Tuesday, August 05, 2008

প্রবাসে দৈবের বশে ০৪৬

১.
হোগা বাঁচানোর জন্যে ছুটছি। প্রাণপণে। কষে দম নিয়ে। তবে গোল পথে। পেছনে ছুটে আসছে শত্রু, মতলব ভালো না। তবে যদি খুব জোরসে ছুটতে পারি, আমিই ওর পেছনে গিয়ে পৌঁছুতে পারবো। তারপর ... । হাম্মুরাবির নীতি অনুসরণ করবো তারপর। চোখের বদলে চোখ, পোঁদের বদলে পোঁদ। শিকারই শিকারীর ইয়ে মেরে একশা করে ছাড়বে তখন। কেউ বাঁচাতে পারবে না। মুহাহাহাহাহাহা।

মুশকিল হচ্ছে, দম নাই। বুইড়া হয়ে যাচ্ছি দিনকেদিন। মাঝেমাঝেই শ্লথ হয়ে পড়ছি, শত্রু এসে হোগা মেরে দিচ্ছে সাথে সাথে। শত্রুরও নানা কিসিম। আর্থিক শত্রু, সামাজিক শত্রু, সাংস্কৃতিক শত্রু, রাজনৈতিক শত্রু, মানসিক শত্রু, শারীরিক শত্রু ... লাইন ধরে আসছে চুদিরভায়েরা। একটাকে কাবু করলে আরেকটা ঘাড়ে উঠে বসে। তবে একদিন, হ্যাঁ, একদিন সব কয়টাকে গুণে গুণে সব হোগামারা আমি ফিরিয়ে দেবো। কাউকে ছাড়বো না। পৃথিবীর সমস্ত বানর একদিন মারা যাবে।

২.
লাবোরপ্রাকটিকুম চললো এক হপ্তা ধরে, একদিন পর পর। সৌরতাপবিষয়ক নানা মাপজোকের ওপর হাতে কলমে শিক্ষালাভ। লাবোরইনজেনিয়ুর হের নয়মান মহা কড়া লোক, আমি আর আমার হাঙ্গেরীয় ল্যাবমেট তামাশ শুরুতেই তার পাল্লায় পড়ে কাবু হলাম। পান থেকে চুন খসলেই নয়মান এসে বকা দেয়। আমাদের সাথে বাকি চারজন, একটা ডরোথে আর তিনটা কাথারিন মহা ফূর্তিতে ল্যাবের কাজ করে, আর আমরা দুই বেচারাম ঝাড়ি খাই।

৩.
আমার হলের নেট গত এক হপ্তা ধরে বিচ্ছিন্ন ছিলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণনাকেন্দ্রে অভিযোগ করতেই সংশ্লিষ্ট চুদির্ভাই জানালেন, মানুষকে ধৈর্য ধরতে হয়। ইচ্ছা করছিলো বলি, যে চোকের সামনে সুনাডা ফলছে আমার, কিন্তু চেপে গেলাম। চুষনি কাঠির মতো ধৈর্যকে পাকড়ে ধরে কয়েকটা দিন কাটালাম।

নেটবিহীন জীবন সুখপ্রদ নয়। নানারকম সমস্যা হয়। দিনটাই মোটামুটি নষ্ট হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলে বসে বহুকষ্টে কিছু কাজ শেষ করলাম, হের চৌধুরীর বাড়িতে উৎপাত করলাম কিছু। আজ দুপুর বারোটায় কম্পিউটার ছেড়ে দেখি পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক।

৪.
আমার পড়শি, চুদির্ভাইশিরোমণি জনাব ফারনান্দেজ বিদায় জানিয়েছেন। যাবার আগে কয়েকবার আমার সঙ্গে মৃদু খিটিমিটিও করেছেন। তার শাস্তিও তাকে দিয়েছি। তবে যাবার সময় তার নানা অস্থাবর সম্পত্তি তিনি ভোনহাইমের জন্যে ওয়াক্ফ করে রেখে গেছেন। স্যামুয়েল ছিলো মাটির মানুষ, উগো ছিলো একটা পাজির পা ঝাড়া, তাই খুব দুশ্চিন্তায় আছি, এর পরে যে আসবে সে শয়তানের আঁটি না হয়েই যায় না। তবে হয়তো সত্যিই ঈশ্বর বলে কেউ আছেন, এবং হয়তো সত্যিই আমার পাশের ঘর আলো করে কোন নির্বান্ধব তন্বী চেক বা শ্লোভাকিয় সুন্দরী এসে দুলকি চালে উঠবে, আমারও কিসমৎ রওশন হবে। বলুন আমিন।

[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।