Sunday, December 16, 2007

নিজ্ঞাপন ০৪

খালি বাড়িতে যুবক তাড়া করছে যুবতীকে। তবে রয়েসয়ে। যুবকের পরনে গেঞ্জি আর লুঙ্গি, যুবতী শাড়ি। শুধু শাড়িই নয়, যুবতীর পরনে অন্যান্য আনুষঙ্গিকে কাপড়চোপড়াদিও আছে।

নেপথ্য বাজছে গান

পোরো, পোরো চৈতালি সাঁঝে কুসুমী শাড়ি
আজি তোমার রূপের সাথে চাঁদের আড়ি
পোরো, পোরো চৈতালি সাঁঝে

(উঁহু, অনুপ জলৌটার গাওয়া গানে হবে না। এখানে আরো মাদকতা চাই। আরো রস চাই। আরো ইয়ে চাই। সেক্সি আবহাওয়া লাগবে।)

যুবকের হাতের ছোবলে যুবতীর আঁচল কিছুটা স্খলিত হয়ে পড়ে। সেটা সামলাতে গিয়ে যুবতী যুবকের আলিঙ্গনে কিছুক্ষণের জন্য বন্দিনী হয়ে পড়ে। যুবক মুখ নামিয়ে আনে চুমো খাওয়ার জন্য, কিন্তু যুবতী আলিঙ্গন ছাড়িয়ে আবার ছুট দেয়।

গান বাজতে থাকে

পোরো ললাটে কাঁচপোকার টিপ
পোরো ললাটে কাঁচপোকার টিপ
আলতা পোরো পায়ে
তুমি আলতা পোরো পায়ে হৃদি নিঙাড়ি
তুমি আলতা পোরো পায়ে হৃদি নিঙাড়ি
পোরো, পোরো চৈতালি সাঁঝে ...

রান্নাঘর থেকে বারান্দা, বারান্দা থেকে অন্দরমহলে কিছুক্ষণ ছুটোছুটির পর শোবার ঘরে এসেই যুবতী ফাঁদে আটকা পরে। যুবক দরজার গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়ায়, যুবতী কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে শ্বাস ফেলতে থাকে, তার ঊর্ধ্বাঙ্গ আন্দোলিত হয় শ্বাসের ঢিমে তালে।

(দর্শক মুগ্ধ হয়ে দেখতে থাকে নিজ্ঞাপন, যেখানে স্ফূরিতবক্ষা মডেলা প্রচুর দৌড়ঝাঁপ করে আর হাঁপায়। মাহবুব লীলেন হাসেন।)

গানেরও তাল ফেরে। দাদরার (নাকি দাদরার কোন খালাতো ভাই) সাথে লয় মিলিয়ে যুবক এবার ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় যুবতীর দিকে। মতলব খারাপ।

গান বাজতে থাকে।

প্রজাপতির ডানাঝরা সোনার পাতে
প্রজাপতির ডানাঝরা সোনার পাতে
ভাঙা ভুরু জোড়া দিও
ভাঙা ভুরু জোড়া দিও রাতুল শোভাতে
বেল-যুঁথিকার গোড়ের মালা পোরো খোঁপাতে
বেল-যুঁথিকার গোড়ের মালা পোরো খোঁপাতে
দিও উত্তরীয় শিউলি বোঁটার রঙে ছোপাতে

এই গানের সাথেই যুবক দুহাত বাড়িয়ে যুবতীর মুখ নিজের করপুটে নিয়ে আদর শুরু করবে। ভুরুর প্রসঙ্গে সে আঙুলে ছুঁয়ে দেখবে ভুরু, খোঁপার প্রসঙ্গে টান দিয়ে খোঁপা খুলে দেবে। ইত্যাদি। বেশি ধ্যাষ্টামো না করলেই ভালো। রয়েসয়ে।

আবার তাল ফিরবে। যুবক এক ঝটকায় যুবতীর দুই বাহুমূল ধরে আকর্ষণ করবে নিজের দিকে। শাড়ি খসে পড়বে কাঁধ থেকে, বেচারির এখন ব্লাউজই সম্বল।

গান বাজবে।

রাঙা সাঁঝের সতিনী তুমি রূপকুমারী
রাঙা সাঁঝের সতিনী তুমি রূউউউউপকুমারী
পোরো, পোরো চৈতালি সাঁঝে কুসুমী শাড়ি ...।

যুবতী এবার যুবকের কব্জি চেপে ধরবে। ফিসফিস করে মাদকতাময় কণ্ঠে বলবে, "তুমিও কিছু পোরো!"

যুবক বুঝতে পারবে না, বলবে, "কী পরবো?"

যুবতী লজ্জারুণ হাসি হাসবে। এই হাসির দাম বর্তমান বাজারে পৌনে দুই লাখ টাকা ভরি।

যুবক এবার বুঝতে পারবে। খুব ধীরে ধীরে হাসি ছড়িয়ে পড়বে তার মুখে। ক্যামেরা পিছিয়ে আসবে, ঘরের আলো ঘোলা হয়ে আসবে, ফোকাস সরে আসবে এই যুগলের ওপর থেকে, বেরসিক নেপথ্য কণ্ঠ ফিসফিস করে বলবে, "দুর্নিবার কনডম! সকল পুরুষের পরিধেয়!!"

(পরবর্তী নিজ্ঞাপন সংসারে এক সন্ন্যাসীর ফরমায়েশ অনুযায়ী নারীদের সেবনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণবড়ি। কনডমের প্রস্তাবনাটিও তাঁরই ছিলো। পাঠকপাঠিকা পরবর্তী নিজ্ঞাপনের মশলা যুগিয়ে দিতে পারেন আমাকে। ধন্যবাদ।)


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।