Thursday, November 22, 2007

প্রবাসে দৈবের বশে ০১৯

বাসর রাতেই বিড়াল মেরে দিলো জার্মান প্রফেসর। সাফল্যের সাথে ফেল করতে যাচ্ছি শক্তি অর্থনীতিতে। তবে সান্ত্বনা একটাই, আমি বোধহয় একা না, নায়ে আরো আদমহাওয়া আছে।

এই কয়েকটা দিন খুব দৌড়ের ওপর গেলো। আক্ষরিক অর্থেই দৌড়ের ওপর, কিছুতেই সামলাতে পারছিলাম না কাজকর্ম, এক খাবলা এখানে আরেক খাবলা ওখানে, এমন করে কাজকর্ম শেষ করতে হচ্ছিলো। শেষ মিনিটে বেরোই ছুটতে ছুটতে, বাসে ঢুকি ধূমকেতুর মতো। আজকে রাতে বাসায় ফেরার পথে রাজারহাটে (কোয়নিগসপ্লাৎস আর কি) রীতিমতো বেন জনসনের মতো দৌড় দিতে হয়েছে বাস ধরার মতো।

গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো ছিলো এক সেমিনার, সেখানে নতুন আইডিয়া নিয়ে উপস্থাপন দিতে হবে সুইৎজারল্যান্ডের কিছু লোকজনের সামনে। আমার কথ্য জার্মান বেশ ভচকে গেছে, এই কয়দিন তাই একটু প্রেজেন্টেশন নিয়ে চর্চা করতে হয়েছে, শেষমেশ কোন গোলযোগ ছাড়াই উতরে গেছি। গোদ হচ্ছে পরীক্ষা, একটা না, দুইটা, তার একটায় বেশ ভালোমতো পার পেয়ে গেলেও আরেকটায় সমন্বিত বাঘ আর অপরিণত ঘুড়ার যৌথ খোরাকিই খেতে হলো।

বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে কিছু ব্যক্তিগত কাজ ছিলো, সেগুলো নিয়ে এখনও বসতে পারিনি, মনে হয় না আগামী হপ্তার আগে কিছু করতে পারবো। জার্মানরা মোটামুটি খোঁজখবর রাখে দুনিয়ার, গত কয়েকদিনে অনেকেই যেচে পড়ে বাংলাদেশের খোঁজ নিয়ে গেছে আমার কাছে।

ওদিকে সর্বাঙ্গে পোড়া আর কাটা দাগ। ডান বাম দুই হাতেই ইলেকট্রিক তন্দুরের চুম্বনচিহ্ন, সেদিন পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে আঙুলটাকেও বেশ কুচিয়ে ফেলেছি, হাতে ব্যান্ডেইড নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে। সকালে পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেখি সহপাঠিনী একজন বাম হাতে বিরাট ব্যান্ডেজ নিয়ে হাজির। তাকে আমার ক্ষুদে ব্যান্ডেইড দেখিয়ে বললাম, একদা ছিলো না জুতা চরণ যুগলে। বেটি বোঝে না। বাংলা জ্ঞানের অভাবে যে এরা কত কিছু থেকে বঞ্চিত, মাঝে মাঝে ভাবি।

তবে পরীক্ষার আগে অযাচিত সহযোগিতাও পেয়েছি বিস্তর। সহপাঠী ইউলি এক দারুণ ৎসুজামেনফাসুং (সারমর্ম) পাঠিয়ে দিয়েছে চরম খাইষ্টা এক লেকচারগুচ্ছের, ওটা না পেলে নির্মাণ ব্যবস্থাপনাতেও ফেলটুস মারতাম। আমার সহপাঠী ভাগ্য বেশ ভালো, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুবার সহপাঠীরা মেঘ না চাইতেই জল ঢেলে দিয়েছে অনেক কিছুতে। ইউলিকে আজকে বিশদ ধন্যবাদ জানিয়ে দিয়ে এসেছি।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।