Saturday, July 19, 2008

লোডশেডিঙের গান ০১

লোডশেডিঙের মধ্যে দিয়ে আমরা যাঁরা বেড়ে উঠেছি, তাদের সাথে আগের বা পরের প্রজন্মের একটা পার্থক্য থেকেই যাবে। লোডশেডিং মানে গরম, লোডশেডিং মানে হাতপাখা খোঁজা, লোডশেডিং মানে হারিকেন জ্বালো, লোডশেডিং মানে মোমবাতি নিয়ে বাথরুমে যাও, লোডশেডিং মানে চার্জারের আলো দেখে জড়ো হওয়া পোকার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ঘর ছেড়ে হাঁটতে বেরোও, লোডশেডিং মানে হারমোনিয়াম বাজিয়ে সবাই মিলে গান, লোডশেডিং মানে গান শুনে পড়শিরাও এসে মাদুর পেতে বসে পড়েছে, লোডশেডিং মানে এই অন্ধকারের মধ্যেই চা বানিয়ে নিয়ে আসছে কেউ, সাথে মুড়িমাখা। লোডশেডিং বড় বন্ধু আমার। যাকে হারিয়েছি এই প্রবাসে এসে। যার সঙ্গে হারিয়েছি এই ওপরে যা যা বললাম, সবকিছু।

গত কয়েকদিন সচলায়তনের এই দুর্বিপাকে মন মেজাজ খুব খারাপ। এদিকে পরীক্ষা সামনে। কিছু ভাল্লাগছে না। একটা গান নিয়ে অনেকদিন গুঁতাগুঁতি করছিলাম, আজ রেকর্ড করলাম সর্দিবসা গলা নিয়ে। আমি সাধারণত যেসব গান লিখি সেগুলি সুবিধার না একদমই, অনেকেই বাসায় হেডফোন ছাড়া শুনতে গিয়ে কেলেঙ্কারিতে পড়েছেন, তবে আজকেরটা তেমন কিছু নয়।

আমি গান লিখি মনে মনে, সুর করি গীটার বাজাতে বাজাতে। এমন আহামরি কিছু হয়নি, কিন্তু সচলের জন্যে তুলে দিলাম। দেশে আমার কিছু গান শোনানোর বন্ধু ছিলেন, যাঁদের সাথে কথোপকথনের একটা অংশ ছিলো এই লোডশেডিঙের গানগুলি। যোগাযোগ নেই এখন কারো সাথেই। আমার এই গানগুলি সেই লোডশেডিঙের সময় ফোনের অন্যপ্রান্তের সুহাসিনীদের জন্যে।

পুনশ্চে যোগ করি, গতকাল সচলের অতিথি রাশেদকে বেশ কঠোর ঝাড়ি দিয়েছিলাম। পরে মন খারাপ হলো এ-ই ভেবে, উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপালাম। বৎস্য রাশেদ, দুঃখিত, ঝাড়িটা তোমার প্রাপ্য ছিলো না কিছুতেই। মন খারাপ করো না। সময়টা খারাপ যাচ্ছে আমাদের সবার জন্যেই।



দ্বিতীয় সংস্করণটা ধ্রুব হাসানের সহযোগিতায় কিছুটা বুলন্দ করা হয়েছে। প্রথমটায় টাইফয়েড রোগীর মতো চিঁচিঁ আওয়াজ শোনাচ্ছিলো।

Krishnachuraa.mp3

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।