Saturday, October 27, 2007

প্রবাসে দৈবের বশে ০১৩

জার্মানরা দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে আসছে কবে থেকে জানিনা, কিন্তু তাদের দক্ষতার নজিরগুলি খুবই স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে চোখে। এখানে একটা লোক যতটুকু কাজ করে, আমাদের দেশে তা করতে কয়েকজন লোক লাগবে। বিভিন্ন জায়গায় মেরামতের কাজে দেখেছি দৈত্যাকার কোন লোক একাই দরজার স্টীলের ফ্রেম তুলে নিয়ে আসছে সিঁড়ি বেয়ে, যেটা হয়তো বাংলাদেশে করতে গেলে দু'জন মানুষ লাগবে। তবে শারীরিক শক্তির ব্যাপারটাকে হিসাব থেকে বের করে আনলেও কথাটা খাটে। অন্যান্য কাজ এখানে এমনভাবে সাজানো যে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপারটা করে ফেলা সম্ভব। কাগজপত্রের কাজগুলি এরা খুব দ্রুত করে ফেলতে পারে (সবসময় করে তা বলছি না)। বীমা, ফোন, পাস ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম ব্যাটাদের কান্ডবান্ড। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন পড়ে অহরহ, হয়তো কেউ একটা টেবিল বিক্রি করে দিতে চায়, তার নিখুঁত মাপ, ওজন, সব একেবারে সেন্টিমিটার গ্রাম ধরে দেয়া থাকে, যাদের পোষায় তারা একটা রঙিন ছবির প্রিন্টআউট দিয়ে রাখে বিজ্ঞাপনের সাথে। কাঠের বেঞ্চিগুলি ন্যূনতম কাঠ দিয়ে বানানো, কিন্তু প্রচন্ড মজবুত। প্রত্যেকটা জায়গায় এরা স্বল্পতম খরচে সবচেয়ে টেকসই জিনিসটা বানানোর চেষ্টা করে। বাড়িঘরের মেরামতের মাধ্যমে শক্তির অপচয় রোধ নিয়ে একটা কোর্স করছি এবার, সেটা নিয়ে বিস্তারিত একটা পোস্ট দিবো পরে, জার্মানদের আইন ও রাজনীতির সাথে প্রযুক্তির আশ্চর্য যথোচিত সুসম্পর্ক নিয়ে।

জার্মান কীবোর্ড কিনতে হয়েছে কিছুদিন আগে। এই কীবোর্ডে চারটা বাড়তি জার্মান হরফ যোগ হয়েছে, তার সাথে যোগ হয়েছে ডিগ্রী ( ° ), ‌রেফারেন্স ( § ), মাইক্রো ( µ ) আর ইউরো (€)। রোজকার লেখালেখিতে এই চিহ্নগুলির ব্যবহার দেখলেও জার্মানদের মানানুগতার ব্যাপারটা আঁচ করা যায়। এরা ক্লাস নোট তোলে গ্রাফ প্যাডে, যাতে সহজে বিভিন্ন ফিগার আঁকা যায়।

তবে অঙ্কের ব্যাপারে দেখলাম আমার সহপাঠীদের অনেকেই একটু হিমসিম খায়। আমাদের দেশে গণিত যথেষ্ঠ তীব্রভাবে চর্চা করানো হয় উচ্চ মাধ্যমিকেই। যে হিসাবগুলি আমরা ক্যালকুলাস দিয়ে দুই লাইনে করে ফেলে অভ্যস্ত, সেগুলি এখানে ধীরে ধীরে রয়েসয়ে করানো হয় দেখলাম। প্রফেসর একটু নরমসরম হলে ছাত্ররা থিওরির পর গাণিতিক সমস্যার (উয়বুং) ক্লাস করার জন্য গোঁ ধরে। জলবিদ্যুতের ক্লাসে প্রফেসর থিওবাল্ড চার পাঁচটা ফর্মুলা দেখানোর পরই একটা পিনপিন আওয়াজ শুরু হলো, থিওবাল্ড চোখ পাকিয়ে বললেন, ঠিকাছে আমরা নাহয় উয়বুং করবো কিছু, হলো তো?


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।