Monday, September 01, 2008

একটি রূদ্ধশ্বাস নাচগানঅ্যাকশনে ভরপুর বাংলা সিনেমার কাহিনীশাঁস

শাঁসকে ফাঁপিয়ে লেখার দায়িত্ব নজরুল ভাইয়ের। সিনেমা তৈরি হলে রয়্যালটি দাবি করবো।

কাহিনী আবর্তিত দু'টি চরিত্রকে ঘিরে। দারোগা ফর্সা ফারুক ও দস্যু কালা হিমু। ফর্সা ফারুক সর্বদাই বিষণ্ন, নানা বিষয়ে তিনি ভাবতে চান থানায় বসে, কিন্তু দস্যুরা তাঁকে সে সুযোগ দেয় না। পদে পদে তাঁকে থানা থেকে বেরিয়ে ধাওয়া করতে হয় সেই চোরছ্যাঁচড়দের।

ফর্সা ফারুকের জন্যে নায়িকা লাগবে না। তিনি বিবাহিত ও সজ্জন। তাছাড়া নাচগানের বয়স তাঁর পেরিয়ে গেছে।

কালা হিমুর জন্যে একাধিক নায়িকা লাগবে। কারণ এক নায়িকা দিয়ে সে বিশ মিনিটের বেশি সিনেমা টানতে পারে না। ভালো কয়েক বোতল রামও লাগবে তার জন্যে। ডানে বামে দুয়েকজনের শালি পেলেও মন্দ হয় না। আর কী কী লাগবে তা পরে বিশদ বলা হবে।

সিনেমার শুরু শহরের প্রখ্যাত ধনকুবের মঞ্জু চৌধুরীর বাড়িতে ডাকাতি দিয়ে। ডাকাতির জন্যে অভিযুক্ত দস্যু কালা হিমু, যে কি না এমনই ঘোর কৃষ্ণবর্ণ, যে প্যান্ট খুললে ঘর আঁধার হয়ে আসে। মঞ্জু চৌধুরী থানায় ডায়রি করবেন, বন্দুক নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন দারোগা ফর্সা ফারুক।

তারপর গোটা সিনেমা জুড়ে অ্যাকশন। কখনও ঘোড়ায় চেপে, কখনো মোটরসাইকেলে, কখনো বল বেয়ারিঙের চতুষ্চক্রযানে করে চলবে দুর্দান্ত দারোগা ফর্সা ফারুক ও দুর্ধর্ষ দস্যু কালা হিমুর মারপিট। প্লেনে চড়ে হিমু থানায় বোমা ফেলে, তো মোটরবোটে চেপে ফারুক হানা দেন দস্যুর আস্তানায়।

এরই ফাঁকে চলবে নাচ গান। ডানে বামে। কয়েকটি দৃশ্যে অন্যপাড়ার ছাগলের পালের বৃন্দনৃত্য দৃশ্যায়িত হবে তাদের ম্যা-ম্যা সঙ্গীতসহ। দস্যু হিমু রামের বোতলে চুমুক দিয়ে বলবে, যব তক তেরি পাও চলেগি, তব তক তু জিন্দা রাহেগি। দারোগা ফারুক দাঁতে দাঁত পিষে বলবেন, ইয়ে ডায়লোগ তুঝে ভারি পড়েগা কালা, ইয়ে ডায়লোগ তুঝে ভারি পড়েগা!

এভাবেই চলবে অ্যাকশন।

শেষ দৃশ্যে যখন হতাশ দারোগা রেজিগনেশন জমা দিতে যাবেন সদরে, রিকশা ঠিক করতে গিয়ে দস্যু হিমুর সাথে তাঁর গঞ্জে মোলাকাত হবে। কালা হিমুর মুখে গান, ওরে রসিয়া বাইদানি, তার পরনে বিকিনি, সে করিলো মোর টাটকা দিলে পাংচার ... হোয় হোয়!

ফর্সা ফারুকের মগজে বিদ্যুৎপাত ঘটবে। আরে, এই গান তো তাঁর পরিচিত! এই সেই গান, যা তিনি ছেলেবেলায় তাঁর ভায়রা ভাইয়ের সাথে বিড়ি খেতে খেতে গাইতেন। পরে কুম্ভের মেলায় গিয়ে দুইজনের ছাড়াছাড়ি হয়।

তিনিও পরের কলি গেয়ে উঠেন, ওরে রসিয়া বাইদানি, সব হলো জানাজানি, আয় দুষ্টামি বাদ দিয়ে করি সংসার ... হোয় হোয়!

কালা হিমুর মগজেও অনুরূপভাবে বিদ্যুৎ চমকাবে।

এরপর সাদাকালো করে দেখানো হবে অতীতের দৃশ্য, দুই বালক ভায়রা ভাই বিড়ি খেতে খেতে গান গাইছে কুম্ভের মেলায়।

দর্শকরা বুঝে যাবে পাঞ্চ লাইন কোথায়। দারোগা আর দস্যু, বরাবরের মতোই, ছেলেবেলায় কুম্ভ কি মেলে মে খো গায়া ভায়রা ভাই।

দস্যু হিমু আর দারোগা ফারুক তখন যথাক্রমে একে ৪৭ ও থ্রি নট থ্রি গাদা বন্দুক মাটিতে ফেলে একজন আরেকজন জড়িয়ে ধরবেন অশ্রুসজল নয়নে। ইতোপূর্বে লুণ্ঠিতা (হিমুকর্তৃক, কারণ ফর্সা ফারুক সচ্চরিত্র ও বিবাহিত) নায়িকারাও তখন আড়াল আবডাল ছেড়ে বেরিয়ে এসে অকারণে নাচবেন। কারণ শুধু ছাগলের নাচ দিয়ে সিনেমা টানা যাবে না।

এভাবেই মিলনাত্মক পরিণতির মধ্যে দিয়ে আরেকটি শ্বাসরূদ্ধকর সিনেমার সমাপ্তি ঘটবে। পৃথিবীর স্বাভাবিক নিয়মে দারোগা আর দস্যুর মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে। ছাগলেরা খুর দিয়ে চোখ মুছবে।

[]

1 comment:

  1. এহসান25 September, 2008

    ভাই,আপনি এতো ফানি ক্যান?

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।