Saturday, August 23, 2008

ইয়োরোপের জনমিতি

বার্লিন জনগণ ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (জার্মান নামটার বাংলা করলে এমনই দাঁড়ায়) সম্প্রতি এক রিপোর্টে ইউরোপের জনমিতির কিছু দিক নিয়ে তাদের গবেষণার ফল প্রকাশ করেছে। সংক্ষেপে এই রিপোর্টের বিশেষ কিছু দিক তুলে ধরছি।

১. বহির্বিশ্ব থেকে জনস্রোত না এলে ইউরোপ ছোট হয়ে আসবে।

ইউরোপিয়ানদের জন্মহার খুবই কম, আর প্রত্যাশিত আয়ু অনেক বেশি। এই দুই চরম প্রবণতার পাল্লায় পড়ে ইউরোপ ধীরে ধীরে লোক হারাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের মধ্যে ৮টি দেশেই জনসংখ্যা পড়তির দিকে, ২০৫০ সাল নাগাদ এমন দেশের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭তে। ইইউ-এর গড় জন্মহার ১.৫ এর কাছাকাছি, প্রতি বছর এটা কমছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ নাগাদ ইউরোপে ৫ কোটি মানুষ কমবে।




ইয়োরোপের জন্মহার দেখা যাবে ওপরের ছবিতে (জার্মান ভাষায় আরো কিছু বাড়তি তথ্য লেখা আছে, তবে লিজেন্ডটি খুবই সাধারণ, বুঝতে কারো সমস্যা হবার কথা নয়)।


২. ইয়োরোপ পাকছে।

২০৫০ সাল নাগাদ ইয়োরোপীয়দের গড় বয়স আরো দশ বছর বাড়বে। এখন প্রতি ছয়জনের একজনের বয়স ৬৫ বছরের ওপরে, ২০৫০ নাগাদ তা দাঁড়াবে প্রতি তিনজনের একজনে। উপার্জনক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে আসবে, যাদের একই সাথে শিশু ও বৃদ্ধদের ভরণপোষণ করতে হবে। বর্তমানে কর্মক্ষম ও নির্ভরশীলের অনুপাত ২:১, ২০৫০ নাগাদ তা দাঁড়াবে ১:১ এ।




ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কিভাবে উপার্জনক্ষম ও নির্ভরশীল বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

৩. বিবাহবন্ধনবহির্ভূতবালকবালিকাদেরবিশ্ব

ইয়োরোপে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্রমশ স্বনির্ভর হয়ে উঠছেন। এ কারণে ভবিষ্যতে পরিবারের ধারণাটি পরিবর্তিত হবে, এবং বিবাহবন্ধন ছাড়াই শিশুরা জন্মগ্রহণ করবে এবং লালিতপালিত হবে। আইসল্যান্ডে (ইয়োরোপে মহিলাপিছু শিশুর সংখ্যা সবেচেয়ে বেশি এখানে) যেমন বর্তমানে ৬৫% শিশুই অবিবাহসম্ভূত। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এমন শিশুর সংখ্যা বহুগুণিত হবে।




ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ইয়োরোপে কর্মজীবী মহিলাদের অনুপাত, ও মহিলাপিছু শিশুর সংখ্যা।

৪. উল্টোরথ

ইয়োরোপের যে তিনটি দেশ থেকে এককালে লক্ষ লক্ষ কর্মহীন মানুষ ভিনদেশে চলে গিয়েছিলেন কাজের খোঁজে, সেই তিনটি দেশে এখন বিপরীত চিত্র। স্পেনে এখন ১৯৯৫ থেকে ২০০৬ এর মধ্যে ভিনদেশীদের সংখ্যা বেড়েছে আটগুণ। ইতালিতে এ বৃদ্ধি তিনগুণ, আয়ারল্যান্ডে প্রায় দ্বিগুণ।




ছবিতে দেখা যাচ্ছে ইয়োরোপের ভেতরে দেশত্যাগের হাল। পোল্যান্ড থেকে দু'টি বড় অংশ গেছে ব্রিটেন আর জার্মানিতে, রোমানিয়া থেকে লোকে যাচ্ছে ইতালি আর স্পেনে। ধূসর দেশগুলি দেশত্যাগীদের জন্যে খুব একটা আকর্ষণীয় নয়, বোঝাই যায়।

৫. উত্তরখন্ড তৈরি

ইয়োরোপের উত্তরখন্ড, অর্থাৎ আইসল্যান্ড আর স্ক্যান্ডিনেভিয়া ভবিষ্যতের এইসব সমস্যা মোকাবেলায় সবচে' ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের সমাজব্যবস্থা এবং সামাজিক অবস্থার কারণে এসব দেশে জন্মহার বেশি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ অপেক্ষাকৃত ভালো, মহিলা ও বৃদ্ধরা উপার্জনক্ষম।

৬. ইইউ কর্মসংস্থান এঞ্জিন

অতীত বছরগুলিতে ইইউ এর নতুন সদস্য রাষ্ট্রগুলিতে এক হাঙ্গেরি বাদে সবকয়টিতেই গড়ে ৩% করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে, বাল্টিক প্রজাতন্ত্র আর স্লোভাকিয়াতে এই হার ৬% এর কাছাকাছি। ১৫টি মূল সদস্যরাষ্ট্রে লৌহযবনিকার পতনের পর কর্মসংস্থান বেড়েছে ১৫%, মোট ইউনিয়নে গড়ে ৭%। যাবতীয় উৎপাদন ব্যবস্থা পূর্ব ইয়োরোপে ঠেলে দেবার পরও গড়ে প্রতি দুইজনে একজনের কর্মসংস্থান ঘটেছে ইউনিয়নে।




ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ২০০০ থেকে ২০০৫ এর মধ্যে বিভিন্ন দেশ কর্মসংস্থানের পরিবর্তনের হার। রুমানিয়াতে এই হার ঋণাত্মক, কিন্তু স্পেন , আয়ারল্যান্ড ও ফ্রান্সের কিছু অংশে বিপুলভাবে ধনাত্মক।



বাংলাদেশকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে এমন একটি জনমিতিক বিশ্লেষণ পেলে মন্দ হতো না।


সূত্রঃ জিও।

1 comment:

  1. অনেক কিছু জানলাম লেখা থেকে।
    এ নিয়ে দ্বিতীয়বার পড়া হল।

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।