখবেন নেট ঘেঁটে। আর সমস্যাটা হতোই না, যদি না নোংরা রাজনীতি না হতো এটা নিয়ে। দেশে লোকে চাল কিনতে পারে না, বাচ্চাদের দুধে ম্যালামাইন, বেকারত্বের সমস্যা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা, পরিবেশ নিয়ে দুর্যোগ, তাতে কারো কোন মাথাব্যথা নাই, কারো দিলে তখন চোট লাগে না, লালনেরে ভাস্কর্য নিয়ে এক এক জনের ইসলাম নিযে টান পড়সে এক সাথে। ভন্ডামির একটা সীমা থাকা উচিত।

    ৫. দিলেন আবারও না জেনে কথা বলার দোষ চাপিয়ে। বলুন, কা'বার বাইরে আর কোন উপাস্যের মূর্তি রাসূল ধ্বংস করেছিলেন? রেফারেন্স দিন। আমার জানায় গলদ থাকলে শুধরে নেবো।

    আর আপনার এবং আস্ত-সমর্থিত আলেম সমাজের বক্তব্য প্রিচ করার অধিকার বাংলাদেশে যে কারো আছে, যদি তা বাংলাদেশের সংবিধান পরিপন্থী না হয়। কিন্তু লালনের ভাস্কর্য টেনে নামানোর অধিকার কারো নাই। আপনি যদি আবারো ১০% এর হিসাব দেখিয়ে এই অনাচারকে সমর্থন করেন, তাহলে ১০% চোর, ১০% বাটপার বা ১০% ডাকাতের উদাহরণ দেখিয়ে যে কোন সমাজে যে কোন অপরাধ হালাল করে নেযা সম্ভব।

    ৬. আবার সেই একই ত্যানা প্যাঁচাচ্ছেন। আপনাকে ব্যক্তি আক্রমণ করলাম কোথায়? পরিষ্কার করুন। কোট করুন প্রয়োজনে।

    আর আপনি বড় হবেন না ছোট হবেন তাতে আমার কী? আমি কোন দুঃখে আপনাকে বড় হতে দেবো না? আমার কী ঠ্যাকাটা পড়েছে? আজব সব কমপ্লেইন নিয়ে আসেন তো! তাছাড়া, আপনি তো মাশাল্লাহ বড় হয়ে গেছেন। ভোট দেয়ার বয়স হয়ে গেছে বহু আগেই, প্রোফাইলে দেখতে পাচ্ছি। আপনি আর কত বড় হবেন, নাদের আলি (ইত্যাদি ইত্যাদি ...)?

    ৭. আপনি বলছেন, "আপনি বছর দুয়েক আগে এক এমএসএন আড্ডায় বলেছিলেন আস্তমেয়ে বিছানায় খুব স্পোর্টি হবে, ইত্যাদি।

    এই তথ্য আমাকে কে দিয়েছে, তার এথিকস কতটুকু, সেই আলোচনায় যেতে চাই না, কারণ জানি আমার ইনফরমেন্টের এটা আমাকে বলা উচিত হয় না, ইফ নট ফর য়ু, দেন ফর মি।

    সে যাই হোক, শুনতে চেয়েছেন, শোনালাম।"

    এবার আস্তমেয়ে শব্দটাকে আমার নাম দিয়ে রিপ্লেস করুন। তারপর পড়ুন। ওটা আপনার অভিযোগের উত্তরে আমার অভিযোগ। কেন আপনি বিছানায় আমাকে নিয়ে স্পেকুলেটিভ গল্প করলেন? আপনি পঁচা।

    আপনার আর আমার কোন আলাপ হয়নি কখনো, কিন্তু আপনি আমার "সমস্যার" কথা জেনে বসে আছেন। কী সেই সমস্যা? প্লিজ এক্সপ্লেইন!

    ৮. হুমম! কারণ আমাকে ইসলামে মূর্খ দাবি করতে পারলে অনেক সহজ, আপনি মনের আনন্দে গোঁজামিল দিয়ে আপনার কমনসেন্সপ্রসূত নানা মাসায়েল প্রিচ করতে পারবেন, তাই না? আপনার কচি মনে এতো জিলাপির প্যাঁচ কেন? তারচেয়ে আমার যুক্তিগুলি খন্ডন করুন।

    ৯. আপনি ইসলামকে থরোলি অনুসরণের পক্ষে, অথচ প্রতিকৃতিসহ পাসপোর্ট আর কারেন্সি নোট ব্যবহার করেন। গড়িয়ে কাঁদার রেফারেন্সের জন্যে দেখুন আপনার আগের মন্তব্যগুলি। পদে পদে অভিযোগ, আপনাকে নাকি ব্যক্তি আক্রমণ করা হয়েছে। সেই কাঁদুনির তোড়ে যুক্তিগুলি ভাসিয়ে দিতে চাইলেন খন্ডানোর বদলে।

    আমি মনে করি, কোন সত্যিকারের মুসলিম খুনী, ধর্ষণকারী, লুণ্ঠনকারী ও অগ্নিসংযোগকারীদের পক্ষে সাফাই গাইতে পারে না। কাজেই ওসব করেও যদি কেউ দাবি করে সে ইসলাম পালন করছে, তাহলে সে ইসলাম পালনের অভিনয়ই করছে। আর আপনি কোথায় সাফাই গেয়েছেন, তা একটু কষ্ট করে দেখে আসুন সামহোয়্যার ইন ব্লগে আস্তমেয়েব্লগে করা আপনার লেখা আর মন্তব্যে। এখন তো সন্ধ্যাবাতি হয়েছেন দেখতে পাচ্ছি। আগের লেখাগুলি মুছে ফেলেননি তো?


    বাই দ্য ওযে, আপনি তর্কে মোটেও স্পোর্টিং নন, বারবার অসত্য অভিযোগ আনেন ব্যক্তিগত আক্রমণের। আপনি নিজের জীবনেও এই কৌশল অবলম্বন করেন কি না জানি না। এমন করলে বন্ধু হারাবেন জীবনে।

    ReplyDelete
  8. ১. ডাবল স্ট্যান্ডার্ড: ধর্ম প্রচার = নিষিদ্ধ, ধর্মের অবমাননা = নিষিদ্ধ না। যদিও একটা আরেকটার বিপরীতই বলা যায়।

    ২. "আমি সবসময় জিতবো না, কিন্তু ঐ একটা জায়গায় আপনি পিছিয়ে থাকবেন। খুনী, ধর্ষণকারী, লুণ্ঠনকারী এবং অগ্নিসংযোগকারীদের রাজনৈতিক সমর্থন দেয়ার অপরাধে।"
    -- আপনি এই একটা জায়গায় সব সময়ই মিথ্যাবাদী থেকে যাবেন। মিথ্যার রঙ বেশি, তাই আপনি এগিয়ে থাকবেন।


    ৩. আমি নিজেও ফতোয়া দেয়ার অধিকার নেই নি, আর কারো উপর চাপাবো কি করে?

    দুই মন্তব্য আগে বলেছিলাম--
    "এইগুলা থেকে আমি নিজে মনে করি প্রানীর প্রতিকৃতি তৈরির ব্যাপারটা উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে। কিন্তু এই লাইন অফ থটটা ভীষণ কন্ট্রোভার্শিয়াল..."

    আপনি কি সেটা পড়েছিলেন? তাহলে লালনের মূর্তি কে কি করেছে সেটার দায়ভার আমার উপর চাপাচ্ছেন কেন? এটা আপনাদের সংগ্রাম, আই ডোন্ট থিঙক কাউকে সম্মান করতে হলে তার ভাস্কর্য তৈরি করতে হবে, আপনারা মনে করেন, গো ফাইট ফর ইট। কিন্তু কাউন্টার যুক্তিতে ইসলামকে টাইনেন না। তখন আমি ইসলাম ডিফেন্ড করতে নামব। আমার সমস্যা ছিলো হাজরে আসওয়াদে চুমুকে মূর্তি পূজার সাথে তুলনা করায়, লালনের সাথে আমার কখনও ঝগড়া হয় নি।

    আমি যা সমর্থন করি, তার বিস্তারিত বর্ণনা কারণ সহ এখানে পাবেন--
    http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/13944
    আগে পরের দুইটা পোস্ট কেন যেন আসছে না।



    ৪. "দেশে লোকে চাল কিনতে পারে না, বাচ্চাদের দুধে ম্যালামাইন, বেকারত্বের সমস্যা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা, পরিবেশ নিয়ে দুর্যোগ, তাতে কারো কোন মাথাব্যথা নাই, কারো দিলে তখন চোট লাগে না, লালনেরে ভাস্কর্য নিয়ে এক এক জনের ইসলাম নিযে টান পড়সে এক সাথে। ভন্ডামির একটা সীমা থাকা উচিত।" -- একমত। কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের সাথেও যে এই পয়েন্টে এক মত হয়েছিলাম, খেয়াল করেছিলেন? করেন নি, কারণ আপনি সিলেক্টিভলি দেখছেন, পড়ছেন, বুঝছেন, ভাবছেন। আর ওই যে, কেরামুন কাতেবীন থেকে রিপোর্ট দেখেছেন যে আমি ধর্ম পালন করি না, ব্যভার করি।
    কিন্তু যেই দেশে লোকে চাল কিনতে পারে না, বাচ্চাদের দুধে ম্যালামাইন, বেকারত্বের সমস্যা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনের সমস্যা, পরিবেশ নিয়ে দুর্যোগ, সেই দেশে এত মিলিয়ন মিলিয়ন টাকা খরচ করে লালনের মূর্তি না বানালে কি ক্ষতি হতো? ইস্যুর কি অভাব পড়েছে? নাকি লালনের খুব অসম্মান হচ্ছে? লালন রিসার্চ একাডেমি করে সেখানেও তো ওই টাকাগুলো ঢাললে হতো!

    ৫. মুহাম্মদ (সা) জীবনে এক বার হজ্জ্ব করেছেন মানে এই না যে জীবনে এক বারের বেশি হজ্জ্ব করলে সেটা হারাম হবে। তাই আপনি ধরে নিতে পারেন না যে ওই নির্দেশটা শুধু কাবার জন্য নির্দিষ্ট।
    অধিকার না থাকলে ওনাদের ঠেকান, ট্রাস্ট মি, আমি ওনাদের সাথে গোপন মিটিঙ করে ওদের ক্ষেপায় দেই নি। আর একটা কথা, আপনার লাইন অফ অ্যাটাকও ঠিক করেন। মাদ্রাসার কিছু কিছু আলেমরা বলেন জামাতীরা মুসলিমই না (কারন নাকি জামাতীদের আলেমদের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা নেই)। ওনাদের জামাতী বললে ওনারা মাইন্ড করবেন।

    ৬. "ব্যক্তি আক্রমন করলাম কোথায় পরিষ্কার করে বলুন"--
    "কাঠিবাজি", "ছাগুবেরাদার", "মাদ্রাসার ইয়ারদোস্ত", ধর্ম পালন করেন না, ব্যবহার করেন, ভন্ড, ইত্যাদি ইত্যাদি।

    ৭. আমি আপনার অভিযোগ অস্বীকার করলাম। আপনি করেন নি।

    ৮.

    ৯. "আমি মনে করি, কোন সত্যিকারের মুসলিম খুনী, ধর্ষণকারী, লুণ্ঠনকারী ও অগ্নিসংযোগকারীদের পক্ষে সাফাই গাইতে পারে না। কাজেই ওসব করেও যদি কেউ দাবি করে সে ইসলাম পালন করছে, তাহলে সে ইসলাম পালনের অভিনয়ই করছে। আর আপনি কোথায় সাফাই গেয়েছেন, তা একটু কষ্ট করে দেখে আসুন সামহোয়্যার ইন ব্লগে আস্তমেয়েব্লগে করা আপনার লেখা আর মন্তব্যে। এখন তো সন্ধ্যাবাতি হয়েছেন দেখতে পাচ্ছি। আগের লেখাগুলি মুছে ফেলেননি তো?" নাহ কিছুই মুছি নি। অনুরোধ রইলো, দয়া করে খুঁজে বের করে আমাকে দেখান। কাউকে আমি খুনী ধর্ষনকারী লুণ্ঠনকারী অগ্নিসংযোগকারী জেনে, বিশ্বাস করে, তারপর তার পক্ষে সাফাই গেয়েছি। প্লীজ, দেখতে চাই। না দেখাতে পারলে মিথ্যা অপবাদ দেয়া বন্ধ করেন। "আপনি নিজের জীবনেও এই কৌশল অবলম্বন করেন কি না জানি না। এমন করলে বন্ধু হারাবেন জীবনে।" আপনার কথাটা আপনার জন্যই।


    যাই হোক, য়ুজলেস একটা তর্ক। অনেকগুলো নষ্ট করা সময়। ফলাফল? এখান থেকে কি আশা করছিলেন? আস্তমেয়েকে দু'টো কথা শুনিয়ে দিবেন? যাক, সফল হলেন। ফলাফল হিসেবে আস্তমেয়েকে অনেক বার শুনিয়ে দিলেন সে সে ধম্ম পালন করে না, কিরামুন কাতেবীনের রেকর্ড আপনার হাতে আছে। মন খুশ? ঘুম দেন। আমার আর তক্কাতক্কি ভালো লাগছে না। আপনি চাইলে জবাব দেন, আমি আর কিছু বলব না। মাঝে মাঝে আস্তযোগে শব্দব্যবহার করেন ইনভার্টেড কমার ভিতরে (আমার অনুরোধ, ফেলবেন কি করে, তাই না?)। আমাকে যখন তখন মনে পরে, সেভাবেই বুঝতে পারি :)।

    ভালো থাকবেন।

    ReplyDelete
  9. ওহ, রেফারেন্স চেয়েছিলেন--

    "Whoever goes right, then he goes right only for the benefit of his ownself. And whoever goes astray, then he goes astray to his own loss. No one laden with burdens can bear another's burden…" (Surah Al Israh: 15)

    "Whosoever does righteous good deed it is for (the benefit of) his ownself, and whosoever does evil, it is against his ownself, and your Lord is not at all unjust to (His) slaves." (Surah Fussilat: 46)

    "And no bearer of burdens shall bear another's burden, and if one heavily laden calls another to (bear) his load, nothing of it will be lifted even though he be near of kin…" (Surah Fatir: 18)

    ReplyDelete
  10. ১. দুঃখিত, ধর্ম অবমাননা নিয়ে যে অভিযোগ আপনি করছেন, তা ঠিক নয়। ধর্ম সম্পর্কে মানুষের সংশয় প্রকাশ ধর্ম অবমাননা নয়। কেউ যখন নিজের ঈদের নামাজ পড়ার কথা বলেন, সেটা ধর্ম প্রচার যেমন নয়। আপনি সেই সচলের শুরুর আগে থেকেই চেঁচিযে আসছেন, ওখানে ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ, কিন্ত অবমাননা নিষিদ্ধ নয়। তখনও সচল শুরুই হয়নি। কাজেই আমি যদি ভুল বুঝে না থাকি, আপনি তালে ছিলেন এবং থাকেন এই যুক্তি তুলে সচলকে আক্রমণ করতে। আপনার আসল রাগ হচ্ছে, ওখানে ধর্মের ছুতো ধরে নোংরা রাজনীতি যারা করে, তারা নিষিদ্ধ, যেমন আপনি।

    ২. আমাকে মিথ্যাবাদী বানাতে পারলে, বললাম তো, আপনার অনেক সুবিধা। কিন্তু আমার অভিযোগগুলি শক্ত সত্য। আপনি নিজেও তা জানেন।

    ৩. আপনি বলছেন, "তাহলে লালনের মূর্তি কে কি করেছে সেটার দায়ভার আমার উপর চাপাচ্ছেন কেন? এটা আপনাদের সংগ্রাম, আই ডোন্ট থিঙক কাউকে সম্মান করতে হলে তার ভাস্কর্য তৈরি করতে হবে, আপনারা মনে করেন, গো ফাইট ফর ইট। কিন্তু কাউন্টার যুক্তিতে ইসলামকে টাইনেন না।"

    কারণ আপনি যেচে পড়ে এর সপক্ষে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিতে এসেছেন। আর ইসলামকে "টানা"র কথা মানা করেন কেন? ইসলামের নির্দেশ বলে যখন মোল্লারা লালনের মূর্তি ভাঙে, তখন আপনি তো এগিয়ে এসে বলেন না কাজটা ইসলামসম্মত নয়। যারা বলে তাদের সাথে পায়ে পা পেঁচিয়ে ঝগড়া করেন। ইসলামকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করা থেকে বিরত থাকুন।

    ৪. বলেন কী? আমি যতদূর মনে করতে পারি, আপনি একটা সাইডকিক মুখ সোজা করে খাওয়ার কথাও বলেছিলেন। গণতান্ত্রিক দেশে মোল্লারা নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠ (!), অতএব তাদের নখড়ামো মেনে নিতে হবে, এই গোছের যুক্তি দিয়েছিলেন। এখন উল্টো কথা বলছেন এসে।

    আমি আপনার সাথে একমত, যে লালনের মূর্তির পেছনে টাকা খরচ না করে তা সরাসরি অন্য কোন প্রকল্পে, যেমন সিডরে আক্রান্তদের সাহায্যার্থে ফান্ডে, কিংবা চালের দামে ভর্তুকির জন্যে, ব্যয় করা হলে সবচেয়ে ভালো হতো। কিন্তু মোল্লারা তো সেই যুক্তি নিয়ে জিনিসটা সরাইত যায় নাই, আপনিও এসে যুক্তি দিচ্ছিলেন, রাসূল যেহেতু মূর্তি ধ্বংস করেছিলেন কা'বায়, কাজেই মোল্লাদের এই মূর্তিধ্বংস তাঁরই আদর্শের অনুসরণ (আপনি কতবড় বাটপার ভেবে দেখুন, কার সাথে কার তুলনা দেন!)। আর সেটা একবার তৈরি হয়ে যাওয়ার পর ভেঙে ফেললে কি টাকা ফেরত আসবে?

    ৫. রাসূল পরিষ্কার নির্দেশ দিয়ে গেছেন প্রতিকৃতি ব্যবহার না করার জন্য। আপনি সেখানে কমনসেন্স খাটিয়ে, ফিজিক্সের ধুয়া দিয়ে ফোটোগ্রাফি জায়েজ করছেন, প্রতিকৃতি আঁকা কারেন্সি নোট ব্যবহার করছেন তাঁর আদেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, এখন আবার বলছেন রাসূলের আদেশ শুধু কা'বার জন্যে হতে পারে না। কেন হতে পারে না? কারণ হলে আপনার জামাতি রাজনীতির জন্যে ইসলামকে ব্যবহার করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। আপনি নিজের নোংরা রাজনীতির জন্যে আল্লাহ ও তাঁর পয়গম্বরকে ইচ্ছেমতো ব্যবহারের চেষ্টা করে যাচ্ছেন সমানে। এটা কি নিফাকের পর্যায়ে পড়ে না?

    ৫. মাদ্রাসার ঐ আলেমরা ঠিকই বলেন। জামাতিরা মওদুদিয়া।

    ৬. বটে? কাঠিবাজি করতে আসলে সমস্যা নেই, বললেই দোষ? ছাগুদের হয়ে সাফাই গাওয়ায় সমস্যা নেই, ছাগুবেরাদার বললেই দোষ? আপনি আকাম করবেন, কিন্তু সেটা শুনলে কানে হাত দিয়ে ছি ছি করবেন, এটা তো ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। অবশ্য আপনাকে বলে লাভ কী, আপনি তো মাল্টিপল স্ট্যান্ডার্ডেরই ধারণবহনরক্ষণে তৎপর।

    ৭. আরে! আপনার অভিযোগ তো শুরু থেকেই ভিত্তিহীন বলে আসছি! এখন আপনি আপনার কৃত কুকর্ম অস্বীকার করছেন, একজন নিরীহ নির্বিবাদী মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত কাজকর্ম নিয়ে স্পেকুলেটিভ গল্প ফাঁদার দায় অস্বীকার করছেন। আপনি শুধু পঁচাই নন, ঘাগু পলিটিশিয়ান।

    ৮.

    ৯. "কাউকে আমি খুনী ধর্ষনকারী লুণ্ঠনকারী অগ্নিসংযোগকারী জেনে, বিশ্বাস করে, তারপর তার পক্ষে সাফাই গেয়েছি।"

    হা হা হা, এই যে একটা গুটিগুটি হরফে প্যাঁচ রেখে দিলেন। আপনি তো বিশ্বাস করেন না যে আপনার জামাতি গুরুরা ১৯৭১ সালে কোন কুকর্ম করেছে। অতএব তাদের হয়ে আপনি সাফাই গাইতেই পারেন। এজন্যে আপনি কষ্ট করে গোলাম আজমের বই পড়ে তাকে চিনেছেন, জেনেছেন, আর জাহানারা ইমামের ঘাড়ে বানিয়ে বানিয়ে একাত্তরের দিনগুলি লেখার অভিযোগ চাপিয়েছেন।

    আপনার কি নিজের কাছে নিজেকে ছোট মনে হয না কখনো? আপনি একটা গণবিরোধী নোংরা রাজনীতিকে ইসলামের দোহাই দিয়ে বারবার সমর্থন করেন? আপনার লেখা থেকে পরে আমি রেফারেন্স জুড়ে দেবো, কবে কী বলেছিলেন, যদি সেগুলো আস্ত থাকে।

    আমি তর্ক করার সময় তর্কে যুক্তি যোগাতে না পারলে লোকজনের ঘাড়ে যৌন গুলগল্পের অভিযোগ করি না। কোথাও প্রতিপক্ষের (আপনি তো আবার "শত্রুপক্ষ" ছাড়া কিছু বোঝেন না) যুক্তি অকাট্য মনে হলে তা স্বীকার করে নিই। পিছলে যাবার জন্যে মরাকান্না শুরু করি না। তারপরও আমার বন্ধুবিয়োগ ঘটলে, মনে করবো কোন শালার পো বদদো্'আ দিয়েছে আমাকে ;)।

    আপনার শেষ প্যারা পড়ে হতাশ হলাম। ইসলামে কি পরপুরুষের সাথে এইসব খুনসুটি জায়েজ? আমার তো মনে হয় না। আপনি আবারও ইসলাম পালনে ঢিল দিচ্ছেন। আর কোথাও আস্ত বললেই যদি আপনি মনে করেন আপনার বিরহে ব্যাকুল হয়ে আপনাকে ডাকাডাকি করা হচ্ছে, তাহলে বলতে হবে, মুহতারামা, সেট ইওর ফ্যান্টাসিজ স্ট্রেইট। দে আর গেটিং মোর অ্যান্ড মোর টুইস্টেড। আল্লাহ আপনাকে বাতিলের কল্পনার হাত থেকে রক্ষা করুন। যাজাকুল্লাহ খাইরান।

    ReplyDelete
  11. ১. ধর্ম সম্পর্ক মানুষ সংশয় প্রকাশ করতে পারবে, কিন্তু জাহানারা ইমাম সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করা যাবে না? জাহানারা ইমাম কি তবে আল্লাহ, রাসুল, যীশু, সবার চাইতে বড়?
    আপনাদের ওখানে ধর্ম নিয়ে আবেগপ্রবন মানুষদের "ছাগু" ডাকা হয় (সূত্র: এএমামো), কিছু ধার্মিক উক্তি যেমন আল্লাহর নামে কাজ শুরু করলে তার সুস্থতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয় (সূত্র: সন্নাসী)

    ২. নাহ, আপনার অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। আপনি আমার কথার বিপরীতে যুক্তি দেয়ার সময় নষ্ট করেন কারণ আমার সব কথা ভিত্তিহীন। আপনার অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন, এগুলা নিয়ে কথা বলাও সময় নষ্ট।


    ৩. যারা ইসলাম পালন করে না, তাদের কোন অধিকার নাই কোনটা ইসলাম সম্মত আর কোনটা ইসলাম সম্মত না সেটা বলার। যেমন আমার কোন অধিকার নাই হিন্দু ধর্ম সম্মত কোনটা আর কোনটা না, সেটা বলে দেয়ার। আপনাদের কোন অধিকার নেই হাজরে আসওয়াদে চুমু দেয়াকে মূর্তি পূজার সাথে তুলনা করা।


    ৪. বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কি লালনের মূর্তি সরানোকে অন্যায় মনে করেন? মনে করে না।

    "আমি আপনার সাথে একমত, যে লালনের মূর্তির পেছনে টাকা খরচ না করে তা সরাসরি অন্য কোন প্রকল্পে, যেমন সিডরে আক্রান্তদের সাহায্যার্থে ফান্ডে, কিংবা চালের দামে ভর্তুকির জন্যে, ব্যয় করা হলে সবচেয়ে ভালো হতো। কিন্তু মোল্লারা তো সেই যুক্তি নিয়ে জিনিসটা সরাইত যায় নাই,"--- আপনারা তো মূর্তি বানানোর সময় এইটা বলে প্রতিবাদ করেন নাই। কত বড় ভন্ড হলে এটা সরানোর সময় কেবল সিডরের কথা মনে পড়ে?


    "আপনিও এসে যুক্তি দিচ্ছিলেন, রাসূল যেহেতু মূর্তি ধ্বংস করেছিলেন কা'বায়, কাজেই মোল্লাদের এই মূর্তিধ্বংস তাঁরই আদর্শের অনুসরণ (আপনি কতবড় বাটপার ভেবে দেখুন, কার সাথে কার তুলনা দেন!)।" --- আমি আবারও বলছি, আমি সেই যুক্তিটা কেউ দিলে এর উত্তরে কি বলবেন সেটা জিজ্ঞাসা করেছি, কারণ যারা মূর্তি ভাঙছে, তারা এই যুক্তি দিচ্ছে।


    " আর সেটা একবার তৈরি হয়ে যাওয়ার পর ভেঙে ফেললে কি টাকা ফেরত আসবে?" -- এখন সেটা পূর্ণপ্রতিষ্ঠা করতে গেলে টাকা খরচ হবে না?

    ৫. রাসূল পরিষ্কার নির্দেশ দিয়ে গেছেন প্রতিকৃতি ব্যবহার না করার জন্য। -- কোথায়? আয়েশা (রা) এর কুশন তৈরি আর পুতুল খেলা? এগুলোর ব্যাখ্যা কি? উনি রাসুলের নির্দেশ অমান্য করেছিলেন?

    ৫. মাদ্রাসার ঐ আলেমরা ঠিকই বলেন। জামাতিরা মওদুদিয়া।--- হা হা হা। এইটা নিফাক না, একবার মোল্লাদের পাছায় লাত্থি মারতে চান, আরেকবার তাদের মাথায় তুলেন?

    ৬. বটে? কাঠিবাজি করতে আসলে সমস্যা নেই, বললেই দোষ? ছাগুদের হয়ে সাফাই গাওয়ায় সমস্যা নেই, ছাগুবেরাদার বললেই দোষ? আপনি আকাম করবেন, কিন্তু সেটা শুনলে কানে হাত দিয়ে ছি ছি করবেন, এটা তো ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। অবশ্য আপনাকে বলে লাভ কী, আপনি তো মাল্টিপল স্ট্যান্ডার্ডেরই ধারণবহনরক্ষণে তৎপর।-- উপরের মন্তব্য দ্রষ্টব্য

    ৭. আরে! আপনার অভিযোগ তো শুরু থেকেই ভিত্তিহীন বলে আসছি! -- তাই? একবারও শুনি নি তো!

    ৮.

    ৯. আপনার লেখা থেকে পরে আমি রেফারেন্স জুড়ে দেবো, কবে কী বলেছিলেন, যদি সেগুলো আস্ত থাকে। --- অপেক্ষায় রইলাম।

    আপনার শেষ প্যারা পড়ে হতাশ হলাম। ইসলামে কি পরপুরুষের সাথে এইসব খুনসুটি জায়েজ? -- খুনসুটি? দু:খিত আপনার কোমল হৃদয় সোয়ে করিয়ে দেয়ার জন্য, খুনসুটি করে কিছু বলতে যাই নি।

    আস্ত বললেই যদি আপনি মনে করেন আপনার বিরহে ব্যাকুল হয়ে আপনাকে ডাকাডাকি করা হচ্ছে, -- বলেছিলাম "আমাকে যখন তখন মনে পরে, সেভাবেই বুঝতে পারি :)।" আপনার ডিকশনারীতে মনে পরা = বিরহে ব্যাকুলতা, ডাকাডাকি? য়াল্লা, ছি ছি, গত কয়েকদিন 'মনে করে করে' আপনার মন্তব্যের জবাব দিচ্ছি... আমি তো সাদা মনেই করছিলাম, আপনি কি না কি ভেবে বসলেন :((। হৃদয়টাকে আরেকটু শক্ত করুন, "সেট ইওর ফ্যান্টাসিজ স্ট্রেইট। দে আর গেটিং মোর অ্যান্ড মোর টুইস্টেড। " আপনার জীবনে অর্থবহ মানুষ আর কাজ আসুক, আন্তরিক দোআ রইলো।

    আপনার দোআতে আমিন।

    ReplyDelete
  12. ১. ধর্ম সম্পর্ক মানুষ সংশয় প্রকাশ করতে পারবে, কিন্তু জাহানারা ইমাম সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করা যাবে না? জাহানারা ইমাম কি তবে আল্লাহ, রাসুল, যীশু, সবার চাইতে বড়?
    আপনাদের ওখানে ধর্ম নিয়ে আবেগপ্রবন মানুষদের "ছাগু" ডাকা হয় (সূত্র: এএমামো), কিছু ধার্মিক উক্তি যেমন আল্লাহর নামে কাজ শুরু করলে তার সুস্থতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয় (সূত্র: সন্নাসী)


    নিশ্চয়ই আপনি জাহানারা ইমামকে নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে পারেন। আপনি ১৯৭১ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে পারেন। হত্যাকান্ড, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে পারেন। কোন সমস্যা নেই, আপনি তা করেছেনও নানা পোস্টে। সেজন্যেই তো আপনাকে বলি যে আপনি একটা নোংরা রাজনীতিকে ধর্মের প্রলেপ দিয়ে জায়েজ করার চেষ্টা করেন।

    ধর্ম নিয়ে আবেগপ্রবণ মানুষকে ছাগু বলা হয় না, আপনি কৌশলে কথা ঘোরাচ্ছেন। দেখে আসুন আবার মুর্শেদ কী বলেছে ছাগু সম্পর্কে। আর আল্লাহর নাম নিয়ে অযৌক্তিক বকবকানি শুরু করলে তার সুস্থতা নিয়ে সংশয় নয়, তার উদ্দেশ্যের সুস্থতা নিয়ে সংশয় জাগে।

    ২. আপনি মুখে না বলে আচরণে দেখান যে আপনি জামাতি নন। এখন যদি আমি বলা শুরু করি, আমি আসলে মানুষ নই, একটা পাখি, তাহলে লোকে আমাকে বলবে, উইড়া দ্যাখা! তাই না?

    ৩. এটা আপনার পলিটিক্যাল দাবি। যারা ইসলাম পালন করে না, তাদের নিশ্চয়ই কিছু গ্রাউন্ড আছে ইসলাম পালন না করার জন্যে। তার মানে এই না যে তারা কিছু জানতে পারবে না। আর কোন কিছু সম্পর্কে জানতে গেলে কি পালন করতেই হবে? আমি তো সাইকেল চালাতে জানি, কিন্তু চালাই না। এখন যদি আপনি আমাকে বলেন, কোনটা সাইকেলসম্মত আর কোনটা সাইকেলসম্মত নয়, সেটা বলার অধিকার আমার নাই, হবে? আপনার সমস্যাটা কোথায়, আমি বলি। আপনি ইসলামের আদেশগুলি নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে গিয়ে এক্সকিউজ বার করেন। যেমন, ফোটোগ্রাফি সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকে ধরে রাখা, কারেন্সির প্রতিকৃতি আপনি ডিজাইন করেন নাই, ইত্যাদি। আপনি মনে করেন, আপনি ইসলাম পালন করেন (এটা আপনার ধারণা কিন্তু, আমি এতে একমত নই, আপনি ইসলামকে অ্যাবিউজ করেন) এবং এই লুপহোলগুলি নিয়ে টাচি হয়ে থাকেন। কেউ ধরিয়ে দিতে গেলেই খামচাখামচি্ করেন। তারচেয়ে কেন স্বীকার করেন না যে ইসলামের বহু আদেশ এখন এই ২০০৮ সালে আর আক্ষরিকভাবে পালন সম্ভব নয়, দেখতে হবে কনটেক্সট বিচার করে? আপনি সেটা করবেন না। কারণ সেটা করতে গেলে ইসলামের নামে ধোঁকাবাজির সুযোগ কমে যাবে। আর বললাম তো, আপনি যদি লালনের মূর্তি ভাঙাক ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক মনে করেন, তাহলে হাইড পার্কের মূর্তিগুলি গুঁড়া করে দিয়ে আসেন, তারপর কথা বলেন। কারেন্সিও রিনাউন্স করতে ভুইলেন না, কারণ ওতে অঙ্কিত প্রতিকৃতি আছে (আপনি তো ফোটোগ্রাফিকে জায়েজ বানিয়েই ছাড়বেন)।

    ৪. ততবড় ভন্ড হলেই, যতবড় ভন্ড হলে দুনিয়ায় এতো গরীবী থাকার পরও কা'বা শরীফকে সোনার গিলাফ পড়ানো যায়।

    আপনি বলছেন, "-- এখন সেটা পূর্ণপ্রতিষ্ঠা করতে গেলে টাকা খরচ হবে না?"

    আপনার ল্যাপটপটা আছাড় মেরে হুদাই ভেঙে ফেললো কেউ। তারপর যদি যুক্তি দেয়, যে আরেকটা কিনতে গেলে টাকা খরচ হবে না? কেমন লাগে শুনতে?

    ৫. কী আপদ! আপনার দেয়া হাদিসই আপনাকে দিচ্ছি।
    1 – Muslim (969) narrated that Abu’l-Hayaaj al-Asadi said: ‘Ali ibn Abi Taalib said to me: “Shall I not send you with the same instructions as the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) sent me? ‘Do not leave any image without defacing it or any built-up grave without leveling it.’”

    আপনার পাসপোর্ট আর কারেন্সি ব্যবহারে তাগিদ যে কত গুরুতর, তা বুঝতে পারছি। এখন প্রতিকৃতি-সংক্রান্ত হাদিসও খেয়ে ফেলছেন। বেশ বেশ।

    ৬. আপনার বাসায় ভাংচুর করতে আসলো এক লোক। আর চিল্লাতে লাগলো, আস্তমেযে ভাত খায়, আস্তমেয়ে ভাত খায়। আপনি তাকে ধরে প্যাঁদাবেন ঠিকই, কিন্তু বলবেন যে কথাটা তো ব্যাটা ভুল বলে নাই! আপনার মেনশন করা "আলেম"দের জন্যেও তেমনটা খাটে। নিফাক কোথায় হলো?

    ৭. উপরের মন্তব্য দ্রষ্টব্য।

    ৮. আপনার কল্পনাশক্তির প্রশংসা করে তো শুরুতেই বললাম, একটা গল্প লিখে ফ্যালেন, পড়ে আমি তব্ধা খাই। আর কেন আপনি আমাকে নিয়ে অসভ্য বেশরিয়তি সব কল্পগল্প রটালেনে? ছি ছি ছি। এ লজ্জা কোথায় রাখি?

    ৯. "আপনাকে যখন তখন মনে পড়ে", এরকম এক্টা বেশরিয়তি কথা বলার পরও খুনসুটির দায় এড়াতে চাচ্ছেন? আপনি কি নূরজাহান যে যখন তখন আপনাকে মনে পড়বে? আমার ডিকশনারিতে "যখন তখন মনে পড়া" মানে বিরহে ব্যাকুলতা। এর মানে একটাই, কোন বেশরিয়তি ব্যাপারস্যাপার চলছে। নাকি বলেন?

    আমার জীবনে মাশাল্লাহ অর্থবহ মানুষ আর কাজ আছে আপনাদের দো'আয়। যাতে এমন আরো আসে সেই দো'আ করবেন। আমার ফ্যান্টাসিগুলি অনৈস্লামিক হলেও সরল, সুন্দর ও ছাগুমুক্ত।

    আপনার আরো কিছু বলার থাকলে প্রথম পাতার কোন পোস্টে বলবেন, পুরোনো পোস্ট চোখে পড়ে না। আল্লাহ আপনাকে বাতিলের ইশারা থেকে মুক্ত রাখুন, অজানা অচেনা লোকজনের কাঁধে "যখন তখন মনে পড়া"র বেশরিয়তি অভিযোগ চাপানোর প্রলোভন কাটিয়ে ওঠার তৌফিক দান করুন। আমিন।

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।