Tuesday, November 27, 2007

প্রবাসে দৈবের বশে ০২২

আবহাওয়ার প্রশংসা করতে পারবো না লাখ ইউরো দিলেও। আশেপাশে গাছগুলির পাতা খসে পড়ে গেছে কয়েকদিন আগেই, চারপাশে টেকো গাছের সারি, আকাশ মেঘলা, পথে জমে থাকা বরফগলা জল, আর ওদিকে আমার জুতোর শুকতলা ফেটে গেছে, সব মিলিয়ে একটু মনমরা হয়ে আছি। বাটা থেকে কেনা দুই জোড়া জুতোই জার্মানির বিটকেল শীতের কল্যাণে তলা ফেটে ইন্তেকাল করেছে। নতুন জুতো কিনতে হবে ভেবে মানিব্যাগ জড়িয়ে ধরে কানতে ইচ্ছা করছে।

আর মিস করছি আমার গীটারকে। জীবনের প্রথম রোজগার দিয়ে কেনা স্প্যানিশ গীটার, এখানে ওখানে রং চটে গেছে গত এগারো বছরে, কিন্তু শেষবার যখন বাজাচ্ছিলাম তখনও টনটনে ছিলো। এখানে গীটারের দাম ভয়াবহ, কেনার সাহস করছি না, মাঝে মাঝে সুমন চৌধুরীর কানাডিয় প্রতিবেশীর গীটার ধার করে টুংটাং বাজাই। এত দীর্ঘ সময় একটা গিটারের গর্বিত মালিক হয়ে থাকার পরও আমি গীটার তেমন একটা বাজাতে পারি না, কিন্তু মাঝে মাঝে হাত চুলকাতে থাকে বাজানোর জন্য। হাতের কাছে আবারও একটা গীটার পেলে সচলায়তনের পডকাস্টিং সুবিধা কাজে লাগিয়ে সচলদের বিরক্ত করার একটা কোশেশ করা যেতে পারতো।

জ্যারেড ডায়মন্ডের "রাইজ অ্যান্ড ফল অব থার্ড শিম্পাঞ্জি" পড়ছি কাজের ফাঁকে ফাঁকে। ভবিষ্যতে হাতে সময় পেলে এর ওপর ভিত্তি করে একটা পোস্ট সিরিজ লিখবো ঠিক করেছি।

জার্মানিতে শহরে ট্রামে বা বাসে টিকেট চেকিং সাধারণত হয় না। বাসে চড়তে গেলে ড্রাইভারের কাছ থেকে টিকেট কিনতে হয় বা আগে থেকে কেনা টিকেট বা দৈনিক/সাপ্তাহিক/মাসিক/বার্ষিক কার্ড দেখিয়ে চড়তে হয়। তবে হঠাৎ হঠাৎ ড়্যানডম চেক হয়। হয়তো আমার পাশেই গুটিসুটি হয়ে বসে থাকা ভাবুক লোকটা গা ঝাড়া দিয়ে উঠে পকেট থেকে পরিচয়পত্র বার করে দেখিয়ে পুলিশি মেজাজে বলে বসবে, "গুটেন টাগ, ফারশাইন বিটে!" ফারশাইন হচ্ছে টিকেট, যানবাহন কর্তৃপক্ষের লোকজন অনিয়মিতভাবে এই টিকেট চেক করার কাজ করে। যখন চাওয়া হবে তখন টিকেট দেখাতে না পারলে চল্লিশ ইউরো জরিমানা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সেমিস্টার টিকেট থাকে, নির্দিষ্ট তারিখ পর্যন্ত ঐ টিকেট দিয়ে তারা বিনামূল্যে একটা নির্দিষ্ট গন্ডি পর্যন্ত ট্রাম, বাস ও আঞ্চলিক ট্রেনে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারে। কাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য এই টিকেটের গন্ডি কিছুটা ছোট, পক্ষান্তরে গোয়টিঙ্গেনের ছাত্ররা আরো বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ভ্রমণ করতে পারে।

সামনে বড়দিন, সে উপলক্ষে শহরের কেন্দ্রীয় চত্বরে মেলার আয়োজন হচ্ছে। নানা রকম কাঠের স্টল, বাচ্চাদের জন্য বিভিন্ন খেলার বন্দোবস্ত, খাবার আর গ্লুভাইন (গরম রঙিন ওয়াইন) এর দোকান, এই ধূসর আবহাওয়া স্টলগুলি দেখতে চরম বিশ্রী লাগে। দেখি, একদিন ক্যামেরা নিয়ে বের হবো ছবি তুলতে।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।