Monday, November 12, 2007

প্রবাসে দৈবের বশে ০১৭

বিকট, বিশ্রীভাবে শুরু হচ্ছে শীত। পাল্টি খেয়ে কমছে তাপমাত্রা, সাথে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির সাথে ঝোড়ো বাতাস। এ-ই ঠেলে বেরোচ্ছি হুড়োহুড়ি করে।

বাংলাদেশের শীতকাল আমার খুবই প্রিয় সময়, আলমারি থেকে লেপ নামিয়ে গুটিসুটি হয়ে লেপের নিচে শুয়ে মুড়িচানাচুর খেতে খেতে বই পড়া, কিংবা ভোরবেলায় কুয়াশার চাদরের ভেতর থেকে সূর্যের ছটা দেখতে দেখতে গরম রুটি দিয়ে গরুর মাংস খাওয়া, ভাবলে গলা ছেড়ে কানতে ইচ্ছা করে। হায়, এ কেমন বদসুরত শীতকাল কাটাচ্ছি আমি?

ক্লাস হচ্ছে একেবারে ইয়ে খুলে। এক একটা ক্লাস শেষ হবার পর ইচ্ছা করে বেঞ্চে শুয়ে একটা ঘুম দেই, কোন এক সহপাঠিনীকে জাবড়ে ধরে। কিন্তু এক ক্লাস শেষ হতে না হতেই পড়িমড়ি করে আরেকটার পেছনে ছুটতে হয়। হল্যান্ডিশার প্লাৎস থেকে ইংশুলে কুড়ি মিনিটের পথ ট্রামে, প্রায়ই হাঁপাতে হাঁপাতে এক এক ক্লাসে ঢুকে মাপ চাই। তবে ভালো লাগে আমার পরে কাউকে ঢুকতে দেখলে, মনে পড়ে যায় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বন্ধু বগার কথা, যে আমার পরে এসে আমার দেরিতে ক্লাসে ঢোকার দুঃখ ভুলিয়ে দিতো।

সেদিন বাসে চলতে চলতে হঠাৎ দেখি দুই বুড়ির মধ্যে তুলকালাম ঝগড়া। একজন সীটের ওপরে চড়ে তারস্বরে চেঁচাচ্ছে, উঁহু, এভাবে অপমান করতে দোবো না, বুড়ি বালতি কোথাকার! আরেকজন ঘোঁৎঘোঁৎ করে বলছে, যা ভাগ! ড্রাইভার দেখলাম বাস থামিয়ে এসে দু'জনকে ছাড়িয়ে নিয়ে বকা দিলো, আবার এমন করলে আপনাদের নামিয়ে দেবো! কে শোনে কার কথা, দুই বুড়ি আরো মিনিট দশেক চেঁচামেচি করলো। অন্য লোকজন দেখলাম রীতিমতো সিনেমা দেখার উৎসাহ নিয়ে দেখছে আর শুনছে, একজন তো চিপসের প্যাকেট খুলে ফেললো ঘটনা দেখার আগ্রহে।

শীতের শুরুটা ভালো যাচ্ছে না আমার। একটা ভালো কিছু ঘটা দরকার। মানে সেইরকম কিছু আর কি। দেখি কী হয়।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।