Wednesday, October 31, 2007

প্রবাসে দৈবের বশে ০১৪

শীত বেশ জেঁকে পড়তে শুরু করেছে। গলাবন্ধ সোয়েটারের বদলে পশমী জ্যাকেট পরা শুরু করেছি, আর মাথায় টুপি। আশেপাশে লোকজন কেউ গেঞ্জি গায়ে, কেউ পাতলা একটা জ্যাকেট গায়ে ঘুরঘুর করে, আমি হি হি করে কাঁপি আর গালি দেই। শুধু ঠান্ডা হলে কথা ছিলো না, এখানে রীতিমতো দমকা বাতাস চালায় যখনতখন।

লম্বু স্যামুয়েল অজনাব্রুয়ক থেকে ফিরেছে। এই ছোকরা খালি এক টুকরা রুটির ওপর মাখন মাখিয়ে এক চিলতে সালামি রেখে খেয়ে কিভাবে সোয়া ছয়ফুট লম্বা হলো ওর বাপ মা-ই জানে। আমার রান্নার বহর দেখে সে নতুন করে বিস্মিত। মাঝে কয়েকদিন দৌড়ের ওপর ছিলাম, স্যামুয়েলের কায়দায় রুটি-সালামি চালাতে হয়েছিলো কয়েকদিন, তা দেখে স্যামুয়েলের ধড়ে প্রাণ ফিরে এসেছিলো আর কি, যাক, এই বিদঘুটে লোকটা সশব্দে সন্ত্রাসী রান্নাবান্না বাদ দিয়ে লাইনে এসেছে। সেদিন আমাকে ফরাসী আলুভাজা করতে দেখে সে একেবারে ঘাবড়ে গেলো, মিউজিয়ামে গিয়ে লোকে যেভাবে পয়সা খরচ করে উত্তরাধুনিক শিল্পকর্ম দেখে সেরকম চোখমুখের ভাবভঙ্গি তার। আমার কাটা আলুর টুকরো দেখেই সে ঘায়েল। শুধু আলু আর তেলের সাহায্যেই আমি এমন শব্দ করে রান্না করছি দেখে সে আবারও আহত। আজকে আমাকে ছুরি দিয়ে মুরগির রান খোঁচাতে দেখে সে রীতিমতো জান নিয়ে ভেগেছে নিজের ঘরে। বেচারা। ওকে একদিন খিচুড়ি আর ডিমভাজা খাইয়ে মানুষ করতে হবে। সুমন চৌধুরীর কানাডিয়ান প্রতিবেশী ভিনসেন্ট তো আমাদের রান্না করতে দেখলেই একটা চামচ নিয়ে দৌড়ে আসে। ভেড়ার মাংস ভুনা আর তন্দুর রুটি খেয়ে সে কাত। সেদিন গিয়ে দেখি পাঁচ কেজি বাসমতী চাল কিনে বসে আছে ছোকরা।

মুষলধারে ক্লাস চলছে এদিকে। আজকে প্রফেসর য়ুর্গেন শ্মিড এর দেখা পেলাম, চমৎকার একটা ক্লাস নিলেন গ্যাসের গতিতত্ত্বের ওপরে। ভদ্রলোকের অনেক বয়স, কিন্তু সাংঘাতিক স্ট্যামিনা, সারাক্ষণই হিল্লিদিল্লি করে বেড়াচ্ছেন। তাঁর অধীনে পিএইচডি করছে একরাশ লোকজন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রও বেশ বিচিত্র। শেষ যা শুনলাম তা হচ্ছে মাইক্রোমিরর নিয়ে, পরে এ নিয়ে বকাবাজি করবো এক দফা।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।