Saturday, October 20, 2007

বিকল্প বাজে ইতিহাসঃ কেন আলেকজান্ডার বাংলা জয় করতে পারলেন না?

১.

আলেকজান্ডার শতদ্রু নদীর তীরে ক্যাম্প ফেলে বসে বসে কবিতা লিখছিলেন,

এখানে নদীর পারে ক্যাম্প আমি ফেলিয়াছি
...

ইত্যাদি।

যেহেতু ইতিহাসের বিকল্প গল্প, তাই আলেকজান্ডারকে যদি এখনো শনাক্ত করতে না পেরে থাকেন তবে আপনি একটি নিরেট হাঁদা। আলেকজান্ডার ইবনে ফেলিপের গল্পই হচ্ছে এখানে।

রাজা পুরুর সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জিতে আলেকজান্ডারের মনটা ভালো। কচি দেখে কয়েকটা ছেলে যোগাড় করতে পাঠিয়েছেন কিছু সৈন্যকে। মতিয়াস নিজুমিয়াস নামে এক স্থানীয় দালাল তাঁকে এলাকার যাবতীয় ডাঁসা ছোকরা যোগাড় করে দেয়ার প্রতিজ্ঞা করেছে। তার জীবন নাকি তাতে ধন্য হয়ে যাবে। আলেকজান্ডার নিজুমিয়াস আর তার সাঙ্গোপাঙ্গোদের আচরণে স্তম্ভিত। কোন মানসম্মান জ্ঞান নেই এদের। সোজা এসে আলেকজান্ডারের কাছে নতজানু হয়ে যাচ্ছে। জলপাই দেখলেই এরা পোঁদ উঁচিয়ে দেয়।

সৈন্যরা সবাই আলেকজান্ডারের মতো খোকচোদ নয়, তারা এলাকার মেয়েদের হালহকিকত সম্পর্কে ডানে বামে খোঁজ নিচ্ছে। মতিয়াস নিজুমিয়াস তাদেরও যথাসাধ্য সহযোগিতা করছে।

আলেকজান্ডার অবশ্য এখানেই থামবেন না। বছরখানেক হলো তিনি পূর্ব দিকে এক পল্টন সৈন্য পাঠিয়েছেন রেকি করার জন্য। তিনি আরো পূর্বে যাবেন। সেখানে বিশাল পূর্ব সমুদ্রের তীরে এসে পৃথিবী শেষ হয়ে গেছে। সেই সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে কিছুদিন ফূর্তিফার্তা করে তিনি আবার মেসেডোনিয়ায় ফিরে যাবেন। মদ খাবেন আর ছোকরা পোন্দাবেন। ভারতবর্ষ ধরে যাবার সময় প্রতি ক্যাম্পে তিনি এই দুষ্কর্ম করতে করতে যাবেন। দেশে গিয়ে বলবেন, আমি সারা দুনিয়া পোন্দাইয়া আসিয়াছি। ভাবতেই আলেকজান্ডারের মনটা খুশি হয়ে ওঠে। আহ, আরেকটা কবিতা লেখা যাক।

সব পাখি ঘরে ফেরে, সব নদী ... ...

এমন সময় এক সৈন্য এসে স্যালুট করে বলে, "মহামতি আলেকজান্ডার, মেজর ভগ্নদূতিয়াস আপনার সাথে দেখা করতে চান।"

আলেকজান্ডার চোখ রাঙিয়ে বললেন, "স্যার কই? স্যার কই? কথার আগে পিছে স্যার বলতে হয় জানিস না?"

সৈন্য ঢোঁক গিলে বললো, "স্যার মহামতি আলেকজান্ডার, মেজর ভগ্নদূতিয়াস আপনার সাথে দেখা করতে চান স্যার!"

আলেকজান্ডার বললেন, "পাঠিয়ে দে। আবার এমন ভুল করলে এমন গুয়ামারার ব্যবস্থা করবো যে ...।"

সৈন্য পালায়।

মেজর ভগ্নদূতিয়াস বিবর্ণ মুখে এসে স্যালুট করে। "স্যার, মেজর ভগ্নদূতিয়াস স্যার!"

আলেকজান্ডার হর্ষোৎফুল্ল মুখে বলেন, "কী খবর ভগ্নদূতিয়াস? কেমন দেখলে পূর্ব দেশ?"

ভগ্নদূতিয়াস ভেঙে পড়ে একেবারে। "খুব বাজে অবস্থা স্যার! অর্ধেক রাস্তা মরুভূমি, বাকি অর্ধেক নদীনালাখালবিল। বহুকষ্টে সব পেরিয়ে পূর্বদেশে গিয়েছি দলবল নিয়ে, স্যার।"

আলেকজান্ডার বলেন, "তারপর?"

ভগ্নদূতিয়াস বলে, "সে এক দারুণ সুন্দর দেশ স্যার। শস্য, মিষ্টিপানি, সুন্দরী নারী, কোন কিছুরই অভাব নেই, স্যার!"

আলেকজান্ডার বলেন, "নারী দিয়ে আমি কী করবো?"

ভগ্নদূতিয়াস বলে, "কিন্তু সে দেশের লোকজন অতি বিপদজনক স্যার!"

আলেকজান্ডার একটা গ্লাডিয়াস কোষ থেকে বার করে বলেন, "বিপদজনক লোকই তো প্যাঁদানোর জন্য ভালো। সবাই এই মতিয়াস নিজুমিয়াসের মতো বিশ্বাসঘাতক শুয়ার হলে লড়াই করে কী লাভ?"

ভগ্নদূতিয়াস বলে, "না স্যার! সে দেশের লোকজন সবাই একজন আরেকজনের পেছনে আঙুল দেয়! বাজারে দোকানদার খদ্দেরের পেছনে, খদ্দের পথচারীর পেছনে, এ ওর পেছনে, ও এর পেছনে, সবসময় একটা আঙুল ঢুকিয়েই রাখে স্যার!"

আলেকজান্ডার বললেন, "বলো কী? চমৎকার! তারপর?"

ভগ্নদূতিয়াস বললো, "আমরা যেতে না যেতেই তারা কিচিরমিচির করে কী যেন বললো, তারপর আঙুল উঁচিয়ে তেড়ে এলো আমাদের দিকে স্যার!"

আলেকজান্ডার বললেন, "অতি উত্তম! কালই আমরা শতদ্রু পার হবো সবাই। শিঙায় ফুঁ লাগাও।"

ভগ্নদূতিয়াস বললো, "না স্যার, ঐ খাচ্চরদের দেশে আমরা যাবো না স্যার। জান যায় তাও ভালো, কিন্তু কেউ পোঁদে আঙুল দিবে তা মেনে নেয়া যায় না স্যার!"

আলেকজান্ডার খেপে গিয়ে বললেন, "তোমার তো সাহস কম না, আমার মুখের ওপর কথা!"

এমন সময় বাহিরে কী যেন একটা শোরগোল শোনা গেলো। আলেকজান্ডার তাঁবুর পর্দা উঁচিয়ে বাইরে দেখলেন, মিছিল হচ্ছে। তাঁর সৈন্যরা স্লোগান দিচ্ছেন, শতদ্রু পার হবো না, পোঙ্গামারা খাবো না!

আলেকজান্ডার ফ্যাকাসে মুখে ধরা গলায় বললেন, "এ কেমন কথা? আমার পূর্ব সমুদ্র দেখার সাধ কি তাহলে অপূর্ণ থেকে যাবে?"

সেলুকাস নিকাটর এমন সময় এসে হাজির হলো।

আলেকজান্ডার বললেন, "সেলুকাস, এ কী হচ্ছে? আমার সৈন্যরা এমন করছে কেন?"

সেলুকাস একটা পেয়ারা চিবাতে চিবাতে বললেন, "স্যার, হয়েছে কি, পূর্ব দেশের লোকজনের পেছনে আঙুল দেয়ার খবর একেবারে দাবানলের মতো ছড়িয়ে গেছে। আমাদের সৈন্যরা স্যার, ভদ্রলোক। এসব আজেবাজে জিনিস তাদের সহ্য হবে না। তাছাড়া সেই ফিনিশিয়া থেকে শুরু করে ব্যাকট্রিয়া পর্যন্ত পদে পদে বহু ঝুটঝামেলা গেছে স্যার কপালের ওপর দিয়ে। আমার নিজেরই তো স্যার অর্শ হয়ে গেলো ঘোড়ায় চড়ে চড়ে! এখন যদি সামান্য সমুদ্র বিলাসের জন্য এই বিদঘুটে বড়বড় নদী খাল বিল পার হয়ে পেছনে আঙুল পেতে হয়, তাহলে কি পোষায় স্যার?"

আলেকজান্ডার কেঁদে ফেললেন, "সেলুকাস! সত্যি কী বিচিত্র এ দেশ! আর কী চুৎমারানি তোমরা! এভাবে আমার সাথে বেঈমানি করলে? আমি খেলবো না!"

সেলুকাস আলেকজান্ডারকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, "কাঁদবেন না স্যার, কাঁদবেন না। চলেন, হাতমুখ ধুয়ে দুইটা রুটি খাবেন মদ দিয়ে। মতিয়াস নিজুমিয়া, স্যারের জিনিস যোগাড় হয়েছে?"

মতিয়াস নিজুমিয়াস ফুল্লমুখে এসে বললো, "আইসতিছে!"

আলেকজান্ডার চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন, "ঐ তাঁবু তোল! বাসায় যামুগা। এইখানে আর থাকুম না!"

২.

এভাবেই বাঙালি মেসিডোনোপারসোইন্দো বাহিনীর আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পায়।

[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।