Monday, September 15, 2008

আদমসংস্থান

রোবায়েত ফেরদৌস প্রস্তাব করেছেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্যকে যাদুঘরে পাঠানোর জন্যে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির জন্যে শ্রদ্ধেয় ড. ইউনূসকে বহির্বিশ্বের সাথে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে।

প্রস্তাবটি অভিনব, একই সাথে কার্যকরী হবার সম্ভাবনাও প্রবল। ড. ইউনূসের ভূবনজয়ী ব্যক্তিত্ব, বিশেষ করে তাঁর মনোরম স্নিগ্ধ হাসি দেখলে মানুষের মন দ্রবীভূত হতে বাধ্য। পরশুরাম পৃথিবীকে একুশবার ক্ষত্রিয়শূন্য করেছিলেন, ড. ইউনূস হাতে কুঠার তুলে নিয়েছেন দারিদ্র্যের মূলে আঘাত করার জন্যে। আমরা চাই না তিনি একুশবার এই খাটুনির কাজ করে হয়রান হোন, আমরা কামনা করি, একটি শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী কোপেই এই বাজে ব্যাপারটির মূলোৎপাটন করে একে স্টাফ করে অবিলম্বে যাদুঘরে পাঠানো হোক। পরবর্তীতে মুজে গিমে-সহ পৃথিবীর বড়বড় দেশের বড়বড় যাদুঘর এই অমূল্য দারিদ্র্যকে ধার নিয়ে নিজেদের দেশে প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও করতে পারবে।

আদমসংস্থান দারিদ্র্যহনন ও যাদুঘরায়নের জন্যে একটি অনন্য উদ্যোগ হতে পারে। এতে করে বাংলাদেশ যেমন একদিকে কিছুটা রেহাই পাবে জনসংখ্যার ভার এবং নিজ দেশে কর্মসংস্থানের অভাবজনিত জটিলতা থেকে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার আয়ও কিছুটা বাড়বে। বাংলাদেশে সরকারি উদ্যোগে এই কাজ হওয়া যে প্রায় অসম্ভব, বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয় ইতিহাসের পাতায় নিজেদের অকর্মণ্যতা দিয়ে তা সুদৃঢ়হস্তে খোদিত করে রেখেছে। নোবেলপুরস্কারজয়ী গ্রামীণ ব্যাঙ্ক কিন্তু জনশক্তির প্রশিক্ষণ ও সুষ্ঠ রপ্তানির কাজে এগিয়ে আসতে পারে। আজ যে অদক্ষ বা অর্ধদক্ষ শ্রমিক নানা পাকেচক্রে হাবুডুবু খেয়ে ভাগ্যের হাতে নিজেকে সমর্পণ করছেন, তিনিই হয়তো দৃঢ় আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিদেশের মাটিতে পা রাখতে পারবেন ড. ইউনূসের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে। সারা পৃথিবীর বড় বড় লোকেরাই ড. ইউনূসের গুণমুগ্ধ, কাজেই তাঁর অনুরোধে কয়েক হাজার দক্ষ বাংলাদেশী শ্রমিককে তাঁরা কাজ দিতেই পারেন। ইউনূস ব্র্যান্ডের শ্রমিকরা কিছু বাড়তি সুবিধাও হয়তো পাবেন সেসব দেশে। মধ্যপ্রাচ্যে যেমন মানবেতর পরিবেশে ক্রীতদাসের মতো খাটানো হয় তাঁদের, তেমন ভোগান্তি হয়তো এঁদের আর পোহাতে হবে না।

অসংখ্য দরিদ্র ডুবছে প্রতিদিন একটু একটু করে, তাদের নাকটা শুধু জেগে আছে পানির ওপরে, আর তারা হাত বাড়িয়ে রেখেছে আমাদের দিকে। এই লক্ষকোটি হাতের বোবা আহ্বান কি ড. ইউনূস ফেলতে পারেন? বিশেষ করে দারিদ্র্যকে যাদুঘরে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেবার পর? আমি কাতর আগ্রহ নিয়ে জাতির এই বৈতরণীপারের খেয়ায় তাঁকে বৈঠা হাতে দেখতে চাই। ওসব বন্দরটন্দর নিয়ে পরেও ভাবা যাবে।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।