Tuesday, February 12, 2008

প্রবাসে দৈবের বশে ০৩০

সেমিস্টার শেষ হলো শেষমেশ।

শেষ হপ্তায় একেবারে দৌড়ের ওপর ছিলাম। খাইষ্টা কোর্স ব্যবস্থাকৌশলের ওপর একটা দারুণ উপস্থাপনা দিয়ে মনটা কিছুটা ফুরফুরে। প্রফেসর প্রিস একাধিকবার জানালেন, আমাদের কাজ ভালো হয়েছে, উপস্থাপনাও তাঁর কাছে চমৎকার লেগেছে, তবে আমরা আরো ভালো করতে পারি যদি ... এই বলে কিছু সূক্ষ্ম টিপস দিলেন তিনি। আমরাই একমাত্র গ্রুপ, যারা বইয়ের কোন সিস্টেম গ্রহণ না করে নিজেরা একটা সিস্টেম দাঁড় করিয়েছি। সবশেষে প্রকান্ড এক হাসি দিয়ে বললেন, "আমি নিশ্চিত, আপনারা খুব উপভোগ করেছেন সময়টা!"

মনে মনে বাজে কথা ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়? তীরে এসে হাতের কাছে তরী মিলেছে, বাকিটা সাগর হাবুডুবু খেয়ে সাঁতরে পেরিয়েছি তিনজনে। এর আগের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেতে বসে ছায়া-বক্তৃতা চর্চা করছিলাম যখন, তখনও একের পর এক সমস্যা উঠে আসছিলো পদে পদে। তবে সব ভালো যার শেষ ভালো। জার্মানরা যথেষ্ঠ রসিক, তবে তারা হাসে কম। আমাদের উপস্থাপনায় রসের অভাব ছিলো না বলেই হয়তো প্রফেসর অ্যাতো তুষ্ট। শ্রদ্ধেয় সুজন চৌধুরীকে এই ফাঁকে একদফা ধন্যবাদ জানাই। কপাল ভালো এরিখ ফন দ্যানিকেন হলে উপস্থিত ছিলো না, প্রচুর পঁচানো হয়েছে ব্যাটাকে। ক্রিস্তফ একেবারে ঘোড়ার মুখ থেকে খবর এনেছে, দ্যানিকেন নাকি এই গ্রীষ্মে কাসেলে আসবে। আমরা ঠিক করেছি আমাদের প্রেজেন্টেশনের একটা কপি ব্যাটাকে মেইল করে পাঠাবো।

ঈস্টার দ্বীপ নিয়ে আমার একখন্ড লেখা এখনো বাকি পড়ে আছে সচলে, আমাদের এই জ্যিস্টেমটেখনিকের সিম্যুলেশন থেকে কিছু জিনিস তুলে দেবো ভাবছি। এ প্রসঙ্গে পাঠককে বলছি, বাংলাদেশের ওপর ভবিষ্যত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ওপর কেউ যদি কোন পেপার লেখেন, তাহলে আমি সিম্যুলেশনের অংশটুকু করতে আগ্রহী। এ ব্যাপারে কিছু কাজ আমি শুরুও করেছি, তবে পরীক্ষার চাপে আপাতত তা স্থগিত আছে।

পরীক্ষার সিজন শুরু হয়ে গেছে, সেইসাথে খালি হয়ে গেছে ক্যাম্পাস। ভোনহাইমগুলিও ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। আমার ইন্টারনেট যথারীতি কখনো মৃত, কখনো জীবিত থেকে আমাকে নাহক ভুগিয়ে চলছে।

আরেকটা বিরাট ঝামেলার কাজ এই প্রেজেন্টেশন, কামলা আর ক্লাসের ফাঁকে কোনমতে করে চলছিলাম, তা-ও শেষ হয়েছে মোটামুটি সুচারুভাবেই, তাই আজকে বেশ হালকা লাগছে।

কাসেলে শীত প্রায় শেষ বলা যায়, জ্যাকেট আলমারিতে গুঁজে রেখে সোয়েটার পরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। হিমাঙ্কের ওপরে তাপমাত্রা মানেই জঘন্য বৃষ্টি, তবে গত কয়েকদিনে বেশ রোদেলা ছিলো শহর। আমার বাসার উল্টোদিকে ন্যাড়া গাছটায় একটা পরিত্যক্ত পাখির বাসা আছে, গত পরশুদিন সেটাতে দেখি একটা বড়সড় লেজঝোলা সাদাকালো পাখি এসে নেচে বেড়াচ্ছে। আসন্ন বসন্তের ইঙ্গিত। এই শনিবারে এক দফা ক্রিকেট খেলাও হয়ে গেলো। এই বোঁচা শীত খুব একটা ভালো কিছু নয়, আসছে গরমে পোকামাকড় হবে প্রচুর, তবে দীর্ঘায়িত গ্রীষ্মের কারণে এ বছরে ওয়াইনের স্বাদ ভালো হবে বলে জানিয়েছেন সুমন চৌধুরী। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইতালীয় আর ফরাসী ওয়াইনের দাপটে জার্মান ওয়াইনের ক্ষীণ কণ্ঠস্বর বিশ্ববাসীর দুয়ারে হয়তো পৌঁছোয় না, কিন্তু যে ওয়াইন আমি আর হের চৌধুরী দারিদ্র্যের বশে প্রায়ই খাই, ডর্নফেল্ডার, সেটা কোন অংশে কম যায় না। কোনো সস্তা বোর্দোর স্বাদই ভালো নয়, সস্তা মার্লো মোটামুটি চলে, কিন্তু সস্তা ডর্নফেল্ডার চমৎকার কাজ দেয়। সামনে একটা বিশেষ ঘটনা উপলক্ষে খিয়ান্তির বোতল দেখে আসা হয়েছে, ডর্নফেল্ডারকে ঘর কা মুরগি ডাল বরাবর বানিয়ে।

সামনে কষা এক পরীক্ষা, শ'পাঁচেক পৃষ্ঠা ভর্তি বদখদ ফর্মূলাজর্জরিত এক জিনিস হেফজ করতে হবে বসে বসে। এর আগে যে পরীক্ষায় লাড্ডা মারবো ভেবেছিলাম, সেটায় টেনেটুনে পাশ করে গেছি, এটায় আর টানলে চলবে না, ফাটাতে হবে।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।