Wednesday, August 20, 2008

প্রবাসে দৈবের বশে ০৪৮

১.
ঘোরের মধ্যে দিন কাটছে। হাতে শ'খানেক বড়-মেজো-ছোট কাজ, কিন্তু শেষ করা হচ্ছে না কিছুই। চিরকুটে ছক কাটি, বাস, ঐ পর্যন্তই।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সামনে তাপপরিবহন আর তাপগতিবিদ্যা নিয়ে পরীক্ষা সামনে। কিসুই পড়া হয় নাই। বড় আকারের একটা আন্ডা নিয়ে ফেরত আসার সম্ভাবনা প্রবল। অতীত পরীক্ষাগুলির ফলাফল যাচাই করে তেমনি মনে হয়। প্রফেসর উদার হাতে গোল্লা বিতরণ করেছেন।

হাতেনাতে পরীক্ষা নিয়েও একটা ষাট পাতার রিপোর্ট লেখা বাকি। প্রথম পাতাটা লিখেছি। বাকি ঊনষাট পাতা অর্ধনিমীলিত চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। হোয়েন ইউ লুক ইনটু দ্য অ্যাবিস, দ্য অ্যাবিস লুকস ইনটু ইউ।

এ ছাড়া আরেকটা বড় কাজ হচ্ছে আমার ঘর সাফ করা। গোয়ালঘর সাফ করাও বোধহয় এরচে সোজা। আমি নিজের ঘর পরিষ্কার করার পর গোয়ালঘর পরিষ্কারের অভিজ্ঞতাও হাসিল করতে পারবো বলে বিশ্বাস রাখি।

মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আরো কিছু কাজের দায় আমার ওপর ঝোঝুল্যমান। তার ক্ষুদ্র ভগ্নাংশও সম্পন্ন করা হয়নি। ভবিষ্যতে কয়েকদিন চোখে অন্ধকার দেখবো মনে হচ্ছে। এরই মধ্যে আয়নার ভেতরের আমি ক্রমাগত আয়নার বাহিরের আমিকে ঘ্যানা প্যাঁচাল শুনিয়ে যাচ্ছে, "তুমি বৃদ্ধ হয়ে গ্যাছো, তুমি বৃদ্ধ হয়ে গ্যাছো ...।"

২.

গ্রীষ্মের আমেজ শেষ। বাতাসে আতর গোলাপের সুগন্ধ বিলীন। পথেঘাটে তরুণীরা আবারও তাদের গা গতর আবৃত করে চলাফেরা শুরু করেছে। আমার শরীরে হাড্ডির সংখ্যাও ২০৭ থেকে ২০৬ এ নেমে এসেছে। বাইরে বেশিরভাগ সময়ই বৃষ্টি, কিংবা ভেজা বাতাস চালায়। জ্বর আর টিপটিপ মাথাব্যথা কয়েকদিন ধরে।

এই নিরামিষ সময়ে কিছু লেখার এনথু-ও পাচ্ছি না। মন মাঝে মাঝে বোতলের জন্যে আইঢাঁই করে। তাই একটা সনেটের সূত্রপাত করে ক্ষান্ত দিই।

উদ্ধৃতি

সতত হে মদ তুমি পড় মোর পেটে
সতত তোমার কথা লিখি এ সনেটে
সতত যেমতি লোক নেশার স্বপনে
শোনে মায়ামন্ত্রধ্বনি তব কলকলে

...

[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।