Thursday, August 28, 2008

একটি রহস্যগল্প

তাজউদ্দীনই হয়তো সৈয়দ নজরুল ইসলামকে বেয়োনেটের প্রথম চার্জটা করেছিলেন। এরপর হয়তো ক্যাপ্টেন মনসুর আলি বেয়োনেট ঢোকান মিতবাক কামরুজ্জামানের যকৃতে। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আগে হয়তো কামরুজ্জামান তাজউদ্দীনের মহাধমনী বরাবর নিজের বেয়োনেট প্রবিষ্ট করেন। ওদিকে মৃত্যুপথযাত্রী সৈয়দ নজরুল কর্তব্য সম্পন্ন করেন ক্যাপ্টেন আলির অলিন্দে বেয়োনেট ঢুকিয়ে, হয়তো।

হয়তো এমনটাই ঘটেছিলো। হয়তো এই চার নেতা, যাঁরা হাজারো অভূতপূর্ব তিক্ততার মধ্যে অটল থেকে প্রবাসী বাংলাদেশী সরকারে বিভিন্ন ভূমিকায় নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের দেশটাকে কূটনৈতিক পুলসিরাত পার করিয়ে দিয়েছিলেন, হয়তো এভাবেই তাঁরা নিজেদের মলিন পায়জামার নিচ থেকে ইলাস্টিকে বাঁধা চার সেন্টিমিটার চওড়া ইস্পাতের ফৌজি বেয়োনেট টেনে বার করে ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর একে অন্যকে হত্যা করেছিলেন।

কিংবা আসুন, আমরা এই দায় চাপাই ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের বাহিনীর ওপর। তারাও তো সৈনিক ছিলো। তাদেরও তো বেয়োনেট ছিলো। তারাও তো চার নেতাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করতে পারেন।

কিংবা হয়তো মাসুদ রানার চিরশত্রু কবীর চৌধুরী, কিংবা জেমস বন্ডের ডঃ নো, কিংবা ব্যাটম্যানের প্রতিদ্বন্দ্বী পেঙ্গুইন বা জোকার, কিংবা অস্টিন পাওয়ারস এর দুষ্টু ডক্টর ইইইভল এর কাজ এটা। কিংবা র এর ষড়যন্ত্র। কিংবা কেজিবির দুষ্টুমি। কিংবা ভূটান বা মঙ্গোলিয়ার ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির গুপ্তঘাতকদের কাজ। কিংবা হয়তো তখন ঘড়িতে রাত বারোটা, পাজির পা ঝাড়া বদরু খাঁ-ই হয়তো এই কুকর্ম করেছে।

আসুন, এই রহস্য গল্প নিয়ে ভাবি। তবে সাসপেক্টদের তালিকা থেকে শুরুতেই বাদ দিন দফাদার মারফত আলী শাহ, দফাদার মোঃ আবুল হাশেম মৃধা, বরখাস্তকৃত লেফটেন্যান্ট কর্ণেল সৈয়দ ফারুক রহমান, অব্যাহতিপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্ণেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, অব্যাহতিপ্রাপ্ত মেজর বজলুল হুদা এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহাম্মদকে। এঁরা ইতোমধ্যে বেকসুর খালাস পেয়েছেন আদালতের রায়ে। এঁরা মাসুম।

আসুন, আরো ভাবি এই রহস্যগল্প নিয়ে। কারা খুন করলো ঐ চারজন মানুষকে? কারা খুন করলো ঐ চারজন রাষ্ট্রস্থপতিকে, যাঁরা কাঁধে করে একটি রক্তাক্ত শিশুরাষ্ট্র উপহার দিয়েছিলেন আমাদের?

আমার মনে হয়, কাজটা ডক্টর ইইইভলের। আপনি কী ভাবছেন?

[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।